বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫

শ্রীমদ্ভগবত গীতায় অর্জুন--৮


শ্রীমদ্ভগবত গীতায় অর্জুন -৮

ধীরে ধীরে আমরা শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতার দশম অধ্যায়ে প্রবেশ করলাম। আজ এই বছরের পবিত্র জন্মাষ্টমী তিথিও সমাপন হোল। পরমপুরুষ শ্রীকৃষ্ণ ভগবান আজিও এই ভারতবর্ষে এবং পৃথিবীর অন্যান্য বহু দেশের মানবসমাজে ভক্তি ও প্রেমভাবনার বিগ্রহরূপে পূজিত। এই ভক্তি ও প্রেমের দ্বারা ঈশ্বর আরাধনার যে পথ তার দিশা প্রথম দেখিয়েছেন পার্থসারথি সুদর্শনধারী শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ; তাঁরই শ্রীমুখনিঃসৃত বাণীর সংহিতা শ্রী গীতায়।  ক্ষণপূর্বে আলোচিত নবম অধ্যায়ের শেষ মহাবচনে উচ্চারণ করলেন, --- "মন্মনা, মদ্ভক্তা, মদ্ যাজী' ও মৎপরায়ণ" হয়ে, আমাকেই ভজনা কর। যতক্ষণ সাধারণ মানুষের পক্ষে দুরাচরণীয় পরমেশ্বর সাধনার কথা তিনি বলেছেন ততক্ষণ অর্জুন থেকেছেন নিরুত্তর, নির্বাক। তাই কি এই ভক্তিমার্গের দিগদর্শন ? 

সে যাই হোক্, গীতায় উল্লেখিত এই ভক্তির পথ ও ভক্তিপথের দিশা নির্ধারিত হবার পর থেকেই ভারতবর্ষে  ভক্তি আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতাই এই আন্দোলনের উৎস। অবশ্য দেশের ও বিদেশের অনেক মহান বেদ-পুরাণবিদ গবেষক ও সাধকের মতে ভক্তি আন্দোলনের বীজ উপ্ত হয়েছিল উপনিষদ ও আরণ্যক যুগেই --- শ্রীগীতার (খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম থেকে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর) আবির্ভাবের পূর্বযুগেই --- প্রাচীনতর কঠ ও শ্বেতাশ্বতর উপনিষদে 'পরমাত্মন' আরাধনায় 'ভক্তি ও প্রেমের' আভাসিত উল্লেখ আছে।

নবম অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ "প্রেম ভক্তির" পথের কথা যখন ‌ বলছেন তখন অর্জুনের সাথে সাথে আবহমানকালের ঈশ্বরভক্তকুলের মনে হতেই পারে যে এ পথ হয়তো কিঞ্চিৎ হলেও‌ সুগম ; কিন্তু কতখানি সে পথ 'সুগম' তাই আমরা আলোচনা করবার চেষ্টা করি দশম অধ্যায় ও পরবর্তী সাতটি অধ্যায়ের 'কৃষ্ণার্জুন' সংবাদে। দ্বিতীয় অধ্যায়ের 'সাংখ্যযোগে', তৃতীয় অধ্যায়ের 'কর্মযোগে' যে কঠিন ও কঠোর যোগব্রতের উপদেশ শ্রীকৃষ্ণ দিয়েছিলেন। সেই 'যোগব্রত'- সম্মন্ধে বলতে গিয়ে তিনি চতুর্থ অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকটিতে বলেছেন, দেখ অর্জুন, এই যোগসাধনার পরম্পরা বহুকাল থেকে লুপ্ত হয়ে আছে। আদিকালে আমি এবম্প্রকার যোগের কথা সূর্যকে বলেছিলাম, সূর্যের কাছ থেকে সূর্যপুত্র বিবস্বান, পরে মনু মহারাজ হয়ে রাজা ইক্ষ্বাকু এবং ইক্ষ্বাকু থেকে রাজর্ষিগণ জেনেছিলেন। এখন 'তোমার এবং আমারও' বহু জন্ম অতীত হয়ে যাবার পর আবারও আমি চাই এই যোগ সাধনার পুনঃপ্রবর্তণ, পুনরাচরণ। 

