সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

বাঙলা ও বাঙালীর দুর্গতি --- পর্ব তিন।

বাঙলা ও বাঙালীর দুর্গতি --- পর্ব তিন, 

মানুষের ধর্ম ও আমরা বাঙলী। 


দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করেছি, বাঙালী কি 'সনাতনী' ?

সেই সূত্র ধরেই তৃতীয় পর্বের আরম্ভ এবং এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা কি ছিল, সেটিও খোঁজার চেষ্টা করব আমরা। অবশ্য সমসাময়িক কালের রবিকরসমুজ্বল আরো কিছু বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বের চিন্তার কথাও‌ অবধারিতভাবে এসেই যাবে।
বাংলা (অখণ্ড বাঙলা) শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় কুলগর্বে উন্নাসিক কুলীন ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈশ্য সম্প্রদায়ের ভদ্রাসন ছিল এমন তো নয়। বর্তমানে 'বাঙালী' নামে  সামগ্রিকভাবে যে জনগোষ্ঠীকে আমরা চিনি সকলেই এক নরগোষ্ঠির লোক যে নয় তার সাক্ষী আছে বাঙালীর ইতিহাস। বিচিত্র ও বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর লোক নিয়েই বৃহত্তর বাঙালী-জনের গঠন, যে জনসমষ্টি বহুদিন পর্যন্ত  আলাদা আলাদা কোমে বিভক্ত ছিল এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা কৌম জীবনেই অভ্যস্ত ছিল। নির্দিষ্ট একটি কোম এক একটি বিশেষ স্থান দখল করে স্ব-স্বতন্ত্রপরায়ণ স্ব-সম্পূর্ণ জীবন যাপন করত। অন্য কোমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ বা ছিলই না একেবারে। বিধি নিষেধও ছিল কঠোর। যার ফলে বিচিত্র সব কোমের মধ্যে বৃহত্তর, ঐক্যবদ্ধ জনচেতনা গড়ে ওঠেনি  কখনোই। অতীত বাঙলার সেই বিচ্ছিন্ন, বহুধা বিভক্ত কৌমচেতনা আজও বিদ্যমান। আজও বঙ্গ জনসমাজ শতধা বিভাজিত। যে বাঙালী জাতিসত্তার কল্পমূর্তি অঙ্কন করে আমরা গর্ব বোধ করি তা আসলে তথাকথিত উচ্চবর্ণের বর্ণাভিমানের রক্ষণশীলপন্থী বিপ্লবসঞ্জাত কল্পনাবিলাস। 


বঙ্গ জনসমাজের এই যে বিষম কৌম বিভাজন তাইই বাঙালীকে কখনো সম্পূর্ণরূপে সুসংগঠিত হতে দেয় নি। দ্বাদশ শতাব্দীতে তুর্কীদের সর্বধংসী আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছিল না। কেননা উন্নাসিক ব্রাহ্মণ্যগর্বী সমাজের বাইরে যে বিশাল অব্রাহ্মণ জনগোষ্ঠী ছিল তাদের সঙ্গে ঐ উচ্চবর্ণের রাজা ও রাজন্যবর্গের কোনরূপ একাত্মতা ছিল না। আজও তা নেই। সেদিনও এই সামাজিকভাবে অবহেলিত, অস্পৃশ্য, উচ্চবর্ণের পঙক্তি-ভোজনে ব্রাত্য প্রান্তিক মানুষদের কাছে ইসলামধর্মকে বরণ করতে দ্বিধা জাগেনি এবং ইসলাম পরবর্তী খ্রীষ্টান পাদ্রীদের উপদেশ গ্রহণ করতেও সঙ্কোচ হয় নি। বরং নিজের দেশের উচ্চবর্ণের উপেক্ষার, ঘৃণার আঘাত থেকে বাঁচার ও পরবর্তী প্রজন্মকে বাচাঁনোর জন্য তারা 'একগোষ্ঠী'-মানসিকতা-বিশিষ্ঠ ইসলামধর্মের শরণাপন্ন হয়েছিল। পরে 'ইসলাম' যখন 'রাজার-ধর্ম' হোল  তখন ধর্মান্তরিতদের 'ঐহিক ও পারলৌকিক' সুখের পর্যাপ্ত প্রতিশ্রুতি। তাই উমাপতি ধরের ন্যায় কবিকেও যবন প্রশস্তি লিখতে হয়েছিল। দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন বংশ ধ্বংসকারী 'যবনবীরদের' বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা বঙ্গজনপদে না থাকার কারণ ছিল ঐ পূর্ব-উল্লেখিত জাতি বা বর্ণগত বিভাজন। উচ্চ বর্ণাভিমানীরা তখন কবি জয়দেবের দশাবতার স্তোত্রের বাহানা দিয়ে ভেবেছিলেন বা ভাবিয়েছিলেন যে ঘোড়সওয়ার তুর্কী আক্রমণকারীরা ঈশ্বরের কল্কি  অবতার।
উমাপতি ধর ছাড়াও তুর্কীবিজয়ের অব্যবহিত পরেকার লেখা রামাই পণ্ডিতের শূন্য পুরাণে বাঙালী 'হিন্দু'র মনোভাবের সামান্য পরিচয় পাওয়া যায়। 


