সঙ্গীত-সন্ধ্যা
_____________
রাগ -রাগিনী পরিশুদ্ধ , কন্ঠ মাধুর্যে সুললিত সঙ্গীতের দিব্য রূপ ছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় । তাঁর সমগোত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী , সঙ্গীতজগতে দুর্লভ ।
অসীম কালের মহাকন্দরে
সতত বিশ্ব নির্ঝর ঝরে
ঝর্ঝরসঙ্গীতে,
স্বর-তরঙ্গ যত গ্রহতারা
ছুটিছে শূণ্যে উদ্দেশহারা –
সেথা হতে টানি লব গীতধারা
ছোট এই বাঁশরীতে।।" রবীন্দ্রনাথ।
বিশ্বসৃষ্টির মূলে আছে সঙ্গীত। বিশ্বব্রহ্মান্ডের ছন্দিত গতির সঙ্গে আছে সঙ্গীত। এই সঙ্গীতের সাধনা করেন যাঁরা , তাঁরা প্রকৃত অর্থেই সাধক। তাঁদের সাধনা অন্বেষণ । অন্বেষণ সুরের । এই সাধন জগতের
একটি একান্ত ,পার্থিব লোভ-মোহ মুক্ত, অনন্যসাধারণ সাধিকা. ছিলেন সদ্যপ্ৰয়াত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ।
গোমুখনিঃসৃতা গঙ্গার আমি
কুলুকুলু ধ্বনি শুনি নাই ,
কোথা বৃন্দাবন, কোথা শ্যামরায় !
বাঁশরীর ধ্বনি কোথা পাই ?
ইন্দ্রসভায় বেহুলা চরণে
অমর নূপুরনিক্কণ ,
বাসর-গামিনী রুক্মিণী - তাঁর
দিব্যাভরণ শিঞ্জন ।
না দেখেছি চোখে, না শুনেছি কানে
সকলি কল্প জগতের ।
স্বর্গের সেই সুর-তান সুধা
অধরাই ছিল মর্ত্যের ।
তুমি এলে , ওই ইন্দ্রধনুর
সাত রাগ দিলে ছড়ায়ে ,
কলগান আর কলতানে দিলে
নিখিল হৃদয় ভরায়ে ।
কন্ঠে তোমার কুহুতান শুনে
কোকিল পেয়েছে লাজ ,
'পিউ কাঁহা' শুনে বনপাপিয়ার
তন্দ্রা টুটেছে আজ ।
ত্বর সইত না সন্ধ্যা তারার -
সন্ধ্যা না হোতেই উঠতো ,
গোধূলির আলো শেষ না হোতেই
সন্ধ্যামণিরা ফুটতো ।
তুমি তা জানো না, চির-উদাসীন
সুরসাধনায় মগ্ন ,
তোমার সুরের মায়াজালে ধরা
বাংলার শুভ লগ্ন ।
তোমার গানের সাত সুর দিয়ে
কত যে আসর রচনা ,
"কোথায় শুরু কোথায় বা শেষ" --
রয়ে গেল আজও অজানা ।।
স্মর্তব্য :
১। মনসামঙ্গল কাব্যে লখীন্দরের পুনর্জীবন প্রার্থনায় দেবরাজের শর্ত পূরণের জন্য দেবরাজের রাজসভায় দেবতাদের চিত্তজয়ী নৃত্য প্রদর্শণ করেছিলেন বেহুলা ।
২। শ্রীকৃষ্ণজায়া রুক্মিণী , এমন দিব্য অলঙ্কার লাভ করেছিলেন যার ধ্বনি কৃষ্ণকেও মুগ্ধ করেছিল ।
৩। "ও মন কোথায় শুরু কোথায় যে শেষ কে জানে", এই গানটি 'কমললতা' ছবিতে শ্যামল মিত্র ও সন্ধ্যা যুগলে গেয়েছিলেন ।
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ,
১৬-০২-২০২
ব্যাঙ্গালোর ।
______________________________________________
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন