বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫

আত্মানুসন্ধান -- পর্ব ২

 আত্মানুসন্ধান 


পুরোহিত মহাশয়ের কক্ষটিতে ঢুকে কেমন যেন একটি অন্যরকম অনুভূতি জাগল। খুশী নয়, অখুশী নয় ; উত্তেজনা ঔৎসুক্য ; আকর্ষণ বিকর্ষণ --- এমন কোন মনোভাব ? না, তাও নয়। মনে হোল কোন পুরাতন মন্দিরের গর্ভগৃহ। একটি মাঝারি আকারের প্রদীপ জ্বলছে। প্রদীপের আলো গিয়ে পড়েছে একটি ঠাকুরের সিংহাসনের উপর। সিংহাসনে দাড়ানো অবস্থায় রাধাকৃষ্ণের যুগলের মূর্তি। বংশীবাদনরত ত্রিভঙ্গ কৃষ্ণের বাম অঙ্গে হেলান দিয়ে শ্রীরাধা। যুগ্মভাবে দু'জনের গলায় একটিই বেলফুলের মালা ঝোলানো। এখনো অমলিন সেই ফুলগুলির মৃদুগন্ধে, ধূনোর ধোঁওয়ায় সেই ঘরটির বাতাস মন্দিরের বাতাসের মতই পবিত্র। মন ভক্তি-আপ্লুত ও প্রশান্তিময় হয়ে উঠল। প্রণাম করলাম নতজানু হয়ে।
উঠে দাঁড়াতেই ঠাকুরমশাই আবারও বললেন, এসো।
এবার ঠিক পাশের ঘরটিতে। ওই ঠাকুরঘরের বামদিকের খোলা দরজা দিয়েই ঢোকা যায়‌। এটিই শেষ। এরপর আর কুঠুরি নেই। বেশ খোলামেলা কক্ষ। দরজা ছাড়া দুটি জানালাও আছে বড় বড়। কোন আসবাবপত্র নেই। দরজা জানালার অংশগুলি বাদ দিয়ে দুখানা লম্বা দেওয়ালের মাঝে থেকে কড়িকাঠ পর্যন্ত কাঠের পাটাতন, পর পর আলমারির মত সাজানো, আর প্রতিটি পাটাতনে বই --- বৃহদাকার থেকে শীর্ণদেহী --- অগুন্তি বই পরিপাটি করে সাজানো। মলাট দিয়ে মোড়া, আর তাদের শিরদাঁড়ায় মোটা মোটা হরপে নাম ; যেমন ঋকবেদ, সামবেদ, ছান্দোগ্য উপনিষদ---- এবং শ্রীমদ্ভগবত  গীতা, শ্রীচণ্ডী, কত সব পুরাণ, রামায়ণ মহাভারত। রয়েছে শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, শ্রীচৈতন্যভাগবৎ -- এমন সব গ্রন্থ।‌ সংস্কৃত ভাষায়ও কিছু কিছু নাম। একটি পড়তে না পারলেও লেখাটি আন্দাজ করে বুঝলাম, গীতগোবিন্দম্। আমি মুগ্ধ দৃষ্টি মেলে বইয়ের তাকগুলো দেখেই চলেছি। ঠাকুরমশাই হয়তো চাইছিলেন যে আমি তাঁর বইয়ের সংগ্রহশালাটি দেখি। তাই বেশ কিছুক্ষণ পরে তিনি বললেন, বোস।
তিনিও বসলেন, মেঝেতেই। কক্ষটির মেঝের অর্ধেকখানি জুড়ে রয়েছে কম্বল পাতা এবং ডান দিকের কোণায়, জানালার নীচে সামান্য উঁচুপায়া কাঠের পিঁড়ি,  যার উপর বই রেখে পড়তে বা লিখতে সুবিধা হয়। যে কম্বল দুটি পাতা আছে সেগুলি বর্তমান কালে আমাদের পরিচিত কম্বল নয়।‌ মেষপালকদের কাছ থেকে কেনা, ধূসর রঙের, চার পাশের পাড় কালো। সমস্তটাই ভেড়ার অকৃত্রিম লোম দিয়ে তৈরী। আমাদের ছোটবেলায় আমরা ওই মেষপালকদের দেখেছিলাম। শীতের সময়কালে, ধান কাটা সারা হলে, বিরাট বিরাট সব ভেড়ার পাল নিয়ে তারা আসত। মেষপালকদের একজন আগে, একজন পালের পিছনে হাঁটত। ভেড়াগুলো, একে অপরের গায়ে গায়ে সেঁটে দৌড়াত, যেন ধূসর ধূলার প্রবাহ (এমন দৃশ্য দেখেই হয়তো গড্ডালিকা প্রবাহ প্রবাদটির সৃষ্টি হয়েছে)। 


