প্রলয় শেষের সঙ্গীত
('তরুণ-অরুণ-কিরণ-কণিকা' বাঙলা দেশের বৈষম্য বিরোধী, মানবতাবাদী ছাত্রসমাজের উদ্দেশে কবিতাটি উৎসর্গীকৃত।)
মহাপ্রলয়ের ভীষণ রাত্রি বুঝি আর পোহাবে না,
প্রাণের মূল্যে মিটাতেই হবে অমানবতার দেনা।
বিলাসকুঞ্জ জ্বলন্ত শ্মাশান, দেউল শোণিতসিক্ত,
রক্ত পিয়াসী কাপালিক হাঁকে মায়া-দয়া-প্রেমরিক্ত।
ন্যায় অন্যায়, ধর্মাধর্ম, পাপ ও পুন্য একাকার,
অনলবর্ষী বাদলের মেঘে নরকের রণহুঙ্কার।
নর নারী শিশু ক্রন্দনরোল, সংবিদহারা চেতনা,
শ্যাম-শোভাময়ী বঙ্গজননী অবলুন্ঠিতা 'করুণা'।
ফুরাবে এ-নিশা, ঐ পূর্বাশা, ক্ষীণ ঊষালোক জাগে,
রবিকর সুরে বৈতান-গীতি বাজে আশাবরী রাগে।
অনাদী কালের জীবন চলেছে মৃত্যুর পথ ধরে,
মরে নাই প্রেম চিরজীবী সে পান্থশালার দ্বারে।
তরুণ-অরুণ-কিরণ-কণিকা ছড়ায় নবীন আশা,
ঘৃণা নয়, নয় দ্বেষ-বিদ্বেষ, জয়ী হবে ভালোবাসা।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০৬-০৮- ২০২৪
ব্যাঙ্গালোর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন