জাত্যাভিমান, ধর্মান্ধতা এবং গান্ধী ও যুদ্ধ।
(৩০শে জানুয়ারী, গান্ধীহত্যা স্মরণে। এই লেখাটি আগামী ৩০শে জানুয়ারী, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। প্রবন্ধটি পরিবর্ধিত আকারে পুনর্লিখিত।)
"প্রেমে বাঁচি, প্রেমেই ধরি, প্রেমেই বাঁধি তোকে ;
মরে গেলে প্রেমের মালা রাখিস আমার বুকে।"*
"আজ সঙ্ঘ পরিবার যে দাবি তুলছে তার অনেকগুলির উৎস গত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের হিন্দু সত্তাসংকটে। হিন্দু মহাসভা বলতে থাকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও হিন্দু সংস্কৃতি সমার্থক। ভারতীয় জাতীয়তাকে হিন্দু জাতীয়তা হতে হবে। সাভারকার বললেন হিন্দুস্থানকে শুধু পিতৃভুমি মানলে চলবে না, পুন্যভূমি বলেও মানতে হবে। এর অর্থ যে মুসলিমরা হবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, তা অনুল্লেখ্য কিন্তু স্পষ্ট।"
----অমলেশ ত্রিপাঠী।
১৯৩৯ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের গুরু গোলওয়াকার এক পুস্তিকায় লেখেন ----
"The non-Hindu peoples in Hindustan must either adopt the Hindu Culture and language, must learn to respect and hold in reverence Hindu religion, must entertain no ideas but those of glorification of the Hindu race and culture. ... In one ward, they must cease to be foreigners, or may stay in the country, wholly subordinated to the Hidu Nation, claiming nothing, deserving no privileges ----- far less any preferential treatment ----- not even citizen's rights."
(---We or Our Nationhood Defined)
বিগত শতাব্দীর সেই ত্রিশের দশকের বিশ্বধংসী বিবাদ। স্লাভ ও ইহুদী জাতিকে অবদমিত করে বিশুদ্ধ আর্যত্বের শ্রেষ্ঠত্ব-ঘোষণা। হিটলার বিষাক্ত শাণিত বক্তব্যে প্রচার করতে লাগলেন সেমেটিক জাতির ষড়যন্ত্রে আর্য জার্মানী বিপন্ন। ভারতেও সেই একই উচ্চারণ, একই ঘোষণা ! আর এস এস-এর মুখপত্রে সেই একই আসন্ন জাতিদাঙ্গার নরমেধ যজ্ঞে ঘৃতাহুতি ! হিন্দু জাতি, হিন্দু সংস্কৃতির, হিন্দু ধর্ম বিপন্ন ! অপরদিকে, প্রথম দশক থেকেই সৈয়দ আহমদের প্রচার। তার আলীগড় দলের দাবী,--- পৃথক নির্বাচন, বিশেষ গুরুত্ব (weightage). নূতন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল কুড়ি ও ত্রিশের দশকে। আরও তীব্র, তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল সাম্প্রদায়িক বিভাজন। এখানে উল্লেখ করা দরকার সেই ১৯০৫/'০৬ সাল থেকেই ইংরেজদের divide and rule. কার্জন, মিন্টো, রিজলেদের চক্রান্ত। ফল হাতে হাতে। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিম লিগ, পরের বছর হিন্দু মহাসভা। (প্রাতিষ্ঠানিক নামকরণ ১৯২১)। এর পরেকার ইতিহাস বিসর্পিল, জটীল এবং অমানবিক।
এইভাবে ভারত স্বাধীন হওয়ার বহু পূর্ব-সময়কাল থেকেই ভারতবাসীর ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের দায় যাঁরা নিয়েছিলেন তাঁদের অবিমিশ্রকারিতা ও অদূরদর্শিতার ফলে সাম্প্রদায়িকতা ধীরে ধীরে এমন এক নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করল যার শেষ, বীভৎস পরিণতি এল ১৯৪৬-সালে। ওই বছর ১৬ই আগষ্ট, ১৯৪৬ মহম্মদ আলি জিন্না 'প্রত্যক্ষ সংগ্রামের' ডাক দিলেন। তিনি ঘোষণা করলেন 'বিভক্ত ভারত অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভারত'। শুরু হয়ে গেল সাম্প্রদায়িক সহবস্থানের শ্মশানযাত্রা। জ্বলে উঠলো দাঙ্গার চিতাবহ্নি। হু হু করে ছড়িয়ে পড়ল সেই নারকীয় লেলিহান শিখা। প্রথমে কলকাতার দাঙ্গা, (the great calcutta killing)। তারপর তা ছড়িয়ে গেল বিহার, বাঙলার পূর্বপ্রদেশ, যুক্তপ্রদেশ (অধুনা উত্তর প্রদেশ), পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে। কলকাতায় মৃত্যু হয়েছিল ৪০০০ মানুষের উপর, গৃহহীন লক্ষাধিক। এবং তারপরই সমুহ সর্বনাশ --- বাঙলার ইতিহাসের বিভীষিকা নোয়াখালীর গণসংহার---- লুণ্ঠন, নারীধর্ষণ, শিশু-কিশোর-তরুণ-বৃদ্ধদের নির্বিচারে হত্যা ---
"Great Naoakhali massacre: In October and November 1946 the historical massacre, rapes and abduction -- one of the cruelest forms of Riots happened in human civilization, with bladed weapons, arson, looting and forced conversion. Around 50,000 people were marooned on the holy day of Kojagori Lakshmi Purnima."
