বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় অর্জুন -১


শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় অর্জুন-১

শ্রীমদ্ভগবত গীতা বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম দার্শনিক মহাগ্রন্থ। শ্রীগীতা ধর্মগ্রন্থ --- এ কথাও ঠিক, কিন্তু এই সংহিতা যে মানবধর্মের উদ্ঘোষণা করেছেন তা কোন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মধারণা নয়। নয় কোন সম্প্রদায় বিশেষের ধর্মীয় মতামত বা শ্রুতি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমুখনিঃসৃত, মহাকবি বেদব্যাস কর্তৃক সংকলিত, আঠারোটি অধ্যায়ে বিদ্ধৃত মহাবাণী সমূহের মর্মকথা সমগ্র মানবজাতির জন্য। জীবাত্মার নিয়ত ও নিরন্তর সাধনা পরমাত্মার সঙ্গে তার মিলন হোক্, আর পরমাত্মা যিনি, স্রষ্টা যিনি তিনি ইচ্ছা করেন মানবাত্মার সঙ্গে লীলাবিলাসে তিনিও একাত্ম হবেন। "তুমি আছ মোরে চাহি, আমি চাহি তোমা পানে।" কিন্তু কি ভাবে মানব সত্তার এমন পূর্ণতা লাভ সম্ভব সেই ক্রমোত্তরণের পন্থাই দেখিয়ে দিয়েছেন জীবনরথের সারথি শ্রীকৃষ্ণ সখা অর্জুনকে।
এই মহাভারতীয় কাহিনী সকলের জানা। শুধু ভারতবর্ষের নয়, বিশ্বের সুধীসমাজ জানেন কখন কোথায় এই ভাগবতী বাণী উদ্ঘোষিত হয়েছিল। সে বিবরণ অতি সংক্ষিপ্ত আকারেই আছে শ্রীগীতার প্রথম অধ্যায়ে। আর এই প্রথম অধ্যায়টিই বিশেষভাবে আজ আমাদের আলোচ্য। 

প্রথম অধ্যায়ে কি আছে ?
কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস বিরচিত মহাকাব্য বা ইতিহাস এইভাবে আরম্ভ হয়েছে যে, অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র সঞ্জয়ের কাছে জানতে চাইলেন, 

"ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযু্ৎসবাঃ।
মামকা পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়।।" 

হে সঞ্জয়, তুমি বল, ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে আমার ছেলেরা (আমার পক্ষের যোদ্ধারা) এবং পাণ্ডুর ছেলেরা (পাণ্ডব পক্ষের যোদ্ধারা) সমবেত হয়ে কি করল। এরপর সঞ্জয়  আনুপূর্বিক ও যুদ্ধান্তিক পর্যন্ত সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপঙ্খ  বর্ণনা ধৃতরাষ্ট্রকে দিয়ে যেতে লাগলেন।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধারম্ভের বিনষ্টিকাল আসন্ন। রণাঙ্গণে কুরুপক্ষ ও পাণ্ডবপক্ষের বিপুল সৈনবাহিনীর সমাবেশ ও বিন্যাস। রণাঙ্গণের একপ্রান্তে দুর্যোধনসহ সমস্ত কৌরবসৈন্য এবং দ্রোণ, কৃপাচার্য আদি সেনাপতিবৃন্দ। সর্বপ্রথম দেখা গেল দুর্যোধন দ্রোণাচার্যের নিকট যাচ্ছেন। পাণ্ডবসেনাদের দেখবার জন্য গুরু দ্রোণাচার্যের অনুমতি প্রার্থনা করছেন। এবার পাণ্ডব সৈন্যবাহিনীতে যাঁরা যাঁরা রয়েছেন সে সমস্ত মহেষ্বাস--- ভীম অর্জুনসহ পঞ্চপাণ্ডব, বিরাট দ্রুপদ প্রভৃতির নাম জেনে নিলেন দুর্যোধন গুরু দ্রোণাচার্যের কাছ থেকে এবং একই ভাবে গুরু দ্রোণাচার্যের কাছ থেকে জানলেন ও তাকে জানালেন স্বীয় সৈনবাহিনীর প্রধান প্রধান রথী মহারথীদের নাম। দুর্যোধন নিজের সেনাদের প্রশংসা করতে লাগলেন এবং সে দিনের সেনাপতি ভীষ্মকে রক্ষা করবার জন্য দ্রোণাচার্যকে ও অপরাপর বীরদেরকে অনুপ্রাণিত করলেন। এমন সময় দুর্যোধনকে প্রসন্ন করবার উদ্দেশে সিংহনাদ সহকারে কুরুবৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্ম শঙ্খ বাজালেন। উভয়পক্ষের সমরাহ্বান ঘোষিত হোল। বিভীষণ শঙ্খরব, রণবাদ্য ধ্বনিত হোল। (পাণ্ডু নন্দন পাঞ্চপাণ্ডবের সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পাঞ্চজন্যও উদ্ঘোষণা করেছিল এই মহাযুদ্ধের, এটি স্মরণে রাখতে হবে)।

