পদ্ম বনের উপকথা
___________________
(গদ্য ও পদ্যে বা গদ্য-পদ্য মিলিয়ে লেখা চম্পু বা চম্পূ সাহিত্যে এক সময় খুব কদর ছিল। স়ংস্কৃত সাহিত্যের একটি বিশেষ অঙ্গ ছিল এই চম্পু । সরস, প্রধানতঃ শৃঙ্গার রসের প্রাধান্যই ছিল বেশি । রাজসভায় রাজা ও অমাত্যদের মনোরঞ্জনের জন্য স্বভাবকবিরা তাৎক্ষণিকভাবে চম্পু রচনা করতেন । সাহিত্যের সর্বকালের উৎকৃষ্ট রচনা ও তার উদাহরণ আপনাদের কাছে নিবেদন করার ব্রত-পালনের দায় নিয়েছি । সব বয়সের পাঠকদের কথা ভেবে মার্জিত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, আর যতিচিহ্ন পূরাতন বাঙলায় ব্যাবহৃত হোত না, শুধু '। ও ।।' ছাড়া । পড়ুন, ভাবুন , পড়ান)।
শরৎ সকাল, ঊষার কিরণ,
গোপবালাদের নিলাজ ধরণ,
খুলে আবরণ নেমেছে পদ্মসায়রে।
কৃষ্ণ ভ্রমর ওড়ে আর ভাবে,
কিই বা চাইবে, কার কাছে যাবে,
ফুলমধু নাকি মনমধু, দিশাহীন হল তাইরে ।।
বেলা বাড়তেই এলো মৌলোভী সব মৌমাছি, কড়া সুরে নয়, চড়া সুরেও নয়, গান ধরলো কোমলে কড়িতে মিলিয়ে।
ওগো ফুলপরি, রূপ দেখে মরি,
গুণ তো ডুবানো জলে ।
নাই সৌরভ, মুখের গরব
কারে দেখানোর ছলে ?
বৃন্দা, বিশাখা – মোটা মোটা ফোটা ফুল। রেগে হলো যেন তরুন অরুনের অরুনিমা। বলে তারা,
জলতরঙ্গে আছে ঢাকা গুণ ।
বাতাসের কানে গেয়ে গুণ্ গুণ্
গুণের হদিশ পাবে ?
গুণ পেতে হলে নেমে এসো জলে -
দাও ডুব মিলে সবে ।
ফুটি ফুটি রাইকমল ভাবলে, সত্যিই যদি এসে যায়
তারা ? শরম শিশিরের ভারে আনত-আনন ঝুঁকে পড়ল আরো, যেন ডুবে মরতে পারলে বাঁচে । কিন্তু ,
হঠাৎ রঙের ঝলকানি দেখে
সবে হোল আনমনা,
প্রজাপতিদল যেন অবিকল
স্বর্গে সুরাঙ্গনা ।
গায় তারা গীতি , নাচে প্রজাপতি ,
সায়রের ঢেউ দুলে'–
কৃষ্ণ ভ্রমর গোপনে তা দেখে
কদম্ম ফুলে ঢলে' ।
বড়ো সাধ জাগে মদনমোহন
সেরূপ মাধুরী দেখি,
আমি রব আর তুমি রবে হরি
হৃদয়ে কুসুম সখী ।।
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
৩১/০১/২০২২
______________________________________________
Emon kabboi bhalo ...eito koto misti modhur katha ... khub khub khub khub khub khub khub sundor
উত্তরমুছুন