শ্রীমদ্ভগবত গীতায় অর্জুন--৯
দশম অধ্যায়ের ২০তম ভাষণে শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, হে নিদ্রাজয়ী অর্জুন (গুড়াকেশ), এই চরাচরপরিব্যপ্ত মহাবিশ্বের সমস্ত ভূতকুলের অন্তরস্থিত আত্মা আমি, আমিই সৃষ্টি স্থিতি লয়, দ্বাদশ অদিতিপুত্রের মধ্যে আদিত্য। আমি বিষ্ণু, পবনদের মধ্যে মরীচি এবং নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্রমা। আমি চতুর্বেদের সামবেদ, দেবতাদের মধ্যে ইন্দ্র, ইন্দ্রিয়গুলির মধ্যে মন এবং 'ভূতানাম্ চেতনা'। আমি একাদশ রুদ্রের সর্বশ্রেষ্ঠ শঙ্কর, দক্ষ-যক্ষদের মধ্যে কুবের, অষ্টবসুর আমি অগ্নি, পর্বতের সুমেরু, পুরোধাদের মধ্যমণি আমি বৃহস্পতি, যোদ্ধৃকুলে কার্তিকেয়, সরোবরের মধ্যে সাগর। আমি ভৃগু, আমি অক্ষর ও ওঁ-কার। আমি স্থাবরে হিমালয়, অস্থাবরে জপযজ্ঞ , সাধন আরাধনা সকলই। আমি বৃক্ষদের মধ্যে অশ্বত্থ, দেবর্ষিদের মধ্যে নারদ, আমি গন্ধর্বদের মধ্যে চিত্ররথ, তপোসিদ্ধ মুনি দের মধ্যে কপিল।
____________________________________________
ব্যাখ্যা
এই কপিল বা কপিলমুনি কে, যিনি ঈশ্বরপ্রমান পুরুষ ? যার কথা এখানে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ উল্লেখ করছেন। সমকালের আর্যাবর্তে দেবল, শোনক, ব্যাস, গৌতমাদি মহা মহা সব ঋষি মুনিগণ থাকতে কৃষ্ণ কেন বলছেন -- আমি "সিদ্ধানাং কপিলো মুনি।" এই কপিল সম্মন্ধে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তারই সামান্যটুকু আলোচনা করি।
ভারতবর্ষে বেদসংহিতা, ব্রাহ্মণ, বেদান্ত (উপনিষদ) ও পুরাণ কথিত ধর্মমত ও ধর্মাচরণের সাথে সাথে নিরীশ্বরবাদী, বেদান্তের 'পরমাত্মা' ধারণার বিপরীতমুখী 'তান্ত্রিকতা বা তন্ত্রবাদ বা প্রকৃতি-পুরুষবাদ' আর্যাবর্তের গণ্ডির বাইরে ন-আর্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার প্রধানতম ক্ষেত্র 'বাংলাদেশ' তথা অখণ্ড ভারতবর্ষের পূর্বদেশ। সাংখ্যের বা সাংখ্য মতবাদের সাথে তন্ত্রের গভীর মিল রয়েছে। কেননা, যে-মাতৃপ্রধান চেতনার মধ্যে তন্ত্রের উৎস খুঁজে পাওয়া যায় (প্রকৃতি ও পুরুষের মিলনই সৃষ্টির কারণস্বরূপ) তার মধ্যেই সাংখ্যের উৎপত্তিও আবিস্কার করা অসম্ভব নয়। গৌড়পাদের 'সাংখ্য-কারিকার' ভাষ্যে বলা হয়েছে,
"যথা স্ত্রীপুরুষসংযোগাৎ সুতোৎপত্তিস্তথা প্রদান পুরুষসংযোগাৎ সর্গস্যোৎপত্তি।।"
যেমন স্ত্রীপুরুষের মিলনে সন্তানের উৎপত্তি হয় সেইরূপ 'প্রধানপুরুষের' সংযোগে সৃষ্টির উৎপত্তি।