যাই হোক সামান্য প্রসঙ্গান্তরে চলে গিয়েছিলাম। আবার ফিরে আসি ঠাকুরমশাইয়ের কাছে। তিনি তাঁর পাঠের আসনে নয়, কিন্তু তার কাছাকাছি, দেওয়াল ঘেঁসে, দেওয়ালে পিঠের ভর রেখে বসেছেন। আমিও বসলাম মুখোমুখি। তিনি মাথা ঝুঁকিয়ে কি যেন ভাবলেন। তারপর মাথা তুলে অত্যন্ত কোমল স্নেহার্দ্র কণ্ঠে বললেন,
বাবা, আমি খুবই খুশী হয়েছি, এই প্রথম কেও একজন আমার কাছে মন্ত্রের অর্থ জানতে চাইলো। কত শত ঘরে শ্রাদ্ধ, শান্তি, উপনয়ন, অন্নপ্রাশন করেছি, এখনো করি ; কিন্তু এই প্রথম তুমি এসেছো মন্ত্রের অর্থ জানবার কামনা নিয়ে। তুমি যে মন্ত্রটির মানে জানতে চাইছো সেটি, শ্রীমদ্ভাগবত গীতার দ্বিতীয় (সাংখ্যযোগ) অধ্যায়ের ২৮তম মন্ত্র। তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন, কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গণে, যুদ্ধারম্ভের প্রাককালে, দেখলেন তাঁকে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে হবে যাঁরা স্বজন এবং গুরুজন, তখন তিনি বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি সখা এবং তাঁর রথের সারথি কৃষ্ণকে তাঁর ঐ যুদ্ধের প্রতি অনীহার কথা বার বার বলতে লাগলেন। যুক্তিপ্রযুক্ত কথা ছিল‌ সেগুলি। তিনি বলেছিলেন, সম্মুখে পরিদৃশ্যমান আপনজন, পিতৃতুল্য পিতৃব্য, পিতামহ, ভ্রাতা, বন্ধু --- এদের সংহার করার মতো মহাপাপ আমি করতে পারবো না। রাজ্যলাভ তো তুচ্ছ, ত্রিলোক জয়ের গৌরবের অধিকারী হলেও আমি এমন কুলবিনাশী যুদ্ধ করতে চাই না। 

এবম্ উক্তা অর্জুনঃ সংখ্যে রথোপস্থ উপাবিশৎ।
বিসৃজ্য সশরং চাপং শোকসংবিগ্নমানস।।
কৃষ্ণকে তাঁর মনের কথা জানিয়ে, শোকাকুল অর্জুন, ধনুর্বাণ ত্যাগ করে রথের পেছনে বসে পড়লেন। 

এটি শ্রীগীতার প্রথম অধ্যায়ের, অর্জুনবিষাদযোগের শেষ কথা। অর্জুনের এই (আত্মীয় স্বজনদের সম্ভাব্য মৃত্যুজনিত) শোক যে নিরর্থক সেইটি প্রতিপন্ন করবার জন্যই ঐ "অবক্তাদীনি ভূতানি..." মহাবাণী উচ্চারণ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। 