(মাঝখানের জন্ম জন্মান্তর কাল ধরে তবে কোন্ সে ঈশ্বর আরাধনার পন্থা‌ মানুষের অনুসরণীয় ছিল? না কি সেই সময়কালটি লোকায়তিক ও নিরীশ্বরবাদীদের  প্রচারিত ধর্মধারণা ও জীবনাচরণের আদর্শ অনুসৃত হোত ? এমত অত্যন্ত নিগূঢ়, অব্যাখ্যাত কিছু ঐতিহাসিক প্রশ্ন উত্থিত হয়েছে মহান ধর্মতাত্ত্বিক গবেষক 'দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের 'লোকায়ত দর্শনে'। উপসংহারে আলোচ্য

এই নবম অধ্যায় থেকে ভক্তিযোগ। এখানে ভগবান প্রেমবিগ্রহ এবং সখা অর্জুনের সঙ্গে পরম সুহৃদ-সম্মন্ধে বাঁধা। তাই দশম অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকটিতেই তিনি বলছেন, দেখ মহাবাহু অর্জুন, তুমি আমার প্রিয় সখা, 'প্রীয়মানায়' (সংস্কৃত ভাষায় 'ঈ'-কারও প্রচলিত), তোমার হিতাকাঙ্ক্ষী, তাই তোমার মঙ্গলের জন্যই বলছি --- 'প্রীয়মানায় বক্ষামি হিতকাম্যয়া।" 

বলছেন, 'আমি সৃষ্টির আদি', সৃষ্টির প্রয়োজনে আমার অবতারত্ব বা লীলাবিলাস অপরাপর দেবতাগণ, মহর্ষিবৃন্দ--- তাঁদেরও অধিগম্য নয়। কেননা আমিই যে আদি কারণ। (যে আত্মা জীবাত্মারূপে আবির্ভূত হয়েছেন, তাঁর মহিমা কল্পনাতীত। তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মহিমময় দেবতা, তিনি কালাতিকাল বিরাজমান ; তিনিই একমাত্র দেবতা যিনি অতীতেও ছিলেন, বর্তমানেও আছেন, ভবিস্যতেও থাকবেন। --- স্বামী বিবেকানন্দ।  তিনি আদি সত্ত্বা। "সর্বস্য জগতো বীজভূতম্"-- --শঙ্করাচার্য।) 

অতএব, হে প্রিয়সখা, তত্ত্বজ্ঞানের দ্বারা এই অনাদি, জন্মরহিত, সর্বলোকে পরমেশ্বররূপে আমাকে যাঁরা জানেন, তাঁরা এও জানেন যে বুদ্ধি -জ্ঞান- ক্ষমা-সত্যোপলব্ধি, নির্মোহতা, সংযম, সুখ দুঃখ, উৎপত্তি-প্রলয়, ভয়-অভয় ভাব, এবং --- ---

