শাশ্বত প্রেম
আজ আমার পাঠকদের বিশ্বসাহিত্যের শরৎ প্রভাতের তৃণদলশীর্ষে সূর্যকরোজ্বল শিশিরকণার মত একটি কাব্যকণা উপহার দিতে চাই। উচ্চতর বিদ্যালয়ের ছাত্রমাত্রেই ইউরোপীয় নবজাগরণের ইতিহাস পড়েছেন এবং ইতালীয় শিল্পী সাহিত্যিকদের নামও জেনেছেন। তাঁদেরই একজন পেত্রার্কা, যাঁর 'সনেট' অনুসরণে আমাদের মধুকবি (মাইকেল মধুসূদন দত্ত) বাঙলায় চতুর্দশপদী কবিতা সৃষ্টি করে গিয়েছেন।
Francesco Petrarch, the poet is famous for his Sonnets. One of his Sonnets goes ---
(Sonnet xv, translated in English by Charlotte Smith.)
Where the green leaves exclude the summer beam,
And softly bend as balmy breezes blow,
And where, with liquid lapse, the lucid stream,
Across the fratted rock is heard to flow,
Pensive l lay : when she whom Earth conceals,
As if still living, to my eyes appears,
And piling Heaven her Angel from reveals,
To say -- Unhappy Petrarch, dry your tears.
Ah ! Why sad lover ! Thus before your time,
In grief and sadness should you life decay,
And like a blighted flower, your manly prime
In vain and hopeless sorrow fade away ?
Ah ! Yield not thus to culpable despair.
But rise thine to heaven, and think I wait thee there.
মৎকৃত বাঙলা অনুবাদ --
শাশ্বত প্রেম
মলয় বাতাসে তরুশাখাগুঋলি আনত রয়েছে যেখানে,
ঘনপল্লবে সূর্যের আলো উঁকি দিয়ে যায় সেখানে।
ক্ষীণধারা এক তটিনী চলেছে পাষাণের বুকে গেয়ে গান --
বিষাদমগ্ন আমার 'আমিটা' শুয়ে আছে সেথা মৃতপ্রাণ।
এ ধরণী যারে লুকায়ে রেখেছে আমার চোখে সে অ-মরা ;
হঠাৎ এখানে শুনি তার গান -- যদিও রয়েছে অধরা।
দেবদূতদের মায়ামেঘ ছিঁড়ে আসে তার বাণী করুণার,
"নয়নের জল মুছে ফেল কবি, নাই প্রয়োজন কান্নার।"
বন্ধু আমার, বিষন্ন কুসুম, খেদ-ক্ষয় কেন জীবনে ?
আছে পৌরুষ, প্রবল শৌর্য, আমারে রেখেছ স্মরণে।
আলোকোজ্জ্বল অমর্ত্যধাম নিরাশার নিরালোক নাই,
বিরহবিহীন দুখনিশাহীন চিরমিলনের সুখঠাঁই।
হে প্রিয়তম, মরণের পায়ে অর্ঘ্য দিওনা নিজেরে,
তোমারই তো আমি প্রতীক্ষায় আছি দাঁড়ায়ে স্বর্গ দুয়ারে।
(এ কথা মনে রেখে পাঠ করতে হবে যে পেত্রার্কা চতুর্দশ শতকের কবি।
তাঁর কবিতাগুলি রচিত হয়েছে আজ থেকে ন'শ বছর আগে।)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১০/০৯/ ২০২৩
ব্যাঙ্গালোর।
অসাধারন
উত্তরমুছুন