জীবনের এতটা কাল, যতবার এসেছে নূতন বছর,
কত আশা নিয়ে, মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে, শঙ্খস্বরে,
পূর্ণ ঘটে, সহকার শাখায়, কল্যাণময় মন্ত্রোচ্চারণে,
বরণ করেছি তাকে অফু্রাণ আশায়, ভালোবাসায়।
অবুঝ মনের পাখী গেয়েছে প্রেমের গান, বেঁধেছে বাসা।
তারপর কালান্তক বৈশাখের ঝড় ভেঙেছে সে ঘর --
বারবার। অমঙ্গল নিষাদের তীরের আঘাতে
মরেছে শাবক, ধর্ষিতা প্রেয়সীর আর্তনাদে
চুরমার হয়েছে সংসার। আমাতেই শেষ হলে
সেও হোত ভালো, একান্ত সান্ত্বনা ; হয়নি যে তা।
যায়নি এমন দিন যেদিন মোছেনি শোণিতের রেখা
শ্যামল অঞ্চল দিয়ে অশ্রুআঁখি জননী আমার,
বসুন্ধরা। যায় নি এমন দিন যেদিন আসেনি ভেসে
বারুদের কটুবাস, চিতাগ্নির পুতিগন্ধ ধোঁওয়া।
প্রবঞ্চক রাজাদের কপট আশ্বাস, তান্ত্রিকের
প্রেতমন্ত্র-যাদুদন্ড ছোঁওয়া অবশ করেছে নিত্য
অবসন্ন মানব চেতনা-- ফুরালো বছর যেন মোহাচ্ছন্নতায়।
চৈত্র সংক্রান্তির দিন হোল লীন শেষ তমসায়।
আজ ভোরের তারার দিকে আছি চেয়ে অপলক।
অম্লান উজ্জ্বল সেই আলো, জ্যোতির্ময়ী ঊষসীর
নিশি-ভাঙা হাসি-- কালজয়ী মৈত্রেয়ী প্রার্থনা ঃ
"অসতো মা সদগময় তমসো মা জ্যোতির্গময়
মৃত্যোর্মামৃতংগময়।"
তবে তাই হোক্ --
লয় হোক্, ক্ষয় হোক্, হয়ে যাক্ বিস্মৃত অতীত
পুরাতন বৎসরের দুঃখ শোক সন্তাপের গ্লানি,
শুভ আগামীর আশা চিরন্তনী জাগুক অন্তরে--
বিপুল এ বিশ্বনীড়ে, নব নব নববর্ষে, যুগে যুগান্তরে।।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
চৈত্র সংক্রান্তি
সমাসন্ন ১৪৩০।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন