সোমবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২২

টুক টুকি

 বেশ কিছু দিন হোল সাহিত্য ভাবনার অনেক ভারী ভারী ভাব নিয়ে ভাবছি আর লিখছি। সেদিন , তা প্রায় বছর দশেক পর , শীতের সকালে ,শীর্ণস্রোত অজয় নদী পেরিয়ে , মাইল পাঁচেক জঙ্গলাকীর্ণ ঝাড়খণ্ডের ডাঙা-ডহর ডিঙিয়ে আমার গাঁয়ে গিয়ে উঠলুম। অবস্থা সেই একই , যথা পূর্বং তথা পরং। সেই হাল-নাঙ্গল ,গরু-বাছুর , কাড়া-মোষ-ভেড়া-ছাগল। পুকুরপাড়ে বাঁশঝাড়. আর টল টল জলে শ্যাওল-শাপলা,আর পাল পাল হাঁস। গ্রামের গলিতে ঢুকতেই চন্ডীমন্ডপের বিশাল আঙিনায় এক দল কচি কাঁচা।সকালের রোদে গা ভিজিয়ে নানান বিচিত্র খেলায় কলকাকলিমুখর। তাদের 'দেখে দেখে আঁখি না ফিরে ।'

মনে হোল , এদের জন্য লিখেছি যা, লিখবো যা সেগুলি  প্রকাশ করি , আর পাঠাই আমার পাঠকদের  কাছে। যিশুর জন্মদিনে সান্তা তাদের কতো উপহার দিয়েছে । আমি আমার ঝোলায় যাকিছু আছে , যাকিছু আসবে এক পক্ষকাল ধরে সেগুলি পাঠাতে থাকবো ।
বড়রা পড়ুন, ছোটদের পড়াতে থাকুন। "নব আনন্দে জাগো নব রবিকিরণে।" 


লোকে বলে 
-----------------------

শালুক ফোটে রাতের বেলায়  
পদ্ম ফোটে দিনে, 
কোনটি পদ্ম, কোনটি শালুক  
দাদুই ভালো চিনে । 

দাদু নাতির দ্বন্দ্ব  
---------------------



"ল্যাজ খসেছে , ব্যাঙ হয়েছো  
লাফিয়ে উঠছো মাথায় , 
মনে রেখো কীর্তি তোমার  
রইল লেখা খাতায় । 

বড়ো হয়ে যেদিন তুমি  
বিচার করবে আমার,  
নিজের নজির দেখে নিও  
উল্টে পাতা খাতার । 

মাথায় উঠে আমার টাকে  
আঁকছো কী আজগুবি ? "
"আঁকছি তোমার টাকের পটে  
শালুক পরীর ছবি ।"

দাদু বলে,  "জানি আমি ,
মনে কী তোর আছে , 
সকাল হোলেই যাবি চলে  
পদ্ম পরীর কাছে ।" 


নাতি বলে, "দোহাই দাদু , 😖
চুপটি  করে থাকো , 
এবার থেকে তোমার টাকে 
কিচ্ছু আঁকবো নাকো।" 

হিমেল সকাল ; দাদু নাতির  
দ্বন্দ্ব  গেলো মিটে , 
ঠাম্মা আনে থালায় ভরা  
পৌষ পাবনের  পিঠে । 

(এই চড়াটির ইংরেজি অনুবাদও করেছি , আগামীকাল প্রকাশ করব। 
English version of this rhyme will be published and posted tomorrow.) 

13-01- 2022
Bangalore 


English version of the rhyme of Dadu Natir dwnda (দাদু নাতির দ্বন্দ্ব ) 

Grandpa and Grand son 
      in a fit of pique. 
--------------------------- 


"You have become a frog 🐸 of whimsy 
All of a sudden , my grandson -- 
Meek tadpole,  as off your tail gone, 
And are doing mischiefs on poor me, 
Solely vexing ; but keep in mind , 
Those all are, in my diary written. 

When you are of age, and a judge 
And '😂 put me behind the bar , 
Shouldn't forget to read 📖 once more  
The manuscripts I've left in my locker .   

You are leaping up to my head - bald 
And drawing what grotesque things ?"
"A picture of the Lily Fairy, what charming!"  
Says the lad, in his sleeve simpering . 

"You, mischievous Imp ! I fully understand , 
You know, I can go through your naughty mind . 
Tomorrow you surely 'll go to see lotus 'Elfa' 
To propose and beg her sweet petal hand🖐, Ha..Ha ! 