এবার (সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে জানাচ্ছেন) দুর্যোধনের সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত দেখে রথী অর্জুন সারথি শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণিত করছেন এই বলে,
"সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে রথং স্থাপয় মেহচ্যুত ।।"
হে অচ্যুত, উভয় সেনার মধ্যভাগে আমার রথ স্থাপনা কর। 


(প্রথম অধ্যায়ে এই প্রথম আরম্ভ হোল কৃষ্ণার্জুনের কথপোকথন ; আর এটিই আমাদের আলোচনার বিষয় । শ্রীমৎ ভাগবতের গূঢ়, গুহ্য যোগ সাধনার বা বেদ ও উপনিষদের ভিতর নিহিত, ভগবানের মুখপদ্ম নিঃসৃত গভীর, আদি-অন্তহীন ব্রহ্মতত্ব বিষয়ে আলোচনা যুগ যুগান্তর ধরে ব্রহ্মবিদ ঋষি, সাধক-মহাত্মা, বিদ্বান ও পণ্ডিত এবং দেশের ও বিশ্বের মহান গবেষকবৃন্দ করেছেন, করে চলেছেন। তারা গীতারূপ অমৃত পান করেছেন ও করেন। কেননা গীতা ''সুধীর্ভোক্তা"। কিন্তু সাধারণ্যে, সামাজিক বা পারিবারিক ধর্মাচরণের অনুষ্ঠানে, শ্রাদ্ধ শান্তি উপনয়ন ইত্যাদি সংস্কার পালনের সময়কালে গীতার বাণী যখন উচ্চারিত হয় তখন আমাদের মনে যেসব ভাব ও ভাবনার উদয় হয় তাইই প্রকাশ করবার অভিলাষে কিছু কথা বলা। আর সেই কথাগুলি, একান্তভাবেই কৌন্তেয় তৃতীয় পাণ্ডবের প্রশ্নসমূহে অভিব্যক্ত হয়েছে।)
তারপর উভয় সেনার মধ্যভাগে রথ স্থাপিত করে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কৌরবসৈন্যবাহিনী দেখবার অনুমতি দিলেন। 

তত্রাপশ্যৎ স্থিতান পার্থঃ পিতৃনথ পিতামহান্।
আচার্যান মাতুলান ভ্রাতৃন পুত্রান্ পৌত্রান সখীংস্তদা।।
শ্বশুরান্ সুহৃশ্চৈব সেনয়োরুভয়রপি।
তান সমীক্ষ স কৌন্তেয়ঃ সর্বান্ বন্ধুনবস্থিতান্।
কৃপয়া পরয়াবিষ্টো বিষীদন্নিমব্রবীৎ।।‌ 