আর এই সাংখ্য মতবাদের প্রবক্তা 'কপিল মুনি'। মহামোহপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় (বৌদ্ধধর্ম গ্রন্থে) লিখছেন,
"সাংখ্যমত 'কপিলের মত', চিরকালের প্রবাদ। কপিলের বাড়ি পূর্বাঞ্চলে, অর্থাৎ 'বঙ্গবগধচের'দের দেশে। গঙ্গাসাগর যাইতে 'কপিলের আশ্রম আছে, কবতক্ষের ধারে কপিলমুনির গ্রাম। কপিলবাস্তুও কপিল মুনির বাস্তু। কারণ অশ্বঘোষ বলিতেছেন, 'গোতমঃ কপিল নাম মুণিধর্মভূতাং বরং।।' বাস্তবিকও কপিলকে কেহ ঋষি বলে না। তাঁহার নাম করিতে গেলেই বলে আদিবিদ্বান। বাল্মীকি যেমন আদিকবি তিনিও তেমনি আদিবিদ্বান। শ্বেতাশ্বতর উপনিষদে কপিলকে 'পরমর্ষি' বলা হইয়াছে, কিন্তু ভাব ভাষা ও মত দেখিলে এ-খানিকে অল্পদিনের পুস্তক বলিয়াই মনে হয়। সাংখ্য ও যোগের যে সমস্ত পুস্তক পাওয়া যায় সেগুলিকে অর্বাচীন বলে মনে হয়। কিন্তু অশ্বঘোষের লেখা ও কৌটিল্যের উক্তি দেখিয়া সাংখ্য যে খুব প্রাচীন তাহা বেশ অনুভূত হয়। ...... উপরের লেখা হইতে তিনটি কথা বুঝা যায় যে ,সাংখ্য মত সকলের চাইতে পুরাণ, উহা মানুষের করা এবং পূর্বদেশের মানুষের করা। উহা বৈদিক আর্যদের মত নহে, বঙ্গবগধ ও চেরজাতির কোন আদিবিদ্বানের মত।
বেদ পরবর্তী বা বেদের সময়কালেই, অর্থাৎ খ্রিঃপূঃ প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ('ব্রাহ্মণ' গ্রন্থগুলির রচনা পর্যায়ের সময়কালের সামান্য পরে ; যেমন 'শতপথ ব্রাহ্মণের' রচনাকাল আনুঃ খ্রিষ্টপূর্ব দশম শতাব্দী)। তাই মহাভারত পুরাণ কাহিনী সংঘটনের কালে শ্রীকৃষ্ণ যখন বলছেন "মুনিগণের মধ্যে আমি কপিল" তখন দুইটি সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া যায় ---- এক, কপিল মুনি তাঁদের পূর্ববর্তী ও প্রাচীন এবং কপিলের 'সাংখ্যযোগ' (পুরুষপ্রধান) দর্শনের 'প্রকৃতি-পুরুষবাদ'-এর তিনি সমর্থক। তবে তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) ন-আর্য সম্প্রদায়ের কঠোর বাস্তববাদী 'প্রকৃতিপ্রাধান্যকে' লঘু করে 'পুরুষপ্রধান' সৃষ্টিতত্ত্বের প্রতিষ্ঠা করবার প্রয়াস পেয়েছেন। সেই পুরুষপ্রাধান্য 'আমি'-তে এবং ধীরে ধীরে ক্রমোত্তরণের পথে সেই 'আমি' সৃষ্টিপরিব্যাপ্ত মহাচৈতন্যস্বরূপ 'আমিত্বে' রূপান্তরিত হয়েছে --- যা ,উপনিষদ-সিদ্ধ পরমব্রহ্ম বা পরমাত্মা।