17-01-'22 
Bangalore 

--------------------------------------=----------------------------


ল্
     দাদুর গল্প সত্যি কি মা ?
                  👩
____________________________

টুনটুনির এক ছানা 
শুনলো না সে মানা, 
প্রথম ওড়ার নেশায় তাকে পেয়েছিল এমন।

বাসার থেকে দূরে, 
যেই না গেল উড়ে, 
আনাড়ি তার পাখনা দুটি জোর পেলনা তেমন। 

টাল মাটাল খেয়ে, 
বসে পড়ল গিয়ে,
লম্বা একটি হোগলা গাছের মাথায় ।

কার পদাঘাত হঠাৎ! 
গাছ তো কুপোকাৎ, 
মাটির উপর পড়ল‌ শুয়ে বড়ই অসহায় । 

ফিরে মায়ের কোলে‌  
সে গর্ব করে' বলে  
"নুয়ে পড়ল বনস্পতি আমার এ-ত্তো ভার !"

বলে মা টুনটুনি,
"সেতো আমিই জানি 
সোনার আমার গতর দেখে ঘুরেছে ‌ মাথা তার !"  

১৩/০১/২০২২
ব্যাঙ্গালোর।
___________________________________________



আজ দুটি ছড়া : 


              ঝি 
-------------------------


রাজার  বাড়ির  ঝি 
রান্না  করিস কি ? 
শুকতানিতে  মাছের  মুড়ো ,
আমড়া  ভাতে  ঘি ? 

এমন  রান্না  মুখে  দিয়ে 
রাজা বল্লে,  ছিঃ ! 
ঝি  বলে , "ঝাঁট দে'বো গোয়াল , 
রান্না  করবো নি ।"



          ভুতুড়ে কান্ড 
---------------------------


পুকুরের পাড়ে যত তালগাছ , 
সকালে বিকালে হয়ে যায় মাছ  
                     পাড় থেকে ডুবে জলে । 
খুকু বলেছিলো ,"আমি তো জানিনা ।" 
খোকা ভাবছিলো হতে পারে কি না -- 
                             দাদু ইশারায় বলে , 
"ঘুমিয়ে পড়গে ঘরেতে যে যার , 
দিনেই বলবো তাঁদের ব্যাপার --
                  রাতে তেনাদের ভোজ । 
রাত পোহালেই তালগাছ ছেড়ে  
ছায়া ছায়া হয়ে জলে গিয়ে পড়ে  
                          মাছ হয়ে যায় রোজ ।"  


      ০৪-০১-২০২২      

                            বোকা মা 
___________________________________
                           

ছোট ছেলেগুলো‌
গায়ে মাখে ধূলো,
জলে ভিজে খালি গা। 

কানে ধরে ছা-য়ে 
আঁচলে মুছায়ে –
নিজে কাঁদে বোকা মা ।

কোলে ঢলে ঢলে ,
মা'র দুটি গালে 
হাত দেয় শিশু যখনি,

যেন দীঘি জলে
শালুকের ফুলে -
চাঁদ আলো ফেলে তখনি ।

স্নেহ সুষমার ,
হাসি কান্নার,
এ লীলা কোথাও নাই গো,‌

তাই এতো প্রাণ, 
মিলনের গান –
বিরহে বেদনা পাই গো। 

__________________________________________

০৪-০১-২০২২ 
_______________

             মনে পড়ে 
_____________________

 কালো ওঁচা কাক ঘরের ছাঁচায় 
                 কা-কা ডাকে ভোরবেলা ।
ছয় ছেলে পিলে গুড় মুড়ি ফেলে' 
                      আঙিনায় করে খেলা । 

কুকুর ভোলাটা তুলসীতলায়  
                  ঘুমায়ে রয়েছে বেঘোরে ,  
বুড়ি ঠাকুমাটা দাওয়ার কোণায়  ঔষধ ঔ
                 বসেই রয়েছে চুপ কোরে। 
 
বড়রা গিয়েছে কোন্  মাঠে বাটে ,  
                             মায়েরা রান্না ঘরে , 
অমল কমল পাঠশালা যায় 
                           বই খাতা বুকে ধরে'।
  
ছাগলের ছানা নাচন দেখায় , 
                            কয়লা বাছুর দে'খে । 
পায়রার পাল কোথা যায় ভেসে 
                         আকাশের রোদ মেখে। 

খিড়কি পুকুরে চান সেরে পিসী  
                          চিৎকারে ঘর কাঁপালো  --
সবাকার  আগে দাঁড়কাকগুলো  
                            দুদ্দাড় উড়ে পালালো । 

_____________________________________
 
 ০৫- ০১- ২০২২ 

—-------------------


                 

                             ভুত পরিবার 

                      —-------------------------


 

