বহুদিন পরে জ্বলন্ত আকাশ ডেকেছে শ্যামল মেঘে,
বহুদিন পরে আর্দ্র বাতাস বইছে সুসহ বেগে।
কতদিন পরে বিদ্যুৎ শিখা প্রেম কটাক্ষ হানে,
ভীষণ সে বান, রণহুঙ্কার শিহরণ জাগে প্রাণে।
জীর্ণ যা কিছু পুড়ে যাবে, উড়ে যাবে তার ছাই,
যাবার যা চলে যাক্ তা, 'ছিল' হয়ে যাক্ 'নাই'।
শুকনো পাতার মর্ম বিলাপ হয়ে যাবে দূরস্মৃতি,
নবজলধারে নবপল্লবে সাজবে কাননবীথি।
নবঘনশ্যাম মেঘের সৃজন রুদ্র অনল দহনে,
জীবনের সাথে মরণ দোসর মরণ ফিরে জীবনে।
দুরন্ত ঝড়, মারণ প্লাবন, তমসাগহন নিশা,
কোথা যাবে যত অসহায় প্রাণ ভেবে না পায় দিশা।
তীরে তরী নিয়ে কেউ তবু আসে জ্বালায়ে প্রেমের বাতি,
মানুষের রূপে ভগবান সে যে --- আর্ত জীবন সাথী।
ত্রাসের রজনী ফুরায় ঊষায়, জাগে প্রাণময়ী আশা,
কৃষ্ণ মেঘের আবরণ ছেঁড়া আলোকিত পূর্বাশা।
এমনি করেই শেষ আর শুরু সৃষ্টি লয়ের খেলা,
নিত্য প্রভাতে রবির উদয়, অস্ত সন্ধ্যা বেলা।
রবিকরস্নাত সুনীল আকাশ, পূবালী বাতাস জেগেছে,
কেতকী ঝোঁপের লুকানো ফুলের গন্ধ নিয়ে সে এসেছে।
তাই মনে ভাবি, বেদনার দাহ থাকেনা নিত্য জীবনে,
ক্ষয় ক্ষতি ক্ষত মেনে নিলে কবি আনন্দ আছে ভূবনে।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৪/০৫/২০২৪
কলকাতা।
খুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনভালো লাগলো আপনার কবিতা।
উত্তরমুছুন