যা ভারতের বুকে দুর্মোচনীয় ভেদরেখা এঁকে দিয়ে দিয়ে গেল চিরকালের জন্য। দাঙ্গা বন্ধ করার তাগিদ নিয়ে, দাঙ্গাবিধ্বস্ত মানুষের আর্তনাদ শোনার আন্তরিকতা নিয়ে, দেশের কোন হিন্দু বা মুসলমান নেতৃত্ব যান নি সেদিন। গিয়েছিলেন আশাহত, বিধ্বস্ত বৃদ্ধ গান্ধী আর দেশের মাতৃসমা নারীনেত্রী সুচেতা কৃপালিনী। কিন্তু তাঁদের দৌত্যও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল কেননা গান্ধীজীর অনুপস্থিতিতেই কংগ্রেস তখন মেনে নিয়েছিল দেশভাগ। মারণলিপ্সার নরমেধ যজ্ঞে পূর্ণাহুতি ! বাঙলা আর পাঞ্জাবের উদ্বাস্তুদের জীবন হয়ে উঠল জীবন্ত নরক।
বাঙলার এই মর্মান্তিক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির অবকাশ এখানে নেই। এই ঐতিহাসিক হিংসার প্রতিহিংসা, আবারও হিংসা এবং এই নারকীয় মানবাত্মার আত্মহনন আবার কখনো কোথাও যেন না ঘটে যুদ্ধ তো তার জন্যই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়েছে কতটুকু ? উপরন্তু সেই নিভে যাওয়া চিতায় কলস কলস গরলভর্তি জ্বালানি ছড়িয়ে দেওয়া চলেছে পৈশাচিক উন্মত্ততায়, যার উচ্চকণ্ঠের রণহুংকারে ক্ষীণ হয়ে এসেছে মানব-প্রেমের বীণার ধ্বনি। (একটি স্বতন্ত্র প্রবন্ধে সেটি লেখার ইচ্ছা রইল)।
" দেশ স্বাধীন হল, দেশভাগ হল --- রেখে গেল কি গ্লানিময় পঙ্কসয্যা ---- দেশ হারাবার, প্রিয়জন বিচ্ছেদের, গণহত্যা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনের কী দুর্মর দুঃস্বপ্ন ! এই দুঃস্বপ্নের দুর্মোচনীয় অভিশাপ ভারতের ধর্মীয় রাজনীতিকে পরিপুষ্ট করছিল, (আজও করে চলেছে)।
গান্ধীর দিকে আঙুল তুলে সেদিন আর এস এস বলেছিল, 'হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কথা বলে দেশের প্রতি সবচেয়ে বিশ্বাঘাতকতা করেছেন তিনি।''
তাই কি 'হিন্দুদের ঈশ্বরের দূত' হয়ে এসেছিলেন তিনি, যিনি তাঁকে তাঁর উন্মুক্ত বুকে গুলি করলেন প্রার্থনা মন্দিরে ? যুগ যুগ আচরিত সনাতন ধর্মের ফরমান নিয়ে ? অহিংসার পূজারীর শোণিতার্ঘ্য দানের পরেও কি দেশমাতৃকার আরও বলি চাই ? আরও রক্তাঞ্জলি ?!