অহিংসা সমতা তুষ্টিস্তপো দানং যশোহযশঃ।
ভবন্তি ভাবা ভূতানাং মত্ত এব পৃথগ্বিধাঃ।। 

--- অহিংসা, সমতা প্রভৃতি নানা প্রকারের (পৃথগ্বিধা) যে ভাবগুলি মানুষের প্রকৃতিতে প্রকাশ পায় তা সবই আমা থেকেই উৎসারিত হয়। ব্রহ্মজ্ঞানী মহা মহা ঋষি, সনক ইত্যাদি পুরুষগণ, স্বায়ম্ভ ইত্যাদি চতুর্দশ মনু (মানবগণ) আমার ভাব নিয়ে (ঈশ্বর ও মানব, জীবাত্মা ও পরমাত্মা এক ও অদ্বিতীয়) এবং আমার সঙ্কল্পেই (ইচ্ছার বশে) পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছেন ; তারপরে তাঁদের পরবর্তী বংশ পরম্পরা সম্ভাবিত হয়েছে। আমার পরমৈশ্বর্যরূপ বিভূতি (অব্যক্ত দৈবশক্তি) এবং যোগশক্তির পরম তত্ত্ব যিনি  জেনেছেন, এই জ্ঞানে যিনি স্থিত হয়েছেন, যিনি এই সারসত্য উপলব্ধি করেছেন যে আমিই সৃষ্টির কারণ, আমাতেই এই জগৎসংসার স্থিত ও আমাতেই আবর্তিত, সেই বুদ্ধিমান ভক্ত আমারই ভজনা করেন ; সেই ভক্ত মন প্রাণ আমাতেই সমর্পণ করে, আমার প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করেন, সংসারে আমার গুণকীর্তন করেন, (মাম কথয়ন্ত) আমাতেই রমন (আত্মসন্তোষ ও আনন্দ লাভ) করেন।
এমন যিনি বা যাঁরা আমার ভক্ত, আমার উপাসনায় রত সে সকল প্রেমিক ভক্তদের আমি তত্ত্বজ্ঞান প্রদান করি, আমি স্বয়ং অনুকম্পায়ী হয়ে তাদের অন্তরে স্থিত হই, তাদের অজ্ঞানতা প্রসূত অন্ধকারকে, জ্যোতির্ময় তত্ত্বজ্ঞানরূপ দীপ প্রজ্বলিত করে' দূরিভূত করে থাকি। 

তেষাং এব অনুকম্পার্থম অহম অজ্ঞানজম  তমঃ।
নাশয়ামি আত্মভাবস্থঃ জ্ঞান দীপেন ভাস্বতা।। 

এখানেই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ ও পরম আনন্দময় ব্রহ্মস্থিতির ইঙ্গিত। এই যে শ্রীকৃষ্ণ বার বার 'আমি, আমি' বলছেন, এটি একটি অতি 'গূহায়িত' (গূহ্য) আত্মদর্শনের 'ভাব' যা সাধকের অনুভূতির মধ্যেই, হৃদয়ানুরাগের মধ্যেই অনুভূত হয়। শ্রীমদ্ভগবত গীতার  এই বাণীগুলি কোন ভাষায়, কোন শব্দে প্রকাশ করা যায়‌ না। এখানে কৃষ্ণ অর্জুনের সখা, অর্জুনের সারথি ঠিকই ; কিন্তু রূপকার্থে। তিনি যুগ যুগান্তরের, জীবনসংগ্রামরত মানবসংসারের প্রতিভূস্বরূপ অর্জুনকে বলছেন যে-কৃষ্ণ, তিনি মানববিগ্রহরূপী স্রষ্টা--- বিশ্বব্রহ্মাণ্ডব্যপ্ত মহাচৈতন্য। তিনি অনাদি, অজ, অব্যয়, 'অবাঙমনোসগোচর'। আবার এই আমি জগৎচরাচরের প্রকৃতিতে, জীবে, অজীবে, জলে স্থলে, আকাশে বাতাসে, বৌমে-মহাবৌমে, সূর্য চন্দ্রাদি জ্যোতিরর্মণ্ডলে ওতপ্রোত, এই ভূতজগতও বিপরীতক্রমে এই 'আমি' বা স্রষ্টার 'আমিত্বের' মধ্যেই বিরাজমান। এই 'জ্ঞান' অধিগত হলে পরেই জীবাত্মা 'পরমাত্মায়' লীন হয় এবং আনন্দময় ব্রহ্মস্থিতি লাভ করে। যোগসাধনার পথে এই একত্ববোধের 'জ্ঞান' সুকঠিন সাধনসাপেক্ষ ; এবং তাই প্রেম ভক্তি ও নিষ্কামনায় আত্মসমর্পণ। মানবাত্মা তখন মুক্ত, সুখ দুঃখের অতীত। সর্ব সত্যের সত্য, সর্ব রহস্যের রহস্য  পরমাত্মার বাস যেখানে (অখণ্ড একত্বের মধ্যে) সেই স্বর্গধাম-প্রাপ্তিই জীবনের পরম এবং শেষ চরিতার্থতা --- যে কথা জীবনপারের দেবতা যম নচিকেতাকে বলছেন,  --- 