জীবনপুরের মোড়ে,  

ভুত বুড়ো আর পেত্নি বুড়ি ঘর বেঁধেছে জোড়ে । 

পেত্নি বুড়ির জন্মদিনে কান্ড হোল ভিন্ন , 

গাঁয়ের যত দামাল ছেলের ছিল নেমতন্ন । 


নুড়ি পাথর গুঁড়ি করে দিয়েছিল মুড়ি , 

কুমির দাঁতের ছিঁড়ে কুটে এনেছিল বুড়ি । 

ঘুঁটের কেক কাটা হোল হাজার দশ বারো  

পেত্নি বলে, “খাও হে ছেলে, যে যতটা পারো। 

তাই না দেখে ছেলেগুলো ক্ষেপে গেল এমন , 

ভুতের ঘরই ভেঙে দিল ভুতের ছেলের মতন । 


সেদিন থেকে ভুত পেত্নি গেল দেশান্তরে , 

ছেলে পুলে বেজায় খুশি জীবনপুরের ঘরে । 


—----------------------------------------------------------

শৈশব লীলা ।

______________


ছোট ছোট হাতে, ছোট ছোট পায়ে ,

সারা সংসার ছড়ায়ে ছিটায়ে,

নগ্ন দেহের উচ্ছ্বাস নিয়ে

পাষাণের বুকে প্রাণের বন্যা বহিয়া এনেছ ভাই।


সদা চঞ্চল চোখের ভাষায়,

দন্তবিহীন মুখের হাসায়,

সবার বুকের সব ভালোবাসা

লুণ্ঠণ করে নিঃস্ব করেছ, জীবন জুড়ালো হায়।


অর্ধস্ফুট কথাগুলি সব,

মানে নাই তার,তবু অভিনব–

স্বর তরঙ্গে আনে উৎসব।  

হৃদয় আবেগে ধোয়াই তোমায়, দেখাই বিশ্বলোকে। 

আনন্দমূর্তি আমার প্রাণের, বিষাদে, দুঃখ-শোকে।। 


___________________________________________


—----------------------------------------------------------



০৬-০১-২০২২

  

   শিশু  স্বাধীনতা  

—---------------------


ছেলেধরাদের নাম শুনলেই  

ছেলেরা ঢুকতো বিছানায় , 

আজ ছেলেধরা টিভি পর্দায়  

দেখে’ ছেলেদের ঘুম নাই । 


বাবা দিশাহারা ,মা’র মাথা ধরা, 

বুড়াদাদু মাথা  চুলকায়। 

গল্পের ঝুলি তুলে রেখে ঠা’মি 

সোফাটায় বসে’ তোলে হাই। 


ভূত-প্রেত-দানা, দৈত্যরা সবে, 

দলে দলে আসে নৃত্যোৎসবে,

ডাকিনী-যোগিনী, পেত্নী, আলেয়া– 

কখনো আলোক, কখনো বা ছায়া। 


চোখের সামনে জলসা – সকাল, সন্ধ্যা ।  

কল্পনাগুলো পায়না জীবন, মগজ হোয়েছে বন্ধ্যা।


__________________________________


০৭-০১-২০২২


চোরে চোরে মাসতুতো ভাই

---------------------------------


বৌমা


রোজ সকালে ভোগ গোপালের

কোত্থেকে বা পাই ?

আজ রাখি সব ঠাকুর ঘরে

কাল দেখি আর নাই।


ঠাকুমা --


কিন্তু মা'গো, পূজার বেলা

কিচ্ছু পাই না আমি ,

ফল ফলারি যায় যে কোথায়

জানেন অন্তর্যামী !




নাতি --


একটি কলাও খাইনি আমি , 

ঠাকুর ঘরে যাইনি ঠা'মি , 

তোমার গোপাল দুষ্টু বেজায়, 

চুপি চুপি ফলগুলো খায় -- 

আমার নামে তোমার কাছে মিথ্যে করে' বলে।


ঠাকুমা -- 


গোপাল না হয় করছে চুরি 

নকুলদানা, মুড়কি, মুড়ি , 

খই ,খোয়া আর ফলের ঝুড়ি। 

মুখে কথার এই ফুলঝুরি --

তোমার ঘরে কলার খোসা কে রেখেছে ফেলে ?


দাদু -- 


বলছি আমি, তোমরা শোন, সুবলের দোষ নাই। 

চোরে চোরে এক হয়েছে মাসতুতো দুই ভাই।। 


_________________________________________
খুকুমনির বাড়ি 
 
ঝুড়িভরা কতো এসেছে পুতুল
 আলমারি ভরা শাড়ি
পরিপাটি সব সাজানো গোছানো  
                          খুকু সোনাটির বাড়ি । 
 
দরজা পেরিয়ে এসো সাবধানে ,  
 থালা বাটি যেন না ঠেকে চরণে,       
বসো না হঠাৎ বসার আসনে -- 
                          রয়েছে ভাতের হাঁড়ি । 
 
