স্মরণ
(কবিপক্ষের অন্তিম কাল। আবারো তাঁর জন্মদিন সমাগত।
এই সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মরণে কিছু লিখবার,
কিছু বলবার ব্যাকুলতা জাগে।)
২৫শে বৈশাখ
পথ হয়ে এলো শেষ জীবনের সায়াহ্ন বেলায়।
দাঁড়ায়ে রয়েছি "এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে" --
বিষন্ন সৈকতে।
সম্মুখে আমার অতলান্ত মহাপারাবার।
অপরিমেয় ঐশ্বর্য সম্ভারে পূর্ণ রত্নের আকর,
রসের তরঙ্গ ভঙ্গে, ভাবের উচ্ছ্বাসে উতরোল।
অতলে আগ্নেয়গিরি তাঁর, বাড়বাগ্নিশিখা,
জ্বালাময়ী ;
অবিরাম মৃত্যু শোক, আত্মজন বিয়োগ যন্ত্রণা, হাহাকার।
বিশ্বব্যপ্ত বর্বরতা, অমানুষী অত্যাচার প্রবলের,
অসহায় অশ্রু জল অন্নখোঁটা প্রাণকণিকার,
নিভৃত ক্রন্দন বিচারের শাশ্বত বাণীর --
যেন অগ্নিস্রাবী উল্কাপিন্ড, নিরন্তর ঝরছে অঝোরে
প্রেমের শ্যামল-মেঘে-চির-সুকোমল ওই বুকে।
রূঢ়তা এসেছে কখনো বা সুকঠিন সত্য উচ্চারণে,
লেখনীর রক্তলেখায়।
তবুও সে বাক্যবন্ধে কত আবরণ, কত আভরণ,
ধ্বনির ঝঙ্কার কত রুদ্র সুন্দরের ;
ডমরু ডঙ্কারে যেন নটরাজ শঙ্করের প্রলয় নর্তন।
হে প্রচেতঃ, নব নব সৃজনের মহা ব্যাকুলতা কূলে কূলে ;
অন্তরে অচল শান্তি, প্রসন্নতা, সপ্তর্ষির ধ্যানতন্ময়তা,
নিবাত নিষ্কম্প মহাচৈতন্যের দীপ্ত দীপশিখা।
আলো তার বিচ্ছুরিত অমর সঙ্গীতে,
অসীমের বন্দনার সুরে,
সুরলোক হতে যেন সুরধুনী ধারা অফুরান,
শুধু বঙ্গে নয় কবি, বিশ্ব চরাচরে।
অতুল বৈভব এই, হৃদপিন্ড-ছিন্ন-করা অমৃতের
অনিঃশেষ মহাকুম্ভ।
অধিকার দিয়ে গেলে তুমি ; কিন্তু এ কী ভার !
শক্তি নাই বইবার ন্যুব্জ দেহ মনে।
সভ্যতার সঙ্কট আরো তীব্র, আরো ঘোর বীভৎস এখন।
শোষণের, শাসনের, সন্ত্রাসের মারণ তাণ্ডব দিকে দিকে,
নারীঘাতী, শিশুঘাতী, কৃষ্টিনাশা সমরাস্ত্র, রৌরব আত্মহননের !
বসুন্ধরার পঞ্জরতলে কম্পন জাগে আজও --
কী মহাশঙ্কার !
সর্বংসহ হে বিশ্ববিবেক, পঁচিশে বৈশাখে আরো একবার
দেখা দাও রবি, দেখা দাও হে মহামানব মূর্ত চেতনার --
এসো, জ্যোতির্ময়, বাণীর ভর্ৎসনা হানো,
হে অমর কবি,
নির্বিবেক সভ্যতার ছলনার ক্লীবত্বের 'পরে।
নও ছবি, নও ছবি, নও তুমি প্রতিকৃতি সম্মুখে আমার --
সত্য ও সুন্দরের জ্যোতির্লেখা ও-দৃষ্টিতে, জাগ্রত রয়েছে
যেন চিরদীপ্ত ধ্রুবতারকার।
(পরিমার্জিতরূপে পুনঃ প্রকাশিত।)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,
২৩শে বৈশাখ, ১৪৩১।
Darun
উত্তরমুছুননিষ্ঠুর বাস্তব
উত্তরমুছুনঅসাধারণ। প্রনাম
উত্তরমুছুন