প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীর সমাবেশস্থলে এমত আত্মীয় স্বজন বন্ধু পরিজনদের দেখে বিমর্ষ বিষাদগ্রস্ত অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে বলছেন, এই (যুযু্ৎসবাঃ) যুযু্ৎসুগনকে দেখে সীদন্তি মম গাত্রাণি মুখং চ পরিশুষ্যতি --- আমার সকল অঙ্গ অসাড় হয়ে আসছে, মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে, শরীর অজানা ভয়ে কম্পিত, রোমাঞ্চিত। (দেখ দেখ, সখা) গাণ্ডীব ধনুও শিথিল হস্ত ধরে রাখতে পারছে না, দেহত্বক যেন জ্বলে যাচ্ছে, মনের মধ্যে মহাভ্রম জেগে উঠেছে, স্থির থাকতে করছি না আমি।
হে কেশব, এই বিপরীত লক্ষণগুলি দেখছি আর মনে হচ্ছে যুদ্ধে স্বজনদের হত্যা করে কী কল্যাণ হবে ! না না,‌
"ন কাঙ্ক্ষে বিজয়ং কৃষ্ণ ন চ রাজ্যং সুখানি চ"।‌
রাজ্যলাভ ভোগ সুখ এমন কি জীবনের কি প্রয়োজন !  যাদের ভোগ, সুখ ও শান্তির জন্য আমরা প্রার্থনা করি, তারাই (দেখছি) ধনসম্পদ ও জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধক্ষেত্রেও অবস্থান করছে। না সখা, এই সমস্ত আপনজন ---- আচার্য, পিতা-পিতৃব্য-পিতামহ, মাতুল-শ্বশুর-শালা নাতিদের বধ করতে পারবো না। হে মাধব, এই আত্মজনদের হত্যা করে আমি পৃথিবী কি, ত্রিলোক জয়েরও ইচ্ছা করি না। এই ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণ আততায়ী, তা আমি জানি কিন্তু তবুও তাদের বধ করে তো আমরা পাপকেই আশ্রয় করব। স্বজনদের হত্যা করে কি করে আমরা সুখি হব ? যদিও লোভের দ্বারা ভ্রষ্টচিত্ত (বিবেকহীন) দুর্যোধনসহ কৌরবেরা কুলবিনাশী কাজ করেছে, মিত্রদ্রোহের মত অপরাধেও পাপ দেখেনি, কিন্তু হে জনার্দন, তুমিই বল আমরা, যারা জানি কুলক্ষয়জনিত পাপের কথা, এমত জ্ঞানসম্পন্ন হয়েও সেই পাপ আমরাও করব ! কুলের ক্ষয় হলে যে আমাদের 'আর্যস্মৃতি' অনুযায়ী, কুলধর্ম নষ্ট হয়ে যাবে এবং সমস্ত কুলকে (ভরতকুল)পাপ অভিভূত করবে।  পাপের প্রভাবে কুলস্ত্রীগণ দোষযুক্ত হবেন। হে বৃষ্মিনন্দন, তুমি জানো,
"স্ত্রীষু দুষ্টাসু জায়তে বর্ণসঙ্কর"--স্ত্রীগণ দুষ্ট (পরভোগ্যা) হলে বর্ণসঙ্কর উৎপন্ন হওয়া অবশ্যম্ভাবী এবং বর্ণসাঙ্কর্য্য সংঘটনের ফল নরকপ্রাপ্তি। তখন গতপ্রাণ পিতা পিতামহ, মাতা মাতামহ আদি পূর্বপুরুষগণ পিণ্ড ও জল (শ্রাদ্ধক্রিয়া বিহিত তর্পন) থেকেও বঞ্চিত হবেন। জাতিধর্ম কুলধর্ম কিছুই থাকবে না। হে জনার্দন, কুলধর্ম নাশে প্রয়াত পূর্বতনদের যে অনন্ত নরকপ্রাপ্তি ঘটবে। এ যে মহা পরিতাপের বিষয় ! আমরা রাজ্যলোভে, (জাগতিক) সুখের লালসায় ঘোর পাপের কর্ম, আপন আত্মজনকেই বধ করতে চলেছি। (এখন মনে হচ্ছে) প্রতিকার-করবার -ইচ্ছারহিত , নিরস্ত্র এই আমাকে শস্ত্রধারী ধার্তরাষ্ট্রগণ যদি রণভূমিতে হত্যাও করে তাও আমার কাছে কল্যাণকর। 

