বাগ্দেবী বন্দনা
সে কোন্ অতীত, বিস্মরণের দিগন্তের পারে
অব্যক্ত কথার মর্মভাঙা ব্যাকুলতা জীবের অন্তরে,
অনুরাগ সংরাগ বিরাগের বিপুল উচ্ছ্বাস,
এ বিশ্বের ঐশ্বর্যের ভাষারূপ দেবার প্রয়াস
তোলে ঢেও মৌনতার সাগর-সৈকতে।
অকস্মাৎ নিখিলের স্তব্ধ উৎস হতে
বীণার ঝংকারে আবির্ভূতা বাক্ দেবী ;
হংসারূঢ়া, শ্বেতপদ্মে সমাসীনা, হাতে বীণা তাঁর।
সুরে-তালে-লয়ে ঋদ্ধ বাণীর উৎসার --
নিখিল ভূবনে ব্যপ্ত সঙ্গীতের, কথার কাকলি
নীরবের কণ্ঠ হতে জেগেছে সকলি।
সুপ্তিভাঙা ঊষসীর সেই লগ্ন হতে নিরন্তর বেগে
দিকে দিকে কত কথা, কথকথা রাগে ও বিরাগে।
সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বিষাদে-মাখা প্রেম ভালোবাসা,
বিকশিত শব্দের কুসুম, নব নব ভাষা।
অসীম দ্যুলোক হতে যে অমৃতবাণী
হে মানব, কণ্ঠে তোমার ঢালে নিত্য বীণাপাণি
প্রেমের মাধুরী স্পর্শে, সেই মন্ত্রে হোক আরাধনা,
গীতা, বাদ্যে, শঙ্খ রবে ভারতী বন্দনা।
দুলাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
বসন্ত পঞ্চমী, ১৪২৫
কলকাতা ।
_________________________________________
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন