দুয়ারে বসন্ত
চারিদিকে উতলা বাতাস, কোলাহল, তর্জন-গর্জন,
ধূলি ধূম পুতিগন্ধে অসহ্য এক অন্ধগলি শেষে
উলঙ্গ এক কাঞ্চনের গাছ। পাতারা গিয়েছে ঝরে,
এক-পা-কাটা, কোমর-ভাঙা বৃদ্ধ বস্তিবাসী ;
কিন্তু শীর্ণ শাখায় শাখায় স্তবকে স্তবকে তার ফুল ---
লাল সাদা চন্দনের মেশানো বরণ, আহা কী গড়ন !
নিম্নাঙ্গ ডুবে আছে আবর্জনা স্তুপে, জাতিতে পাদপ ;
তবু পায়ে নাই জল। শুধু মল মূত্রে যতটুকু আহার্য যোগান।
সংসারের বর্জ্যে-বাসী অচ্ছুতের
অন্তরেও আছে কিছু রস, সৃজনের আনন্দ সন্দেশ।
পুষ্পহাস্যে অমলিন কাঞ্চনের সে উচ্ছ্বাসে বিস্ময়ের
ঘোর জাগে অন্তরে কবির। ভাবি মনে, আনন্দ রসের
উৎস হৃদয়ের গোমুখ নির্ঝরে, জেনেছে তা সত্যরূপে
কদাকার বৃদ্ধ জীর্ণ ব্রাত্য তরুবর, বসন্তের নিত্য সহচর।
বনে-ফোটা অশোক-শিমুল, প্রেমরাগে বিভোর পলাশ
নেয়নি সংবাদ। এমুখো হয়না প্রজাপতি, মৌমাছি, ভ্রমর,
এমনকি মলয় সমীরও এসে নিলনা খবর ; এতই কি
অচ্ছুৎ সে ? তোমাদের বসন্তের বেলেল্লাপনার
সব আবর্জনা কেন তার দীর্ণ মূলে করেছ নিক্ষেপ ?
তবুও স্বভাবধর্মে রয়েছে সে স্থির। সব অবহেলা --
সূর্যাস্তের ফুল হয়ে ফুটে ওঠে বৎসরান্তে বসন্তের বেলা।
দুলাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
১০ই ফাল্গুন ১৪৩১।
Last line is wonderful...
উত্তরমুছুনখুব ভালো
উত্তরমুছুন