_______________________________________________
তিনি আরো বলছেন, অশ্বদের মধ্যে তিনি উচ্চৈশ্রবা, হস্তিদের মধ্যে ঐরাবত, মানুষের মধ্যে রাজা, অস্ত্রসমুহের মধ্যে বজ্র, ধেনুদের মধ্যে কামধেনু। তিনিই সন্তান উৎপাদনের হেতু কন্দর্প (কামদেব) এবং সর্পরাজ বাসুকি। তিনিই শেষনাগ, জলচরদের আশ্রয় দেবতা বরুণ, পরম পিতা 'অর্যমা' (আদিত্যমাতা অদিতির তৃতীয় পুত্র) এবং শাসনকর্তাদের মধ্যে যমরাজ। দৈত্যকুলে তিনি প্রহ্লাদ, তিনিই কাল (সময়ের গণনার চরম বিষয়), পশুদের মধ্যে পশুরাজ সিংহ। তিনিই ধনুর্ধারীদের মধ্যে রামচন্দ্র, তিনি পবিত্র বায়ু, মৎস্য রাজ্যের তিনি মকর এবং নদীগুলির মধ্যে তিনি জাহ্নবী।
সমগ্র সৃষ্টিজুড়ে যা কিছু মহতো-মহীয়ান, গরীয়ান-গরিষ্ঠ, শ্রেয়ান-শ্রেষ্ঠ -- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেই রূপই পরিগ্রহ করে আছেন। শুধু তাই নয়, এই জগতসংসারের যা কিছু সৃষ্টি তাদের আদি ও অন্ত তিনিই। বিদ্যার মধ্যে তিনি অধ্যাত্মবিদ্যা, বিবাদাত্মক তত্ববিদ্যার 'বাদ' বা শেষ সিদ্ধান্তও তিনি। তিনি অক্ষরের আদি 'অ'-কার, সমাসের মধ্যে তিনি 'দ্বন্দ্ব', কালের তিনি মহাকাল, তিনি বিরাট 'বিশ্বরূপ' এবং সকল ভূতজগতের ধারণকারী ও পোষণকারী। তিনি বিনাশকারী 'মৃত্যু', ও পুনর্জন্মের কারণ। তিনি সমস্ত নারীদের গুণসমুহের সংহত রূপ 'কীর্তি' সহ গুণাবলি--- শ্রী, বাণী, স্মৃতি, মেধা, ধৃতি ও ক্ষমা। সৎরূপে তিনি সাম, ছন্দের মধ্যে গায়ত্রী, মাসের মধ্যে অগ্রহায়ণ, "ঋতুনাম্ কুসুমাকরঃ " (বসন্ত ঋতু)।
শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, জীবাত্মার মধ্যে যা কিছু 'গুণ অপগুণ' তিনি তাও। প্রতারণা বা ছলনাপূর্ণ 'জুয়াখেলা', বিজয়ী পুরুষদের বা বিজয়ীর অহংকার। তিনিই আবার প্রতিজ্ঞাত পুরুষদের 'নিশ্চিত প্রতিজ্ঞা', সাত্ত্বিক পুরুষদের ''সাত্ত্বিকী' ভাব। দেখ সখা (অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে বলছেন), আমি যেমন বৃষ্ঞী বংশের (যাদবদের অন্তর্গত একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী) বসুদেবসূত বাসুদেব, তেমনি পাণ্ডবদের মধ্যে ধনঞ্জয় (তোমার সত্ত্বার মধ্যেও)। আমিই মুনিশ্রেষ্ঠ ব্যাসদেব এবং কবিশ্রেষ্ঠ শুক্রাচার্য। দমনকারীর 'দণ্ড' শক্তি, জয়েচ্ছুদের 'জিগীষা', গুহ্যভাবের 'মহামৌন', জ্ঞানীদের 'জ্ঞান' এই 'আমি' --(তোমার সম্মুখে বর্তমান)। এই 'আমিই' তাই সমস্ত ভূতজগত, সকল ভাবজগতের অস্তিত্ব। দেখ অর্জুন, আমার যে অপার 'বিভূতি'র কথা তুমি জানতে চাইছো তা অসীম, অপার, অন্তহীন। এতক্ষণ যতটুকু তোমায় জানালাম তা অত্যাতি সংক্ষিপ্ত (এষঃ তুদ্দেশতঃ প্রোক্তঃ)। এই জগতচরাচরে যা কিছু প্রবল শক্তিশালী ঐশ্বর্যসমন্বিত--- সবকিছুই আমারই তেজাংসম্ভূত (মম তেজহংশসম্ভবম্)।
