সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

তমসো মা জ্যোতির্গময়ো

জীবনে যা ছিল সে তো আজ নাই, 
যাও বা রয়েছে হারাই হারাই, 
তবু কেন চাই সোনার হরিণ 
অন্ধ আবেগে ছুটি ? 

যত হারাধন উল্কার মতো, 
বিস্মৃত স্মৃতির আগুনে নিয়ত
জ্বালিয়ে বক্ষ মিলায় শূণ্যে – 
শিথিল বজ্রমুঠি। 

ধরা অধরার মাঝখান দিয়ে
কত চাওয়া পাওয়া গেল যে হারিয়ে। 
মরীচিকা দীপ নিভিয়ে নিভিয়ে 
মরুঝড় বুকে নাচে। 

ধন-জন-মান-যশ, বৈভব, 
চিত্ত সুখের বৃথা গৌরব, 
ঝরা কুসুমের ক্ষণসৌরভ 
এই মরে এই বাঁচে। 

মিথ্যা এ ঘোর আমার আমার, 
মিথ্যা এ মায়া ছায়া সংসার, 
ব্যর্থ প্রয়াস শব সাধনার 
অমৃত লাভের আশায়। 

কাল নদীতীরে পেতেছি আসন, 
ঝুলিতে ভরেছি মণি কাঞ্চন, 
প্রলয় বন্যা দেখেও দেখিনা, 
যযাতির কামনায়। 

চোখের নিমেষে সবই যাবে ভেসে – 
নিঠুরা নিয়তি ওই ওঠে হেসে, 
বিরহ মিলন চিতার আগুনে  
যায় পুড়ে , থাকে ছাই। 

কোথা  আজ তুমি মানব দেবতা, 
গ্লানির নরকে কাঁদে মানবতা, 
'চেতনা হউক' কর গো ঘোষণা 
আঁধারে আলোক পাই। 

প্রভাত সূর্য আলো বন্যায় 
নিশার কালিমা মুছে দিয়ে যায়, 
অতল জলধি, অসীম আকাশ 
অনন্ত গ্রহ তারা, 

তবু প্রাণ কেন মরু পিপাসায়, 
কাঁদে অহরহ, বলে, নাই নাই, 
লালসা আগুণে পুড়ে হোল ছাই
শ্যামল বসুন্ধরা, 

০৩/০৩/২০২২ 
ব্যাঙ্গালোর। 
______________________________________

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...