বুধবার, ৮ মে, ২০২৪

কে তুমি, পাই নি উত্তর


কে তুমি, পাই নি উত্তর

"মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ", __ 
এ মন্ত্র জপেছ দিনে রাতে, সত্য বলে জেনেছ অন্তরে ; 
তবু সে বিশ্বাসে হেনেছে আঘাত বারে বারে সে মানুষ, 
যাকে তুমি গড়েছো নিত্য নব নব রূপে হৃদয়ের প্রেম দিয়ে, 

দিয়ে ভালবাসা। কী আবেগী প্রীতির ছোঁয়ায় 
মানুষ গড়েছো কবি নূতন নূতন। তোমার বিপুল সৃষ্টির 
পাতায় পাতায়, চির অমরতা নিয়ে চেয়ে আছে তারা, 

অনন্তের আলোকের জ্যোতিঃকণা--কালজয়ী, অমলিন। 

চাঁড়ালের কন্যা ওই প্রকৃতির প্রাকৃত ললনা, প্রকৃতি
পূর্ণবারি মাটির কলস কাঁকালে রয়েছে তার, আছে প্রতিক্ষায় ; 
আসে যে সুদূরের প্রান্ত হতে, পার হয়ে মরুদেশ 
তৃষ্ণার্ত আনন্দ তার --- "জল দাও, জল দাও", 
কাতর প্রার্থনা নিয়ে। 
কী প্রেমার্দ্র জলদান, কী তৃষ্ণার্ত জলপান-- 

 মানবীর, মানবের, অভেদ আত্মার। 

 "যেই মানব আমি, সেই  মানব  তুমি''। 

দীনতা হীনতা নাই, নাই আত্মগ্লানি 

 নাই ছোট বড় এই বিশ্বনীড়ে। 

মানুষ তো প্রতিবিম্ব চরাচর পরিব্যপ্ত মহাচেতনার। 

হে ঋষি কবি, সুর ও বাণীর মাল্যে ছন্দোবদ্ধ-গীতি-গ্রন্থে 
গেঁথেছো যে মিলন-মালিকা তুমি, মূল্য তার বুঝি নাই। 
কবন্ধ দর্পিতা ভরে' পরি নাই সেই মালা আত্মবিস্মরণে। 
তবুও করছো ক্ষমা, আসো সখা বছরে বছরে এ দারুণ
তপ্ত দিনে, পঁচিশে বৈশাখে --- অমৃতের স্বর্ণঘট কৃতাঞ্জলিপুটে। 
ফিরে যাও আমাদের বিভেদ-বিদ্বেষ-ক্লিন্ন জীবনের 
গরল করে' পান বাইশে শ্রাবণে। ওগো নীলকন্ঠ কবি, 
জাগ্রত জীবন-দেবতা তুমি, নও ছবি, নও শুধু ছবি। 

তবু তমি এসো কবি, 'ভগ্ন হৃদয়ে' বসো, যাও দেখে --- 

 তোমার সে উষার আকাশ--- নীল শতদল আজ ঢাকা 

আত্মহননের চিতাবহ্নিধূমে। তোমার সে স্নেহময়ী ধরা 

সুভদ্রার মত মৃত অভিমন্যু-কোলে বসে আছে একা। 

(পরিমার্জিতরূপে পুনঃপ্রকাশিত) 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৫শে বৈশাখ, ১৪৩১ 
কলকাতা। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...