শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫

জাত্যাভিমান, ধর্মান্ধতা ও গান্ধী

জাত্যাভিমান, ধর্মান্ধতা ও গান্ধী
(৩০শে জানুয়ারী, গান্ধীহত্যা স্মরণে) 


"আজ সঙ্ঘ পরিবার যে দাবি তুলছে তার অনেকগুলির উৎস গত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের হিন্দু সত্তাসংকটে। হিন্দু মহাসভা বলতে থাকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও হিন্দু সংস্কৃতি সমার্থক। ভারতীয় জাতীয়তাকে হিন্দু জাতীয়তা হতে হবে। সাভারকার বললেন হিন্দুস্থানকে শুধু পিতৃভুমি মানলে চলবে না, পুন্যভূমি বলেও মানতে হবে। এর অর্থ যে মুসলিমরা হবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, তা অনুল্লেখ্য কিন্তু স্পষ্ট।"
                                       -----------অমলেশ ত্রিপাঠী।

১৯৩৯ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের গুরু গোলওয়াকার এক পুস্তিকায় লেখেন ---- 

"The non-Hindu peoples in Hindustan must either adopt the Hindu Culture and language, must learn to respect and hold in reverence Hindu religion, must entertain no ideas but those of glorification of the Hindu race and culture. ... In one ward, they must cease to be foreigners, or may stay in the country, wholly subordinated to the Hidu Nation, claiming nothing, deserving no privileges ----- far less any preferential treatment ----- not even citizen's rights."
         (------We or Our Nationhood Defined) 


বিগত শতাব্দীর সেই ত্রিশের দশকের বিশ্বধংসী বিবাদ। স্লাভ ও ইহুদী জাতিকে অবদমিত করে বিশুদ্ধ আর্যত্বের শ্রেষ্ঠত্ব-ঘোষণা। হিটলার বিষাক্ত শাণিত বক্তব্যে প্রচার করতে লাগলেন সেমেটিক জাতির ষড়যন্ত্রে আর্য জার্মানী বিপন্ন। ভারতেও সেই একই উচ্চারণ, একই ঘোষণা ! আর এস এস-এর মুখপত্রে সেই একই আসন্ন জাতিদাঙ্গার নরমেধ যজ্ঞে ঘৃতাহুতি ! হিন্দু জাতি, হিন্দু সংস্কৃতির, হিন্দু ধর্ম বিপন্ন ! অপরদিকে, প্রথম দশক থেকেই সৈয়দ আহমদের প্রচার। তার আলীগড় দলের দাবী,--- পৃথক নির্বাচন, বিশেষ গুরুত্ব (weightage). নূতন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল কুড়ি ও ত্রিশের দশকে। আরও তীব্র, তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল সাম্প্রদায়িক বিভাজন। এখানে উল্লেখ করা দরকার সেই ১৯০৫/'০৬ সাল থেকেই ইংরেজদের divide and rule. কার্জন, মিন্টো, রিজলেদের চক্রান্ত।  ফল হাতে হাতে। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিম লিগ, পরের বছর হিন্দু মহাসভা। (প্রাতিষ্ঠানিক নামকরণ ১৯২১)। এর পরেকার ইতিহাস বিসর্পিল, জটীল এবং অমানবিক।

এইভাবে ভারত স্বাধীন হওয়ার বহু পূর্ব-সময়কাল থেকেই ভারতবাসীর ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের দায় যাঁরা নিয়েছিলেন তাঁদের অবিমিশ্রকারিতা ও অদূরদর্শিতার  ফলে সাম্প্রদায়িকতা ধীরে ধীরে এমন এক নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করল যার শেষ, বীভৎস পরিণতি এল ১৯৪৬-সালে। ওই বছর অক্টোবরে মহম্মদ আলি জিন্নার প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক, কলকাতার দাঙ্গা, বিহারের দাঙ্গা এবং সমুহ সর্বনাশ --- বাঙলার ইতিহাসের বীভিষিকা নোয়াখালীর গণসংহার---- লুণ্ঠন,  নারীধর্ষণ, শিশু-কিশোর-তরুণ-বৃদ্ধদের নির্বিচারে হত্যা --- ভারতের বুকে দুর্মোচনীয় ভেদরেখা এঁকে দিয়ে দিয়ে গেল চিরকালের জন্য। দাঙ্গা বন্ধ করার তাগিদ নিয়ে, দাঙ্গাবিধ্বস্ত মানুষের আর্তনাদ শোনার আন্তরিকতা নিয়ে, দেশের কোন হিন্দু বা মুসলমান নেতৃত্ব যান নি সেদিন। গিয়েছিলেন আশাহত, বিধ্বস্ত বৃদ্ধ গান্ধী আর দেশের মাতৃসমা নারীনেত্রী সুচেতা কৃপালিনী। কিন্তু তাঁদের দৌত্যও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল কেননা গান্ধীজীর অনুপস্থিতিতেই কংগ্রেস তখন মেনে নিয়েছিল দেশভাগ। মারণলিপ্সার নরমেধ যজ্ঞে পূর্ণাহুতি ! বাঙলা আর পাঞ্জাবের উদ্বাস্তুদের জীবন হয়ে উঠল জীবন্ত নরক। 