সে দিনের পর থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত দেশের বিধাতৃ যাঁরা, ঈশ্বরের দূত যাঁরা, তাঁরা গান্ধীজীর জন্মদিনে, মৃত্যুদিনে তাঁর সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক রাখেন, মালা দেন, নীরবতা পালন করেন। তা অনুতাপের, না স্বস্তির ? বোঝা যায়না।
বোঝা না গেলেও এটুকু উপলব্ধি করা যায় যে 'হিন্দু' আর 'মুসলমান' এই শব্দ দুটিকে দুটি সম্প্রদায়ের 'প্রতিনিধি' করে রঙ্গমঞ্চে এক ভয়ঙ্কর ও উত্তেজনাকর যাত্রাপালা আরম্ভ হয়েছে আবারও। এই যাত্রাপালার কুশী-লবদের দুটি পক্ষ। এক পক্ষ 'সনাতনী' বা 'হিন্দু' নামে, অপরপক্ষ 'ইসলাম বা মুসলিম বা মুসলমান' বলে নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণা করেন।
গভীরভাবে যদি এই কুশী-লবদের বাস্তবজীবনের আলোচনা করি তবে দেখব তাদের উভয়েরই জন্মভূমি, কর্মভূমি একই ; সাধন ভূমি, অর্থাৎ জীবনাচরণের ঠাঁইও এক। জন্ম এই মাটিতে এবং ছাত্রাবস্থা, গার্হস্থ্য, প্রৌঢ়ত্ব বার্ধক্য পেরিয়ে একই মাটিতে--- চিতায় বা কবরে শেষ আশ্রয়। তাহলে 'হিন্দু' ও 'মুসলিম'- দের মধ্যে এই বিদ্বেষ, বিভাজন ও হিংস্রতার কারণ কি ? কারণ ধর্মকে অস্ত্ররূপে, পন্যরূপে, শোষণের জাদুদণ্ডরূপে ব্যবহার করবার প্রবনতা।
(এ বিষয়ে বিশদে আলোচনা আছে মৎরচিত 'ধর্মসংকটের বলি মানবতা' প্রবন্ধে, গ্রন্থ-- 'বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন'।)
আধিপত্য বিস্তারের প্রয়াসে ধর্ম কিভাবে রাজা, সম্রাট, রাজনীতির নায়কদের তথা শাসকের হাতের অস্ত্র হয়ে উঠেছিল (এবং উঠেছে) তার অমানবিকতার, নির্মমতার ইতিবৃত্ত রোমান ক্যাথলিকদের 'ইনকুইজিশন'- এ, ক্রুশেড যুদ্ধের সময়কালে এবং খ্রীষ্টান রাজশক্তির ক্রমসম্প্রসারণের উদগ্র অভিযানে সভ্যতার কলঙ্কিত কালিমায় লিপিবদ্ধ আছে। বিশেষ করে এশিয়ার ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলিকে শাসনে, ত্রাশনে রাখার জন্যে, শোষণের শাসনতন্ত্র কায়েম করবার উদ্দেশ্যে ধর্মকে অস্ত্র হিসাবে যেভাবে তারা ব্যবহার করেছে তাতে সে সকল দেশের কত যে অবোধ প্রাণ, মৌলিক সংস্কৃতি, ভাষা ও আদিম সমাজব্যবস্থা ধংস হয়ে গিয়েছে তার ইয়ত্তা নাই।
আর আমাদের দেশে এই দুটি জাতির ধর্মবিশ্বাসের মধ্যে সহনশীল সহবস্থানের চেষ্টা চলেছে প্রায় এক হাজার বছর ধরে। দুটি ধর্মধারণার কঠোরতা ভেঙে, মিলনাত্মক ধর্মবোধের সৃষ্টিও হয়েছে, (যেমন পীর, সত্যপীর, ফকিরী, মুরশেদী, আউল বাউল প্রভৃতি---) কিন্তু ধর্মগুরুদের, ধর্মের মোরসীপাট্টা যাদের হাতে, তারা তাদের নিহিত বা কায়েমি স্বার্থের চিরকালিন প্রভুত্ব হারাবার আতঙ্কে ধর্মের বিচারহীন মৌলবাদি কাঠামোটিকে রক্ষা করবার অজুহাতে, প্রচ্ছন্ন বা অপ্রচ্ছন্নভাবে ঐ মানবিক মিলনপ্রয়াসী লোকায়ত ধর্মভাবগুলির বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর আঘাত হেনেছে, যুগে যুগে। এই আঘাত দুই দিক থেকে। প্রথম রাজা বা শাসনতন্ত্রের সাহায্য নিয়ে ; আর দ্বিতীয় সামাজিকভাবে ঘৃণা ছড়িয়ে এবং হিংস্র অত্যাচারের মাধ্যমে।