"ধর্ম হৈলা যবনরূপী    শিরে পরে কাল টুপী
           হাতে ধরে ত্রিচক কামান
ব্রহ্ম হৈলা  মহম্মদ     বিষ্ণু হৈলা পেগম্বর
           মহেশ হৈলা বাবা আদম
দেখিয়া চণ্ডিকা দেবী    তেঁহ হৈলা হায়া বিবি।" 


এইরূপে ভয়ঙ্কর এক বিপর্যয় বাঙলার ভাগ্যাকাশে উল্কাপিণ্ডের আকস্মিকতায় নেমে এল। তুর্কীদের  আক্রমণে বাঙলার পুরাতন ধর্মধারণা, সংস্কার, যুগ যুগ আচরিত রীতি নীতি যখন বিধ্বস্ত তখন বিহ্বল বিক্ষিপ্ত  জনচিত্তকে দূরদৃষ্টিহীন সংকীর্ণবুদ্ধি ভাগ্যনির্ভর ধর্মোপদেষ্টারা স্তোকবাক্য দিলেন যে 'এ যে বিধাতার অমোঘ বিধান।'
ইংরেজদের আগমনকালেও সেই একই সমাজ-সংকট এবং ধর্মসংকট। এমন সব আধিভৌতিক, আধিদৈবিক (প্লাবন, অনাবৃষ্টি, মন্বন্তর) এবং  আধ্যাত্মিক (ধর্মান্তরণ) মহাবিপন্নতা, (যা সুদূর অতীতে নয়, দ্বাদশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী) প্রায় হাজার বছর ধরে ভোগ করার পর একটি স্খলিত, বহুধা বিভক্ত জাতির কাছ থেকে ঐক্যবদ্ধ একটি জাতিসত্তা আশা করা যায় কি ? 

"কাজেই মধ্য-পর্বের সুদীর্ঘ শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়িয়া বাঙালীর ভাগ্য বা দৈব নির্ভরতা ঘুচিল না, আত্মশক্তিতে বিশ্বাস ও ফিরিয়া আসিল না।"
উদ্ধৃত অংশটি বাঙালীর ইতিহাস রচয়িতা ও গবেষক নীহার রঞ্জন রায় মহাশয়ের। 


