"হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়,
এবার কঠিন কঠোর গদ্য আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক্,
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো।"
কিশোর কবি --সুকান্ত ভট্টাচার্য।
(১৫-০৮-১৯২৬ -- ১৩-০৫-১৯৪৭)
____________________________________________
গদ্যের কড়া হাতুড়ি
ছন্দছিন্ন লালিত্যহীন সহস্র গদ্যের হলাহল স্রোত
হড়পা বানের ঢেওয়ের মত আছড়ে পড়ছে বাংলায়।
ভাঙছে নদীর পাড়, খল খল হেসে কল কল গ্রাসে
গিলে খাচ্ছে শত বাস্তুভিটা। জ্বলছে আগুন দাও দাও,
'আরো দাও', নরক জিহ্বায় চেটেপুটে নেয় আস্ত বস্তিগুলো।
তরুণ যুবক গুলি খেয়ে পড়ে আছে চৌমাথার মোড়ে,
তরুণীর কুসুমিত দেহপট ভাঙাচোরা প্রতিমার মত
দেখে যাও টিভির পর্দায়, লাজবস্ত্রে নয়, রক্তবস্ত্রে ঢাকা।
আবারো কিছুবা পাবে খুঁজে চুল্লুর ঠেকে, ঢুলু ঢুলু,
উদাসীন সুখে দুঃখে, তুরিয়ানন্দে বিমূঢ় বেকার যুবক।
এ-সকলে মিলে সমাজের গঠন বন্ধন সুদীর্ঘ দিনের।
স্বপ্ন কল্পনাগুলো কুণ্ঠাভরে' জড়োসড়ো ভাষার সন্ত্রাসে।
গদ্যের কড়া হাতুড়ির নিত্যদিন সশব্দ আঘাতে
বিচারের বাণী কেঁপে কেঁপে উঠছে আদালতে,
চলছে বহাস টিভির পর্দায়, কানের পর্দা ভাঙে
গদ্যের 'হাতোড়া'- দাপটে, মিছিলে মিটিং-য়ে,
জনতার অবিরাম স্রোতে, মহাসভা মহা-সমিতিতে,
'মায়াবল' বিস্ফোরণে কিশোরের লাশে, গলা-কাটা
কিশোরীর স্তব্ধ বীভৎসায় -- কোথাও পাবেনা তুমি
কবিতার সুরের সুষমা, ছন্দোবদ্ধ সঙ্গীত ঝঙ্কার।
ফেনিল ঢেওয়ের মত পাড়ভাঙা শব্দের গঙ্গায়
বিসর্জন দেব কবিতাকে, বাঙলাটা থাক্ গদ্যময়।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৩০/০৭/২০২৪
ব্যাঙ্গালোর।
darun Darun
উত্তরমুছুনঅসাধারন
উত্তরমুছুনঅসাধারন
উত্তরমুছুন