যং দুর্দশং গূঢ়মনুপ্রবিষ্ঠম্।
     গুহাহিতং গহ্বরেষ্ঠং পুরাণম।।
অধ্যাত্মযোগাধিগমেন দেবং।
       মত্বা ধিরো হর্ষশোকৌ জহাতি।। 

শান্তচেতা ধীর (বোধবিশিষ্ঠ) মানব যখন প্রায় অদৃশ্য, দুর্জ্ঞেয়, অনুভূতির গহনে অবস্থিত, হৃদয়ের গভীর দেশে অধিষ্ঠিত, শাশ্বত সনাতন ও স্বপ্রকাশ সত্ত্বাকে ধ্যানের মধ্য‌ দিয়ে অনুভব করে, তখন সে সুখ দুঃখের পারে আশ্রয় লাভ করে। ----- (কঠোপনিষদ, দ্বাদশ মন্ত্র।) 

এই 'হৃদয়ের গভীর দেশে' শব্দগুচ্ছের মধ্যেই নিহিত আছে 'স্বপ্রকাশ সত্ত্বার' প্রতি ভালোবাসার সম্পর্ক, প্রেমের সম্পর্ক, ভক্তির সম্পর্ক এবং সেই স্বপ্রকাশ সত্ত্বা যে আমি, আমারই অন্তরে নিত্য জাগ্রত আমার  জীবন-সারথি --- পরম চৈতন্যসত্তার অংশ। শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনের, (আমাদেরও) জীবন-রথের সারথি। যোগ সাধনায় তাঁকে যেমন অনুভবে লাভ করা যায়, তেমনি আত্মসমর্পিত প্রেম ভক্তির দ্বারাও তাঁকে আপন করে পাওয়া যায়। শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমুখনিঃসৃত 'আমি'-র তাৎপর্য্য এখানেই।
ভগবান বাসুদেবের এমত অমৃতনিঃস্যন্দি বাণীসমূহ বিস্ময়-বিমুগ্ধ চিত্তে শ্রবণ করবার পর, এবার অর্জুন নিজেকে সখার কাছে সমর্পণই করলেন। তাঁর মনে হোল ইনি তো শুধু বন্ধু নন, ইনি প্রভু আমার, প্রিয় আমার -- জীবন-মরণের 'নিয়তি' এবং পরম ভক্তিভরে উচ্চারণ  করলেন, (গীতার সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্রগুলির একটি), 

"পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান।
পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবম্ অজম বিভুম।।
আহুস্তাম্ ঋষয়ঃ সর্বে দেবার্ষির্নারদস্তথা।
অসিতো দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে।।" 

হে ভগবান, হে কেশব, এইবার আপনার মহিমময়, সত্যরূপ অন্তরে মূর্ত হয়ে উঠছে। আপনি স্বরূপে ব্রহ্ম, পরম আশ্রয়, পরম পবিত্র, শাশ্বত কালের দিব্যপুরুষ, দেবতা, ঋষিগণেরও‌ আদি, জন্মমৃত্যুরহিত, সর্বব্যপ্ত সত্ত্বা। একথা দেবল ঋষি, নারদ ঋষি, মহর্ষি ব্যাসদেবও বলেছেন এবং (কী সৌভাগ্য আমার) আপনি স্বয়ং সে পরিচয় আমার কাছে ব্যক্ত করছেন --- "স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে।"  হে কেশব, যা যা এতক্ষণ বলেছেন, বলছেন সবই সত্য মানি, আপনার লীলাময় স্বরূপ আমার মত মানুষ তো দূর, দেবতা দানবগণও জানতে পারেন না--- বিদুঃ ন দেবাঃ ন দানবাঃ।  আপনি এই ভূতজগতের সৃষ্টিকর্তা, দেবতাদেরও দেবতা। হে জগতপতি পুরুষোত্তম, আপনি নিজেই নিজেকে জানেন --- "স্বয়মেব আত্মনা আত্মানাম্ বেত্থ।" হে ভগবন, আপনিই সেই পরমাত্মন পুরুষ যিনি বলতে পারেন আপনার সেই বিভূতির কথা যার দ্বারা এই বিশ্বলোক পরিব্যপ্ত হয়ে আছে, স্থিত হয়ে আছে। 