বঙ্গাব্দ ১৩৫৬ সাল নাগাদ এই পুস্তক যখন প্রকাশিত হয় তখনও এই বঙ্গভূমি অতীতের পর্যায়ক্রমিক বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পায়নি। লেখককে তখনও (ভূমিকায়) লিখতে হয়েছিল, "আজ গ্রন্থরচনা যখন শেষ হইল, রাষ্ট্রবিধাতার ইচ্ছা ও কূটকৌশলে দেশ তখন দ্বিখণ্ডিত এবং ভারতবর্ষের সঙ্গে তাহার অনাদিকালের নাড়ীর সম্মন্ধ বিচ্ছিন্ন। দুই হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙলাদেশ কখনও এত গভীর এত ব্যাপক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় নাই। ....... দুর্ভিক্ষ, রাষ্ট্রবিপ্লব,দেশচ্ছেদ, প্রান্তীয় দ্বেষ ও হিংসা, চারিত্রদৈন্য, আর্থিক দুর্গতি প্রভৃতি সকল শত্রু মিলিয়া আজ বাঙলা দেশকে এবং মূঢ় আশাহত বাঙালী জাতিকে চরম দুর্গতির মধ্যে আনিয়া ফেলিয়াছে।"
বাঙলা ও বাঙালীর ইতিহাস রচনা করে সমাপ্তির প্রান্তে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিকের বিষাদময় আর্তনাদ। বাঙলার  ১৯৪০-'৫০-য়ের এমন ঘনঘোর সঙ্কটের নিরাশার নিরালোক কী এড়ানো যেতো না ?
ঊনবিংশ শতক জুড়ে মুক্ত উদার মানসিকতার মানবিক আলো জ্বালানোর প্রয়াস হয়নি কি ?
হয়েছিল। বাঙলার নবজাগরণ মিথ্যা ছিল না। রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩), ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) থেকে শুরু করে ১৯৪১সালে বাঙলার শেষ রবি ভাগীরথীর কূলে অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত যে কালখণ্ড তা ছিল এই বঙ্গভূমির নবচেতনার যজ্ঞাগ্নিশিখা প্রজ্বলনের যুগ, ক্রান্তিকাল (transition period). এই সময়কালে সমাজ সংস্কার, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিস্তার, ইয়োরোপীয় জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রচার ও অনুশীলন,  ধর্মধারণায় মানবতাবাদের সংযোজন, নারীশিক্ষার‌, নারী স্বাধীনতার প্রবর্তনা, কৃষিনির্ভরতার বাইরে শ্রমবাজার সৃষ্টি ও শ্রমবিপননের উদ্যোগ, জলপথ-স্থলপথ, রেলপথের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমোন্নন -- সমগ্র ভারতবর্ষের সঙ্গে বঙ্গদেশেও নবযুগের সূচনা যে করেছিল সেকথা অস্বীকার করবে কে ?
তা'হলে চল্লিশ-পঞ্চাশের দশকের ঐরূপ বিভীষিকাময় সামাজিক ও সাম্রদায়িক উপপ্লবের সৃষ্টি হোলই বা কেন ?  
১৯৪৬ - '৪৭ কবিতায় জীবনান্দ দাশ লিখছেন,
"বাঙলার লক্ষ গ্রাম নিরাশার আলোহীনতায় ডুবে
নিস্তব্দ নিস্তেল।
সূর্য অস্তে চলে গেলে কেমন সুকেশী অন্ধকার
খোঁপা বেঁধে নিতে আসে --- কিন্তু কার হাতে  ?
আলুলায়িত হয়ে চেয়ে থাকে -- কিন্তু কার তরে ?
হাত নেই --- কোথাও মানুষ নেই  ;
বাঙলার লক্ষ গ্রামরাত্রি একদিন
আলপনার, পটের ছবির মতো সুহাস্যা
পটলচেরা চোখের মানুষী হতে পেরেছিল প্রায়  ;
নিভে গেছে সব। ...........
সৃষ্টির মনের কথা মনে হয় দ্বেষ।" 