এই কথাগুলি উচ্চারণ করে---
এবমুক্ত্বার্জুন সংখ্যে রথোপস্থ উপাবিশৎ। 
বিসৃজ্য সশরং চাপং শোকসংবিগ্নমানস।।
(স্বজনদের সম্ভাব্য মৃত্যুজনিত) শোকে নিমগ্ন হয়ে অর্জুন ধনুর্বাণ ত্যাগ করে রথের পেছনে বসে পড়লেন।‌


সঞ্জয় এভাবে কুরুক্ষেত্র রণভূমিতে ঘটিত ও ঘটমান জীবন্ত ছবি ধৃতরাষ্ট্রের নিকট উপস্থাপিত করলেন।
শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম অধ্যায় 'অর্জুনবিষাদযোগ'। অর্জুন এখানে মানবতাবাদের পরাকাষ্ঠা। তিনি তাঁর প্রতিটি বক্তব্যের মধ্যে তুলে ধরেছেন যুদ্ধের ভয়ঙ্কর পরিণামের কথা। যেখানে তিনি বলছেন যুদ্ধে অবশ্যম্ভাবীরূপে পুরুষদের মৃত্যু ঘটবে। অনাথিনী নারীরা অন্য বর্ণের পুরুষের অধিগত হবে। ফলে কুলধর্ম নষ্ট হবে। পরিণামে বর্ণসাঙ্কর্য্য। বংশ, গোত্রের উৎস হারিয়ে গেলে প্রয়াত পিতৃপুরষগণের শ্রাদ্ধ তর্পণাদি হবে কি ?
অর্জুনের অনুযোগমিশ্রিত যুক্তিগুলির মধ্যে দিয়ে সমকালের বর্ণবিভাজিত সমাজচিত্রটি গাঢ়রঙে ফুটে উঠেছে। ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্র-- এই চতুরবর্ণে বিশ্লিষ্ট সমাজে ক্ষত্রিয়েরা ছিলেন রাজার বা শাসকের আসনে। সেই কালে উত্তর ও উত্তরপূর্ব ভারতে যতগুলি মহাজনপদ ছিল তাদের মধ্যে মগধ, অঙ্গ, কাশী, কোশল, চেদি, কুরু, পাঞ্চাল, মৎস্য, সুরসেন, গান্ধার--এই জনপদগুলির নাম মহাভারতে (কয়েকটি পূর্ববর্তী মহাকাব্য রামায়ণেও) উল্লেখিত। মহাভারত পাঠকেরা তা জানেন এবং ঐ সমস্ত জনপদের‌ সঙ্গে 'কুরু' জনপদের কি সম্পর্ক ছিল, কৌরববংশের কয়েকজন রাজকুমারের কখন কিভাবে কি প্রকার সম্মন্ধ-বন্ধন ঘটেছিল মহাভারত পাঠকগণ তাও জানেন।
সে সকল রাজ্যের বেশীরভাগ রাজাই কুরুক্ষেত্রে কৌরব পাণ্ডব মহাযুদ্ধে দুই শিবিরেই জড়িয়ে পড়েছিলেন। 

"দেখিতে দেখিতে হল উপনীত
ভারতের যত ক্ষত্রশোণিত
ত্রাসিত ধরণী করিল ধ্বনিত
                প্রবলয়বন্যাগানে।" 