দেখ বাবা, গীতা বৈদিক ধর্মধারণার শেষ কথা, সার কথা। বৈদিক ধর্ম, যা সনাতন ধর্ম নামেও অবিহিত তা একটি সহস্রমূল, আকাশব্যপ্ত শাখা-প্রশাখা সমন্বিত বটবৃক্ষ। এই ধর্মরূপ মহাতরু পাঁচ হাজার বা বহু গবেষকদের মতে নূন্যধিক দশ হাজার বছর ধরে বিবর্তিত ও বর্ধিত হয়েছে, হয়ে চলেছে আজও। এই ধর্মের প্রধান দুটি শাখা। একটি কর্মকাণ্ড এবং অপরটি জ্ঞানকাণ্ড। বেদের বা শ্রুতির সংহিতা ও ব্রাহ্মণভাগ কর্মকাণ্ডের বিধি বিধান নিয়ে কথা বলেন আর আরণ্যক ও উপনিষদ ভাগ জ্ঞানকাণ্ড যা জ্ঞানমার্গের কথা বলেন। বৈদিক এই জ্ঞানকাণ্ডের অসীম অভিব্যক্তি ঘটেছে শ্রীমদ্ভগবত গীতায়। গীতাপাঠের মঙ্গলাচরণে বলা হয়েছে, 

সর্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপাল নন্দন।
পার্থ বৎস সুধীর্ভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ।। 

সকল উপনিষদ, এখানে প্রথম ও প্রধান বারটি উপনিষদ, যেমন ঈশ, ঐতরেয়, কৌষীতকী, ছান্দোগ্য ইত্যাদি গৌমাতাস্বরূপ, দোহন করছেন গোপালনন্দন শ্রীকৃষ্ণ, গো-বৎস হলেন পার্থ, সুধীজন সেই দুগ্ধ পান করেন এবং ঐ দুগ্ধ গীতারূপ অমৃত। সমগ্র গীতা গ্রন্থটি তো জ্ঞানের ক্ষীরসমুদ্র, তার প্রতিটি বাণী অমৃতময়। কিন্তু সেই অমৃত পান করবার অধিকারী হতে হয়। আমি সে অধিকার অর্জন করতে পারিনি বাবা। আমি পৌরোহিত্য করি পেটের দায়ে। তবে তুমি যখন জানতে চেয়েছো, তখন যতটুকু বুঝতে পেরেছি ততটুকুই বলি।
এরপর ঠাকুরমশাই যা বললেন তার মর্মার্থ সত্যেই অতি গভীর। ভূত অর্থাৎ যা অতীতে ছিল তা অব্যক্ত, অপ্রকাশিত ছিল। অদৃশ্য, অস্পর্শ, অবিজ্ঞাত ছিল। আমাদের জন্মের পূর্বকালটি আমরা জানিনা। আবার আমাদের শরীরের নিধনপরবর্তী কালও আমাদের  অজানা। আমাদের এই দেহ-মন-প্রাণ সমন্বিত যে অস্তিত্ব তার আগের অবস্থা অব্যক্ত এবং পরের অবস্থা-- তাও অব্যক্ত। অথচ দুটি অবস্থাই, যা ছিল এবং যা হবে, অনস্বীকার্য। দুটি অপ্রকাশিত অবস্থাই সত্য। একটি সম্ভাবিত ছিল যা ঘটেছে, আর একটি অবশ্যম্ভাবী যা ঘটবেই। অতএব মধ্যবর্তী সময়কালে, শরীরী অবস্থায় প্রাণীর যে অস্তিত্ব তা তো অনিত্য। এই অনিত্য, ক্ষণস্থায়ী আমাদের যে দেহীরূপ, তার জন্যে শোক করা বৃথা।
এরপর ঠাকুরমশাই বললেন,
দেখ, আমি যা বললাম তা ঐ শ্লোকটির সাধারণ অর্থ মাত্র। এই 'অব্যক্ত' বিষয়টি বোঝানো যায়‌ না। জ্ঞানী, বিদ্বান ও সাধক যাঁরা তাঁরাই এই অব্যক্ত, অপ্রকাশিত, অদৃশ্য, অস্পর্শিত অবস্থাটি উপলব্ধি করেন।
এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তাক থেকে একটি বই পেড়ে, ধুলো ঝেড়ে আমার হাতে দিয়ে বললেন,
--- বইটি পড়, অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে।‌ 