দূর বা অনতিদূর ইতিহাস স্মরণে না এনেও একেবারে বর্তমান ভারতবর্ষের প্রক্ষাপটে বিচার করলে স্পষ্ট হয়ে উঠবে এই ভয়ঙ্কর সত্য। ভারতবর্ষের অভ্যন্তরিণ সমাজ পরিবেশে হিন্দুত্বের উগ্র উন্মাদনাপ্রসূত অ-হিন্দুদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন এবং বহিরাগত ঐশ্লামিক কট্টরপন্থীদের দ্বারা নিরস্ত্র, নিরীহ, পর্যটকদের অচিন্তনীয় বিভীসিকাময় গণহত্যা।
এই যে বিদ্বেষ ও ঘৃণা, হিংসা ও হত্যা --- উক্ত ধর্মগুলির শাস্ত্রও নাকি সমর্থন করে। শুধু সমর্থনই করে না, পুরস্কারের প্রতিশ্রুতিও দেয়। যারা নিজ নিজ 'ধর্ম'কে ঐরূপ নির্দয়তার সঙ্গে পালন করবে তাদের জন্য মহান স্রষ্টা বা দেবতা ও দেবতারা চিরবসন্তবিরাজিত, জরা-মৃত্যু-ব্যাধিহীন, ভোগবিলাসের উপকরণসমন্বিত অক্ষয় স্বর্গলাভের ব্যবস্থা করেই রেখেছেন।
এমত বিশ্বাস যদি ধর্মবিশ্বাসীদের মনের মধ্যে একবার দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়ে যায় তবে তাদেরকে প্রতিহত করা, প্রতিরোধ করা দুরূহ ; স্বয়ং ঈশ্বর (যদি নিখিল বিশ্বের অনাবিস্কৃত কোন জ্যোতিরর্মণ্ডলে থেকেও থাকেন) ধরাধামে সকায়ে অবতীর্ণ হলেও তাঁর পক্ষেও সম্ভব হবে না। তিনিও নির্ঘাত ব্যর্থ হবেন ; যেমন ব্যর্থ হয়েছেন মানব চৈতন্যের মূর্ত মূর্তি গৌতম বুদ্ধ, জৈনমুনি, মুশা-ঈশা-মহম্মদ, শ্রীচৈতন্য, শ্রীরামকৃষ্ণ তেমনই ব্যর্থ অহিংসার পূজারী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
তেমনই আবার আমাদের, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-হারা যারা, তাদেরও ক্ষীণ, রুগ্ন, সন্ত্রস্ত মানবিক প্রার্থনা অশ্রুতই থেকে যাবে আততায়ীর বুলেট-বোমা-বারুদের কর্ণবিদারী মারণনাদের তান্ডবে।
নিয়তি কেন বাধ্যতে।
অস্ত্রহীন সংগ্রামের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চিরদিনই জয় পেয়েছে, অস্ত্রহীনকে হত্যা করে জয় পেয়েছে, অস্ত্রহীনের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিনষ্ট করে জয় পেয়েছে। কিন্তু যে নিরস্ত্র, যে নিষ্প্রাণ হয়ে গেল, তার জন্য মানুষের করুণা এবং অস্ত্রধারী ঘাতকের প্রতি ঘৃণা জেগে ওঠে। এটিই মানবতার ধর্ম বা মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা। হাজার হাজার বছরের ইতিহাস বলে যে মানবসভ্যতার কলঙ্কিত ঘটনাগুলির মধ্যে সর্বপ্রধান যে ঘটনা তার হোল যুদ্ধ। যুদ্ধ কেন হয় তার অসংখ্য কারণ আছে। এই ভারত নামক উপমহাদেশের অভ্যন্তরে রাজায় রাজায় যুদ্ধ, যুগ যুগ ধরে গ্রীক-পারসিক,'শক্ হুনদল পাঠান মোগল'- দের বহিরাক্রমণ, ফরাসি-ইংরেজদের ঔপনিবেশিক দখলদারী -- কেন হয়েছিল সে সবের শত-সহস্র হেতু ঐতিহাসিকগণ গবেষণা করেছেন, করছেন এবং আগামী কালেও করবেন। কিন্তু সে সবের ক্ষয়-ক্ষত-ক্ষতির দগদগে ঘা-য়ের যন্ত্রনা নিরীহ মানুষের আপাত নির্দ্বন্দ্ব সমাজকে ভোগ করতে হয়, ভোগ করতে হয়েছে, ভোগ করতে হবে। 