আর্য জনগোষ্ঠী ও সেই সময়কালের ন-আর্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে বর্ণ বিভাজন তাতে ন-আর্য বা অনার্য জনগোষ্ঠী শূদ্রশ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। 'ক্ষত্রিয়' শ্রেণীভুক্ত যারা তারা রাজা, রাজন্যবর্গ ; অর্থাৎ শাসক। ব্রাহ্মণ ও শূদ্র জনগোষ্ঠী, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, এই মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েনি। ক্ষত্রিয় জনগোষ্ঠী যেহেতু আর্যসংস্কার, অর্থাৎ বেদের কর্মকাণ্ডের 'স্মৃতি'- অংশ জীবনাচরণের পালন করে চলত তাই প্রয়াত ('স্বর্গগত' শব্দটির ব্যবহার ছিল) পিতৃপুরুষদের আত্মার স্বর্গকামনায় অন্তেষ্টিক্রিয়া--- যেমন সৎকার, শ্রাদ্ধ ও শান্তি, সপিণ্ডকরণ, বাৎসরিক শ্রাদ্ধ, তর্পন প্রভৃতি পারলৌকিক ক্রিয়াকল্প ও অনুষ্ঠান তাদের অবশ্যকর্তব্য ছিল। বংশ পরম্পরায় এই অনুষ্ঠানগুলি লোকাচারের মধ্যে নয়, 'স্মৃতি'শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ীই করা হোত এই কারণেই যে আর্যজাতি বিশ্বাস করে যে পারলৌকিক ক্রিয়ার অনুষ্ঠানে মৃত্যুর পর মানুষের আত্মার পরলোকগমন সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়, তার স্বর্গলাভের পথ সুগম হয়। ((হিন্দু বা আর্য-ধর্মে পালিত ও অনুসৃত এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান বিষয়টি অতি জটীল। বেদ, ব্রাহ্মণগ্রন্থ ও উপনিষদের অনেকানেক মন্ত্র এই অন্তিম সংস্কারের জন্য একত্র গ্রন্থিত একটি 'আচরণীয়'  সংহিতা। হিন্দু সংস্কারে গীতার শ্লোকগুলি দুঃখ-শোকহরা মহামন্ত্র))। 


বিষাদগ্রস্ত অর্জুন সখা শ্রীকৃষ্ণকে সেই কথাই বলেছেন। তিনি বলছেন এই মহাসমরে পাণ্ডব পক্ষের, কৌরব পক্ষের এবং উভয় পক্ষের যে সকল পক্ষাবলম্বনকারী ক্ষত্র রাজা, রাজপুরুষ ও রাজপুত্র অংশগ্রহন করেছেন তারা যদি মৃত্যুবরণ করে‌ন তবে আমাদের এক বিপুল জনগোষ্ঠীর বংশধারা লুপ্ত হয়ে যাবে। এই যুদ্ধ হবে এমন যে আত্মজনের সঙ্গে আত্মজনের আত্মঘাতী মারণযজ্ঞ। এবং তা নিশ্চিত। তখন স্বামীহারা শত সহস্র ক্ষত্রনারী -- বধূ, কন্যা--- অসবর্ণভোগ্যা হবেই এবং ভারতে এক বর্ণসঙ্কর জাতির সৃষ্টি হবে। 


দোষৈঃ এতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্ণসঙ্করকারকৈঃ।
উৎসাদ্যন্তে  জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাঃ চ শাশ্বতা।।
‌‌‌‌‌                (ক্রমশঃ)


1 টি মন্তব্য:

  1. গভীর এবং গম্ভীর বিষয়ে আলোচনা,,, সতর্কতা অবলম্বন অবশ্যই প্রয়োজনীয় উপকরণ। হয়তো বা এ আলোচনা ও রচনা সমকালীন বাংলা গদ্যের অন্যতম ধর্ম ও জীবনের মিলন ক্ষেত্র হতে চলেছে।।শুভ কামনা রইল,,তাপস নায়েক সোনামুখী বাজার

    উত্তরমুছুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...