এর মধ্যে দশ দশটি বছর পেরিয়ে গিয়েছে। বছর পাঁচেক আগে গ্রামও ছেড়েছি। তবে যতদিন গ্রামে ছিলাম পুরোহিত মহাশয়ের আমি ছাত্র হয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে গিয়েছি, যে বই দিয়েছেন, যে পড়া দিয়েছেন তা পড়েছি ধ্যানস্থ হয়ে। বুঝতে পারিনি, তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন বার বার, দীর্ঘ সময় ধরে। সংস্কৃত ভাষাও শিখেছি যৎসামান্য এবং দুটি ব্যাকরণ বই আমাকে সম্পূর্ণ দান করে বলে দিয়েছিলেন,
--- এগুলি রোজ পড়বে।
গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছিলাম যে দিন, সে দিন সারাটি পথ একটি ভাবনাই মনের মধ্যে জেগেছিল যা একাধারে আনন্দ ও বেদনার। 'আনন্দ' অজানা জগত আবিস্কারের, আর 'বেদনা' সেই জগত ছেড়ে আসার। অতীত ভারতবর্ষের জ্ঞানসাধনার যে জগত, তার ব্যাপ্তি, তার গভীরতার যে সামান্য পরিচয়, ঠাকুরমশাইয়ের সান্নিধ্যে আমি লাভ করেছিলাম সেটি আমার জীবনের নূতনতর বোধের জগৎ, অযাচিত পরমধন প্রাপ্তির আনন্দ। আর বেদনাবোধ এই কারণেই যে সেই জ্ঞানতাপসের অপূর্ব ব্যাখ্যা আর শুনতে পাবো না।

তাঁর কাছ থেকে চলে আসার কয়েকদিন আগে তিনি বলেছিলেন,
বেদ, বেদাঙ্গ, বেদান্ত বা উপনিষদ এবং পুরাণ ও স্মৃতিশাস্ত্রের কথা আমি যৎকিঞ্চিৎ জানি, সে সকল কিছু তোমাকে বলেছি। এবার তুমি মহাগ্রন্থ শ্রীগীতা পাঠ কর। ভগবান বেদব্যাস সঙ্কলিত, স্বয়ং পরমেশ্বর মুখনিঃসৃত ঐ মহাবাণীগুলির অর্থ প্রকাশিত হবে। তবে আমার গুরুদেব ঐ তোমার প্রথম জিজ্ঞাসার মন্ত্রটির বিষয়ে যা বলেছিলেন সেটি তোমাকেও জানিয়ে দিতে চাই। তাঁর মত ছিল এই যে, আমাদের ব্যক্ত জীবনের ঐশ্বর্য তো কম কিছু নয়। শ্রীকৃষ্ণ সেই দিকটির অভিমুখেই ইঙ্গিত করেছেন। বিষাদগ্রস্ত হয়ে, কর্মহীন, জীবনধর্মবিমুখ হলে তো 'পুরুষাকার'ই বিনষ্ট, কালপ্রাপ্ত হয়। জীবনের মূল্য তখনই নিরূপিত যখন কর্মসাধনের মধ্যে দিয়ে জীবন চরিতার্থতা লাভ করে। আমাদের প্রতিটি জীবন কুরুক্ষেত্রের সমরপ্রাঙ্গন। গীতার বাণী শুধুমাত্র অর্জুনের উদ্দেশেই উদ্ঘোষিত হয় নি ; এ বাণী সকল মানবের জন্যই উচ্চারিত। 

