সারা দিনটা কোথায় ছিলি ?
সদ্য ঘটে -যাওয়া একটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে ।
-------------------------------------------------------------
(গ্রাম থেকে শহর। স্বদেশ থেকে বিদেশ। শিক্ষা ও জীবিকার সন্ধানে সন্তানদের পরিযায়ী জীবন। সন্তান-সান্নিধ্য বঞ্চিত মায়ের আশ্রয় হয় মেয়ের ঘর ,নয় বিষাদঘন একাকীত্ব। বিবর্তিত কালের দাবী – অনুপেক্ষণীয়। কবিতাটি সর্বজনীন মাতৃত্বের আর্তি।)
“সারা দিনটা কোথায় ছিলি ?
সন্ধ্যা বেলায় ঘরে এলি ।
সত্যি কথা না বললে ঢুকবি না তুই ঘরে ।
বনের ধারে , নদীর ঘাটে ,
আঁখের ক্ষেতে , সিমের মাঠে ,
গিয়েছিলে মাছ ধরতে মতিঝিলের পাড়ে ।
কোন গাছে কোন পাখির ছানা,
কোন পাখিটার হলুদ ডানা ,
ঠিক ঠিক সব আছে জানা, পড়ার বেলা নাই ।
গাঁয়ের ছেলে করে' জড়ো,
ঘোষ বাগানের পেয়ারা পাড়ো ,
চৌকিদারের ধমক খেয়ে কান ধরেছো তাই।
সব খবরই জানা আছে ,
বলে গেছে আমার কাছে
দুলে পাড়ার দুখীর ব্যাটা রাখাল কালো সোনা ।
আসুক বাবা, বলবো তাঁকে ,
শহরে নিয়ে রাখতে তোকে ,
এখানে আর যাবে না তোর দারুন দুষ্টপনা ।”
“ও দিম্মা , ঘুমাচ্ছিলে ?
মনে মনে কী বকছিলে ? “
নাতনী হাসে খিলখিলিয়ে দঁড়িয়ে মুখের কাছে ।
চম্কে উঠে দিম্মা বলে ,
"না গো দিদি, ওই আসলে
ভাবতেছিলাম মামাটি তোর আসবে কবে ঘরে !
কথা আমার শুনে না সে ,
কোথায় আছে ,কোন বিদেশে ,
আসবে যেদিন হয়তো সেদিন যাবো এ -ঘর ছেড়ে ।”
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
—---------------------------------------------------------------
দারুন
উত্তরমুছুন