_______________________________________________
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণের এই বাণীর সঙ্গে 'শ্রীভাগবতম্'-এর একাদশ স্কন্ধের ৪১তম শ্লোকটির কী অপূর্ব মিল ! ---
"খং বায়ুম অগ্নিং সলিলং মহীং চ
জ্যোতিংষি সত্ত্বানি দিশো দ্রুমাদিন্।
সরিৎ সমুদ্রাংশ্চ হরেঃ শরীরং
যৎ কিঞ্চ ভূতং প্রণমেৎ অনন্যঃ ।।"
আকাশ, বাতাস, অগ্নি, জল ---- এমনকি সমগ্র ধরিত্রী, পশু প্রাণী, দিক সকল, বৃক্ষ, নদী, সমুদ্র ---- যা কিছু দৃশ্যমান ও দৃষ্টির বাইরে সমস্তই যে শ্রীহরিরই শরীর --- তাঁকে প্রণাম করি।
সেই একই কথা, প্রকৃতির দৃশ্যজগৎ --- ধরা থেকে অ-ধরা বিপুল এই ব্রহ্মাণ্ড --- সমস্ত কিছুই আমি, আমার মধ্যেই সমস্ত কিছু। কিন্তু এখানেই আমার 'পূর্ণতা' বা 'পূর্ণ 'আমির' শেষ নয়। আমার বিভূতি-বৈভবঋদ্ধ সত্ত্বার এই বহুত্বের এবং অন্তহীনতার ধারণায় তোমার কিসের প্রয়োজন ? আমার 'আমিরূপের' মাত্র একাংশ দ্বারা আমি 'মায়ার বিভূতিতে আবরিত করে' বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ধারণ করে আছি।
"অথবা বহুনৈতেন কিং জ্ঞাতেন তবার্জুন।
বিষ্টভ্য অহমিদম কৃৎস্নমেকাংশেন স্থিতো জগৎ।।"
''আমি'রূপের একাং'' দ্বারা সমস্ত জগৎকে ধারণ করে আছেন যিনি সেই অনন্তসত্তার মূর্ত বিগ্রহ রূপে শ্রীকৃষ্ণ। তিনি বার বার 'বিভূতি'র কথা বলছেন এবং বলেছেন। টিকাকারেরা "যৎ যৎ বিভূতিমৎ সত্ত্বম"-কে মায়ার দ্বারা আচ্ছন্ন বস্তু বলছেন। কোন কোন টিকাকার এই 'মায়া'-কে 'যোগমায়া'ও বলেছেন।
'বিভূতি', 'মায়া' বা 'যোগমায়া' শব্দগুলির প্রকৃত অর্থ বা ব্যঞ্জনা বেশ জটীল। বেদকেই যদি আদিমতম সাহিত্য (যদিও প্রাথমিকভাবে 'শ্রুতি'রূপে) ধরি তার প্রথম প্রকাশিত ঋগ্বেদেই 'মায়ার' উল্লেখ আমরা পাই" ঋগ্বেদে মায়ার কথা আছে ; কিন্তু বৈদান্তিক অর্থে 'মায়াবাদ' (শঙ্করাচার্য বর্ণিত) নেই --- বড়জোর ঋগ্বেদের অর্বাচীন অংশে (স্মরণে রাখতে হবে যে দশসহস্রাধিক মন্ত্রসমন্বিত ঋগ্বেদ সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় দুই হাজার বছর ধরে) মায়াবাদের আভাস দেখা দিয়েছে। মায়াবাদের পরিবর্তে ঋগ্বেদে দেখা যায় দেবতাদের প্রজ্ঞা বা কৌশলের নাম হোল মায়া।" সেই সঙ্গে মায়া অর্থে যাদুশক্তির আভাসও আছে। কিন্তু বেদান্তে এসে (বেদের পর 'ব্রাহ্মণ', 'ব্রাহ্মণ'এর পর 'আরণ্যক ও বেদান্ত') বৈদিক ঐতিহ্যের ধারক বৈদান্তিকেরাই ঋগ্বেদের প্রাক-অধ্যাত্মবাদী, প্রাক-ভাববাদী চেতনার ধংসস্তুপের উপর ভাববাদের প্রাসাদ গড়ে তুলেছিলেন এবং সেই ভাববাদের প্রধানতম ভিত্তি বলতে 'মায়াবাদ'ই।