(বাঙলার এই মর্মান্তিক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির অবকাশ এখানে নেই। একটি স্বতন্ত্র প্রবন্ধে সেটি লেখার ইচ্ছা রইল)। 


" দেশ স্বাধীন হল, দেশভাগ হল --- রেখে গেল কি গ্লানিময় পঙ্কসয্যা ---- দেশ হারাবার, প্রিয়জন বিচ্ছেদের, গণহত্যা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনের কী দুর্মর দুঃস্বপ্ন ! এই দুঃস্বপ্নের‌ দুর্মোচনীয় অভিশাপ ভারতের  ধর্মীয় রাজনীতিকে পরিপুষ্ট করছিল, (আজও করে চলেছে)। 

গান্ধীর দিকে আঙুল তুলে সেদিন আর এস এস বলেছিল‌, 'হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কথা বলে দেশের প্রতি  সবচেয়ে বিশ্বাঘাতকতা করেছেন তিনি।''
তাই কি 'হিন্দুদের ঈশ্বরের দূত' হয়ে এসেছিলেন তিনি, যিনি তাঁকে তাঁর উন্মুক্ত বুকে গুলি করলেন প্রার্থনা মন্দিরে ? যুগ যুগ আচরিত সনাতন ধর্মের ফরমান নিয়ে ? অহিংসার পূজারীর শোণিতার্ঘ্য দানের পরেও কি দেশমাতৃকার আরও বলি চাই ? আরও রক্তাঞ্জলি ?! 


সে দিনের পর থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত দেশের বিধাতৃ যাঁরা, ঈশ্বরের দূত যাঁরা‌, তাঁরা গান্ধীজীর জন্মদিনে, মৃত্যুদিনে তাঁর‌ সমাধিস্থলে‌‌ পুষ্পস্তবক রাখেন, মালা দেন, নীরবতা পালন করেন।  তা অনুতাপের, না স্বস্তির  ? বোঝা যায়না।‌

সুধী পাঠকদের উপর বিচারের ভার রইল। 

ভারতীয় শাশ্বত ধর্মদর্শন কি একজন নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকেও হত্যা সমর্থন করে ? 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৩১শে জানুয়ারী,২০২৫
কলকাতা।
___________________________________________

৫টি মন্তব্য:

  1. অতি নগন্য হিন্দুবিদ্বেষী নোংরা প্রচার। হিন্দু সংস্কৃতি ও ধর্ম বহু প্রাচীন।ইসলামের বহু আগে এর প্রসার। সংবেদনশীল এ ধর্ম কোনদিনই কাউকে আঘাত বা আক্রমণ করেনি, বরং অনেককেই আশ্রয় দিয়েছে ও লালন পালন করেছে। বিকৃত ইসলামি ও খ্রীস্টান ধর্মাচারণ পন্থীরাই হিন্দুধর্মের উপড় আবহমান কাল ধরে অত্যাচার, আক্রমণ ও ধর্মান্তরণ করেছে। গান্ধীর মত নোংরা ভেকধারী লোকটি এদেশের যা ক্ষতি করেছে,তা আজ প্রকাশিত হওয়াশ এদেশের মানুষ এই লোকটাকে মহাত্মা বলে মানা তো দূরের কথা একে আদূরের কথা এর মূর্তি গুলোকে আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ত

    উত্তরমুছুন
  2. জঘন্য হিন্দুবিদ্বেষী প্রতিবেদন।গান্ধীর মতো একটা নোংরা লোকের মহিমামন্ডন।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. সভ্যতার শেষ কথা অহিংসা।

      মুছুন
    2. পাপাত্মা গান্ধীর জন্য আপনার কান্না শুনে আমার খুব দুঃখ হচ্ছে। শুধু একটাই কথা বলব দেশ ভাগের পর উনি মরলেন না কেন? ধর্ষিতা হিন্দু নারীদের জন্য উনি আত্মহত্যার যে পদ্ধতি দিয়েছিলেন সেটা কি একটা মানুষের পক্ষে বলা সম্ভব? আমি তো উনাকে মানুষই মনে করি না।

      মুছুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...