কিন্তু কেন ? এই প্রশ্নের মীমাংসা হয় নি, হয় না, হবেও না। অনাদ্যন্ত কাল থেকে বিশ্বসংসারে দুইটি বিশেষ  শিল্পকর্ম সমান্তরাল ভাবে ক্রিয়াশীল। একটি সৃজন, অন্যটি বিনাশ। বিজ্ঞানীরা বলেন একটি মহাসঙ্কোচ (আধুনিক বিজ্ঞানীদেরকে ভাষায় black hole বা কৃষ্ণ গহ্বর) তার চরমতম অবস্থায় মহাবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে বিনাশ পায়। এই বিনষ্টি শূন্যে লীন হয়ে যাওয়ার বিনাশ নয়। সে বিস্ফোরণ থেকে অনন্ত অসংখ্য জ্যোতির্কণা বা নক্ষত্রের জন্ম, নক্ষত্রের দেহাংশ ছিন্ন হয়ে গ্রহ, উপগ্রহ উল্কাপিন্ড, ধূমকেতুরা নাচতে থাকেন, তাঁদের স্রষ্টাকেই পরিক্রমণ করেন। একই সাথে ধংস আর সৃষ্টির দেবতা নটরাজের তাণ্ডবনৃত্যে উতরোল, উন্মত্ত এই অসীম, অপরিমেয় ব্রহ্মাণ্ড। 

ঋষিকবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর একটি অতুলনীয় সঙ্গীতে  স্রষ্টার এই সৃজনরঙ্গের ছন্দটি ধরেছেন,
"তব নৃত্যের প্রাণ বেদনায়  বিবশ বিশ্ব জাগে চেতনায়
যুগে যুগে কালে কালে সুরে সুরে তালে তালে,
সুখে দুখে হয় তরঙ্গময় তোমার পরমানন্দ হে ..।"

স্রষ্টার নৃত্যলীলার সুরে তালে ছন্দে বিবশ (অচেতন) বিশ্বে সঞ্চারিত হোল চেতনা। বিষয়টি আমাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনার আলোকবর্ষ দূরের ; তবুও এই কথাটি বলার যে বিশ্বলোকের উৎসস্রোতের তরঙ্গছন্দে জাগ্রত সেই 'চেতনার' আশীর্বাদ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে মানুষ। কিন্তু কোন্ জ্ঞানবৃক্ষের ফল খেয়ে তার সত্তার এমন আত্মবিস্মরণ, এবং একই সাথে আলোক পিপাসা আর তমসাভিসার ! কেন সৃষ্টি ও ধংসসাধনের যুগল প্রবনতা ?
এক দিকে মানবের অবিশ্বাস্য, অপরূপ সব সৃষ্টি ; আর অপরদিকে রক্তপিপাসায় আত্মহনন, ভ্রাতৃহনন। নারীঘাতী, শিশুঘাতী, কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ধংসকারী, কুৎসিৎ বীভৎসা। কেন এহেন বৈপরিত্য ?
এই বৈপরীত্যের কারণ অনুসন্ধান করেছেন, করে চলেছেন কত না মহামানব, হাজার হাজার বছর ধরে আজ পর্যন্ত। কিন্তু জীবধর্ম ও জীবনধর্মের মূলের যে সূক্ষ্মতম ভিন্নতা আছে সেটি আমাদের উপলব্ধির অগোচরেই রয়ে গেল আজও। জীব ধর্মের যে দুটি প্রবনতায় মনুষত্ববোধ মোহগ্রস্ত তাদের একটি লালসা এবং অন্যটি  নৃশংসতা। এই প্রবনতা দুটি মানুষের জীবনধর্মের পরিপন্থী। সকল মানবের একত্বের ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে রয়েছে লুব্ধতা। লোভ সঞ্জাত করে মোহ এবং মোহভঙ্গে শোক।
বাঙালী জাতির একাত্মতাবোধের অভাবের জন্যই বাঙালী-জাতিসত্তা গড়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে গড়ে উঠবে এমন আশা করাও বৃথা। 