('লোকায়ত দর্শন'--- দে.প্র.চট্টোপাধ্যায়, স়ংক্ষিপ্তাকারে)
ঋগ্বেদের একটি মন্ত্রে বলা হয়েছে,
"ধর্মণা মিত্রা বরুণা বিপশ্চিতা ব্রতা
রক্ষতে অসুরস্য মায়য়া।
ঋতেন বিশ্বং ভূবনং বি রাজথঃ
সূর্য মা ধত্থো দিবি চিত্রং রথম্।।"
(ঋগ্বেদঃ ৫.৬৩.৭)
হে প্রাজ্ঞ মিত্রা বরুণগণ, তোমরা ধর্মদ্বারা ও অসুরের মায়া দ্বারা যজ্ঞসমূহ রক্ষা কর, ঋতদ্বারা এই বিশ্বভূবনকে দীপ্যমান কর, সূর্যকে তাহার বিচিত্র রথসহ ধারণ করিয়া থাক।
'মায়া' ন-আর্য সম্প্রদায়ের আয়ত্বাধীন --- এমন ধারণা বেদ হতে পুরাণ পর্যন্ত সর্বত্র লক্ষণীয়। সমুদ্রমন্থনের সময় মায়াবী অসুর রাহু কেতুর 'কীর্তি' থেকে আরম্ভ করে রামায়ণ, মহাভারতসহ সমস্ত পুরাণকাহিনীতে শত সহস্র আসুরী মায়ার উদাহরণ আছে। সেই 'মায়া' যা প্রাগার্য যুগ থেকে আসা ব্যক্তিক কৌশল বা ঐন্দ্রজালিক কোন শক্তির বিষয় বোঝাতো তাই বেদ পরবর্তী কালে এসে অধ্যাত্মিক তত্ত্বের এক বিশেষ উপাদানরূপে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল, যখন উপনিষদীয় ঋষিগণ 'ব্রহ্মবাদ' ব্যাখ্যা করলেন। মায়া থেকে 'মায়াবাদের' প্রধানতম প্রবক্তা শঙ্করাচার্য। 'সর্বমিদং খলু ব্রহ্ম' থেকে 'ব্রহ্ম সত্য জগন্মিথ্যা'। ইন্দ্রিয় অনুভূত জগৎ, দৃশ্য্যজগৎ মায়া, যা সত্যরূপ ব্রহ্মকে আবরিত করে আছে।
(ভাগবৎ পুরাণে 'যোগমায়া'র কথা সবিস্তারে বর্ণিত আছে।)
যাই হোক্, 'দশম অধ্যায়ের' শেষ শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর অসীম, অন্তহীন ঐশ্বর্যমণ্ডিত সত্ত্বার সামান্য একটুখানি ঝলক দিয়েছেন 'এই বলে যে "আমার বিভূতির (দৈব মায়া) একাংশ দ্বারা সম্পূর্ণ এই জগৎ ধারণ করে স্থিত আছি। 'বহু' বা বিচিত্র বিরাটকে "কিম জ্ঞাতেন তবার্জুন ?" অর্থাৎ মানুষের সীমিত চেতনায় নিখিল ভূবন সত্ত্বাকে জানা যায় না। সেই 'বিরাটের' আশ্রয় নেওয়া যায়।।
_____________________________________________
পরবর্তী দশম পর্বে আমরা 'একাদশ অধ্যায়' নিয়ে আলোচনা করব।
(ক্রমশঃ)
দুলাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
৩০শে আগষ্ট, ২০২৫
ব্যাঙ্গালোর।
খুব ভালো লিখেছেন দাদা। অনেক কিছু জানতে পারলাম।
উত্তরমুছুন