বই, খাতা আর রঙ পেনসিল  
খুঁজে পাবে তুমি বিছানায়।  
পুতুলের জুতো কলে ধুয়ে ধুয়ে 
                  ঝুলিয়ে রেখেছে আলনায়
 
দুধের বাটিতে মিনিটার মুখ ,
কাক বসে চালে দেখে উৎসুক ,
গোটা বিস্কুট, ভাঙা মিস্টিটা ----
                   মায়ের বকুনি অবিরাম । 
 
সোনায় গড়ানো সুন্দর হার
পায়ের নূপুরে ফুলের বাহার
চুলে জড়াবার রেশমের ফিতা -- 
              তার কাছে নাই কোন দাম
 
কখনো বা কাঁদে ,কখনো বা হাসে
ঠাকুমার কোল শুধু ভালোবাসে
                     দাদাটার সাথে আড়ি । 
সুখ ভরা ঠাঁই , কোনো দুখ নাই  
                          খুকু মনিটির বাড়ি
 
-----------------------------------------------

০৯/ ০১/২০২২

দাদু ভাইয়ের জন্মদিনে
____________________

একী অনির্বচনীয় মায়া !
আমারই এ অন্তরের ছায়া,
দেখি আজ ওই চাঁদমুখে।
মনে হয় থেকে যাবো চিরদিন,
যুগে যুগে নিত্য নবীন,
আবেগে, সম্ভোগে, দুখে আর সুখে।‌

অলীক কল্পনা নয় জন্মে জন্মে আসা,
মিথ্যা ‌নয় হৃদয়ের প্রেম, ভালোবাসা,
অবিচ্ছিন্ন থেকে যায় রক্তের বন্ধন।
তুষারঝড়ের রাতে, নিষ্পত্র যে লতা,
অবরুদ্ধ আশা তার, অবলুপ্ত কথা,
বসন্তের ফুলে ফুলে নূতনেরে ‌করে আমন্ত্রণ ।।

তেমনই রইব আমি পূর্ণপ্রাণ -- নিভৃতে নীরবে,
স্মরণের বাসররাত্রে তোমাদের মিলন উৎসবে । 

________________________________________

On the Birthday of my grandson

(Dedicated to all grandchildren, the known and the unknown.)
-----------------------------------------------------------------------

Illusion! Do not call it so.
I could see, in the depth of your eyes,
My own soul reflecting.
And that sows in me an undying belief --
Here'll I be forever as the ☀ sun
That's reborn in the every morning.
Reincarnation is not a dream untrue.
Love, that oozes out from inside the breast,
Such outbursts of emotion, knot of blood -
Are affinities inter- penetrative🧔between you and me.
The creeper, bare leaves, which seems lifeless,
In frosty winters, bears hopes and bliss
In her frozen veins and that bloom as🌸blossoms
When appears the spring darling.
I'll be, my heart, in you, though unseen,
And laugh in your laughter, sing in your songs
On all the days of celebrations - joyous.

10- 01 - 2022.
Bangalore.

----------------------------------------------------------


কেন এ অন্ধকার !
-------------------------------------------


প্রতিবেশী এক বউমা, ছল ছল চোখ,
"কাকু , আজ মেয়ের জন্মদিন ছিল।
ওর বন্ধুদের ডাকতে পারলাম না।
কী যে ফুলে' ফুলে' কান্না মেয়ের !"

-----------------------------------------------


চোখ ভরা জল করে' টল টল , --
খুকু বলে তার মা'কে ,
"কেন মা, আমার জন্ম দিনে
ডাকো না বন্ধুটিকে ? "

"হায় রে অবোধ , কেমনে প্রবোধ
দিব বাছা তোরে আমি,
বুকে যে আমার ব্যাথার পাথার
জানেন অন্তর্যামী।
সারা দিন আজ নাই কোন কাজ,
নাই ঘর দোর সাজানো,
নাই ফুলমালা ,শুভদীপ জ্বালা,
মঙ্গল শাঁখ বাজানো।
শুধু হয় মনে কোন প্রয়োজনে
আয়োজন করে রাখি ?
কেও কারো ঘরে আসেনা যে ওরে,
থেমে গেছে ডাকা ডাকি ।
কী মারণ ত্রাস করেছে রে গ্রাস --
কি করে বুঝাই তোরে ;
রবি শশী ছেড়ে আকাশের রাহু
ধরেছে ধরিত্রীরে।

তবু মনে আশা, রবে না কুয়াশা
কেটে যাবে অমানিশা,
নূতন দিনের নূতন আলোকে
পাবে প্রাণ নব দিশা ।।"

১১-০১-২০২২
রাত্রি ,
ব্যাঙ্গালোর ।

----------------------------------------------



আবার আগামী কাল। ব্লগ (blog) খুলতে ভুলো না । 














৪টি মন্তব্য:

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...