_______________________________________________
এখন অর্জুন শ্রীকৃষ্ণ কথিত 'আমি'কে উপলব্ধি করছেন। "যা কিছু আমরা জানি সবই আগে তাঁকে জেনে তাঁরই  ভেতর দিয়ে --- তবে জানতে হয়। তিনিই প্রকৃত 'আমি' -- সেই 'আমি'ই আমাদের এই 'আমি'র স্বরূপ ; আমরা সেই 'আমি'র ভেতর দিয়ে ছাড়া কিছুই জানতে পারি না। তিনি সাক্ষিস্বরূপ ---- সকল জ্ঞানের তিনি অনন্ত সাক্ষিস্বরূপ।
                   (----- 'বাণী ও রচনা'-- স্বামী বিবেকানন্দ।)
______________________________________________


হে যোগেশ্বর, আমাকে বলুন কি ভাবে আপনার এই বিভূতির কথা আমি জানব, কি ভাবে নিরন্তর আপনার চিন্তা করে আপনাকে জানব, কি ভাবেই'বা আপনি (কোন্ কোন্ রূপে) আমার চিন্তা করবার যোগ্য হতে পারেন ? হে অমৃতপুরুষ, হে জনার্দন, আপনি আপনার পরমৈশ্বর্যরূপ বিভূতি ও যোগশক্তির কথা আবার বলুন, বার বার বলুন। শুনতে শুনতে আমার পিপাসা যেন আরও তীব্রতর হয়ে উঠছে, ---- 

বিস্তরেণ আত্মনঃ যোগম্ বিভূতিঞ্চ জনার্দন,
ভূয়ঃ কথয় তৃপ্তির্হি শৃন্বতো নাস্তি মে অমৃতম।। 

এই সুধাময় কথা এত শুনেও তৃপ্তি মেটেনি আমার। --- "ভূয় কথয়" --- আবার বলুন।
(হে জনার্দন, আপনার কমলানন-নিঃসৃত অমৃতময়ী বাণী ধ্বনিত হোক্, রণিত হোক আমার অন্তরে নিরন্তর !
"কী দেখিব, কী জানিব,
না জানি সে কী আনন্দ ----
নূতন আলোক আপন মনোমাঝে।।")
                          ----------- রবীন্দ্রনাথ। 
মুগ্ধচিত্ত, ভক্তিভাববিহ্বল কুরুকুল-অলঙ্কার অর্জুনের প্রতি করুণার্দ্র হয়ে পরম করুণায় ভগবান বাসুদেব তখন আবারো কৃতসঙ্কল্পিত হলেন, আশ্বস্থ করলেন শ্রদ্ধালু সুহৃদকে এই বলে' যে, 

"হন্ত  তে  কথয়িষ্যামি দিব্যা হ্যান্তবিভূতয়ঃ।
প্রাধ্যান্যতঃ কুরুশ্রেষ্ঠ নাস্ত্যন্তো বিস্তরস্য মে।।" 

হে কুরুশ্রেষ্ঠ গাণ্ডীবধন্বা অর্জুন, আমার বিভূতি সম্মন্ধে (অনন্তবিস্তারী আমার এই 'আমিত্ব' বিষয়ে) বিশেষভাবেই (প্রাধান্যতঃ) কিছু অবশ্যই বলবো ---
(এরপর আবারো ১০ম অধ্যায়েরই ২০তম শ্লোক থেকে কৃষ্ণকথা, ভগবান বাসুদেবের আত্মবিভূতির 'কথকথা' -- পরবর্তী পর্বে।)
                            










কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...