যে দিন তিনি বললেন, "গীতার বাণী সকল মানবের জন্যই উচ্চারিত",--- সেই দিন থেকে আমার মনে হোল আমার ভাবনার অন্ধকার ঘরে তিনি প্রদীপশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছেন। এতদিন নিজেকে বিবিক্ত করে মহাভারতের কুরুক্ষেত্রে নিজেকে স্থাপনা করেছিলাম। যুদ্ধারম্ভের প্রাককালে সমরাঙ্গনের একপ্রান্তে কল্পনার দৃষ্টিতে দেখছিলাম বক্তা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রোতা অর্জুনকে। এখন মনে হোল সেই ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রের মহারণ, মহাদ্বন্দ্ব তো আমার অন্তরেই নিয়ত ঘটে চলেছে। আমার অন্তরই তো সেই কুরুক্ষেত্র যেখানে হিংসা দ্বেষ ক্রুরতা ছলনা কপটতা  পরশ্রীকাতরতা লালসা কায়া ধারণ করে ছায়াশত্রুদের সঙ্গে নিরন্তর যুদ্ধ করেই চলেছে। পার্থিব সম্পদ কামনার‌ অগ্নিকুণ্ড নিজের অন্তরেই জ্বালিয়ে রেখেছি অহোরাত্র। সেই অগ্নিকুণ্ডে ছাই হয়ে যায়‌ স্নেহ প্রেম দয়া মায়া। কপট পাশায় পরাজিত পাণ্ডবদের বনবাসে পাঠিয়ে দুর্যোধন পিতা ধৃতরাষ্ট্রকে বলেছিলেন,
সুখ চাহি নাই মহারাজ ---
"জয় ! জয় চেয়েছিনু, জয়ী আমি আজ।
ক্ষুদ্র সুখে ভরে নাকো ক্ষত্রিয়ের ক্ষুধা
কুরুপতি ! দীপ্তজ্বালা অগ্নিঢালা সুধা
জয়রস, ঈর্ষাসিন্ধু মন্থনসঞ্জাত ,
সদ্য করিয়াছি পান --- সুখী নহি তাত
অদ্য আমি জয়ী।.।.." 

ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকারে হলেও এই প্রকার ঈর্ষাসিন্ধু নিত্য  আমাদের চিত্তদেশে ছোটবড় ঢেও তুলে বিরাজ করছে। এবং তাই থেকে জন্ম নিচ্ছে অতৃপ্তি। আর এই অতৃপ্তিই সকল দ্বন্দ্বের উৎসভূমি ---- কুরুক্ষেত্র।
আমাদের মানস কুরুক্ষেত্র প্রাঙ্গনে বেজে উঠুক পাঞ্চজন্য, কম্বুকণ্ঠে ধ্বনিত হোক্ চৈতন্যজগতের মহাগীত, অজ্ঞানতিমিরান্ধ মানবসত্তার ক্ষণকালের অস্তিত্ব জ্ঞানালোকে দ্যুতিময় হয়ে উঠুক। ভগবানের শ্রীমুখনিঃসৃত গীতধ্বনিময় মহামন্ত্রসমূহ শ্রবণ করার পর 'নষ্টমোহ' কুন্তীনন্দন আত্মসমর্পণ করলেন। হে জীবনবল্লভ,  আমার মানসলোকে আমৃত্যু জ্যোতির্ময় হয়ে বিরাজ করুন কৃষ্ণার্জুনের যুগলমূর্তি ---- যুক্তকর, নতজানু, আনতমস্তক জগতসংসারের চিরসারথির উদ্দেশে‌ রথী ভারত (পার্থ) নিবেদন করছেন,  

"নষ্টমোহঃ স্মৃতির্লব্ধা তৎপ্রসাদাৎ ময়াচ্যুত।
স্থিতোহস্মি গতসন্দেহঃ করিষ্যে বচনং তব।।" 

হে অচ্যুত, (অবিনাশী) আপনার কৃপায় আমার মোহান্ধকার দূরিভূত হয়েছে, আমার স্মৃতি জাগ্রত হয়েছে (আমার আরব্ধ ও প্রারব্ধ কি তা জেনেছি) সংশয়মুক্ত হয়ে স্থিত হয়েছি। (এখন থেকে) আপনার আজ্ঞাই পালন করব --- করিষ্যে বচনং তব।
বিশ্বমানবসংসারে তাঁর কৃপা বর্ষিত হোক্ --- এই প্রার্থনা।‌

(আকাশসন্নিভ ধর্মধারণা 'বৈদিক ও বৈদান্তিক ধর্ম' বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ও সরল আলোচন পরবর্তী লেখায়, বেশ কয়েকটি পর্বে, প্রকাশিত হবে)।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১১/৬/২০২৫
কলকাতা
_____________________________________________












কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...