'সভ্যতার' নিয়তি। কিন্তু ওই যুদ্ধের 'শত সহস্র কারণ'-গুলির মধ্যে যখন 'ধর্ম', জাত্যাভিমান, রাষ্ট্রের একাধিপত্যের অভিমান উগ্র হয়ে ওঠে তখনই রক্তপাতের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যা হয়েছে ইউরোপখণ্ডের মধ্যেযুগের ধর্মযুদ্ধে, (খ্রিস্টান-অখ্রিষ্টান, ক্যাথলিক-ইহুদি, খ্রিস্টান-ইসলাম)। অন্যদিকে জাত্যাভিমান ও জাতিগত রাষ্ট্রের একাধিপত্যের অভিমান 'বিশ্বসভ্যতাকে' অসভ্য বর্বরতার দিকে নিয়ে গিয়েছে এবং এখনও সেই নৃশংসতার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর দিকে দিকে দৃশ্যমান। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পৃথিবী নামক গ্রহটির ভূভাগে সঞ্চিত, প্রকৃতিজাত, প্রাণ ও প্রাণীসম্পদ লুণ্ঠনের ভয়ানক প্রতিযোগিতা।
এই যে বিশ্বব্যাপী সংঘাত, তার কি নিরসন বা প্রশমন হওয়ার সম্ভাবনা আছে ? এক বাক্যে, নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায় "নেই"। কেন নেই ? তার কারণ বিচার করে দেখুন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশ জুড়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র নির্মাণ, অস্ত্র আমদানি ও অস্ত্র রপ্তানির নির্বিবেক আস্ফালন। ভাবা গিয়েছিল, গত শতাব্দীর মধ্যভাগে, যখন জার্মানি, জাপান, পোলান্ড, রাশিয়া, অষ্ট্রিয়া --- মহাভারতের যুদ্ধশেষে কুরুক্ষেত্রের শব-আকীর্ণ বধ্যভূমির মত নরনারী শিশুদের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল, তখন হয়তো বিশ্ববিবেকে এমন সন্তাপ সৃষ্টি হবে যাতে বিজ্ঞান গবেষণাগারগুলিকে, দূর ভবিষ্যত পর্যন্ত আর মানবপ্রাণের কষায়খানায় পরিনত করা হবে না। কিন্তু তা হয়েছে কি ? হবে কি?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আউৎউইৎসের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, মৃত, অর্ধমৃত, পঙ্গু সৈনিক, সাধারণ মানুষের (শিশু কিশোর বনিতা বৃদ্ধদের), যা সমকালের ঐতিহাসিকেরা মোটামুটিভাবে পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন -- সেই নরকের অস্পষ্ট ও সামান্য ছবি দেবার চেষ্টা করেছি আমার পূর্বতন "বিন্দুতে সিন্ধুদর্শন --১ম খণ্ড" গ্রন্থে।
এখানে সেই ইতিবৃত্তের পুনরাবৃত্তি না করে বলি কেন 'গান্ধীদের' এই ধরাধামে আগমন ঘটে এবং কেনই বা তাঁদের নিধন করা হয় ?
(প্রশ্নের উত্তর দ্বিতীয় পর্বে)
* জয়দেব কেন্দুলীর এক বাউলভাইয়ের অনুরোধে আমার লেখা একটি বাউল গানের প্রথম দুটি কলি।
( ক্রমশঃ)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১১শে জানুয়ারী,২০২৬
কলকাতা।
___________________________________________
গান্ধী একজন লম্পট, মিথ্যাবাদী, হিন্দু বিদ্বেষী সম্বন্ধে কিছু বলতে আমার ঘৃণা বমি উদ্রেক হয়।
উত্তরমুছুনএত ঘৃণা বুকে নিয়ে বাঁচব কি করে ?
উত্তরমুছুনঅসাধারন
উত্তরমুছুন