এবার বাঙলা ছাড়িয়ে সমগ্র বিশ্বের মানবতাহীন মানবসভ্যতার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে কি বলা যায় ---- দীর্ঘ দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হলে পর এমন এক যুগ আসবে এই পৃথিবীর বক্ষের উপর যখন সব ভুল সব ভ্রান্তি মূঢ়তা ইতরতা ও হিংস্রতা ধুয়ে মুছে যাবে, সব মানুষের বোধবুদ্ধি আলোকোজ্জ্বল, হৃদয় পবিত্র‌ এবং নিষ্কলুষ হবে ?
এমন এক আশাবাদে বিশ্বাস রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ  ১৯১৬-'১৭ সালের সময়কালে, যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের নারকীয় অমানবিকতার দৃষ্টান্ত তাঁর গোচরে আসেনি।
তখন তিনি Personality শীর্ষক একটি বক্তৃতায় বলেছিলেন,
"The spiritual world which is being built of men's life and that of God, will pass its infancy of helpless falls and bruises, and one day will stand firm in its vigour of youth, glad in its own beauty and freedom of movement." 


তারপর তো দু' দুটো বিশ্বযুদ্ধ ! এবং আজও পৃথিবীর বুকজুড়ে নররক্তস্রোত অব্যাহত। আর বাঙলা ? এক কিম্ভুত ধর্মমোহে বাঙালী জাতিসত্ত্বা আজও 'হিন্দু' নামধারী একটি গোষ্ঠী এবং 'মুসলিম' পরিচয়ের অপর একটি সম্প্রদায়, বহুদিন একত্ববোধের তপস্যা করেও ছলনাশ্রয়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্রয়ে আবার দুটি  যুযুধান পক্ষে বিভক্ত।
১৩১১ বঙ্গাব্দে এই সাম্প্রদায়িক বিভেদের আসন্ন অমঙ্গলের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।  বিশ্বৈকানুভূতির বার্তা দিয়েছিলেন 'স্বদেশী সমাজ' রচনায়। 

"ইহাই নিশ্চয় জানা চাই, প্রত্যেক জাতিই বিশ্বমানবের অঙ্গ। বিশ্বমানবকে দান করিবার, সহায়তা করিবার সামগ্রী কী উদ্ভাবন করিতেছে, ইহারই সদুত্তর দিয়া প্রত্যেক জাতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যখন হইতে সেই উদ্ভাবনের প্রাণশক্তি কোন জাতি হারায়, তখন হইতেই সেই বিরাট মানবকলেবরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত অঙ্গের ন্যায় সে ভারস্বরূপ বিরাজ করে।"

আজ বাঙালীর জাতিসত্ত্বা একাধিক হিংসাশ্রয়ী  বিবদমান গোষ্ঠীতে ঘণ্ডে খণ্ডে বিচ্ছিন্ন। আধুনিকতার, আধুনিক সভ্যতার, উদার নিখিলভূবন-পরিব্যপ্ত মানবীয় ধর্মবোধের পরিবর্তে আজ বঙ্গবাসী হয় হিন্দু, নয় অ-হিন্দু। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করি, তুমি কি 'সনাতনী' ? একই শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়।
পাই না উত্তর।।

     (প্রবন্ধটি অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েই প্রকাশ করা হোল। এটি এতখানিই গবেষণার দাবি রাখে যে সম্পূর্ণটি পুস্তকাকারে প্রকাশের বাসনা রইল।)
ঋণ স্বীকার
নীহার রঞ্জন রায় (বাঙালীর ইতিহাস),
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,
জীবনান্দ দাশ,
আবু সৈয়দ আইয়ুব (পান্থ জনের সখা) এবং
অপরাপর গবেষকবৃন্দ।
দুলাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
৭ই পৌষ, ১৩৩১বঙ্গাব্দ।
২২শে ডিসেম্বর, ২০২৪। 

পরিমার্জিত 

২৪/৫/২০২৬ 

কলকাতা।

______________________________________________










কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...