অভ্রভেদী বিজয় তোরণ,
বিপুল বিস্ময় এক দূর্গ প্রাসাদ
জীর্ণ, দীর্ণ --- কালের কালিমা মেখে'
অবজ্ঞায় অনাদরে জেগে আছে বিবর্ণ ভূমিতে।
হঠাৎই পড়ল চোখে পরিত্যক্ত বৃদ্ধ ষাঁড় আছে বসে---
বুজে যাওয়া পরীখার তৃণাসনে, আধবোজা চোখ,
রোমন্থন নির্বিকারে। ঘিরে চতুর্দিক তার ভন ভন
করে ডাঁশ, দুটো কাক ডাকে আর নাচে অকারণে
দেহে তার। মুখ চেটে চলে গেল নধর গাভিটি।
কি জানি কি দিবাস্বপ্ন দেখি আমি সায়াহ্ন সন্ধ্যায় --
এই বৃষরাজই ছিল মহারাজা এ দূর্গপ্রাসাদে,
অমিতবিক্রম, মূর্ত রূপ ত্রাস সন্ত্রাসের।
ছিল বাস অফুরন্ত ঈশ্বর্যের দুষ্প্রবেশ্য যক্ষপুরে,
বিলাস নিকুঞ্জে ছিল সুর সুরা সুন্দরীর বাসব বাসর
দেখা তার পেত দেবতারা।
নাম তার ভয়ঙ্কর -- দুঃস্বপ্নেরই নামান্তর ছিল রাজা
তার রাজ্যজুড়ে।
অদৃশ্য কালের ঢেও ওঠে আর পড়ে,
ভাটিয়ালি গান গেয়ে, খেয়া বেয়ে চলে যায় বর্তমান,
পড়ে থাকে ভূত, পড়ে থাকে উৎসবের অবশিষ্ট,
পাদপিষ্ট কুসুমের মালা,
শ্মশান শ্বাপদ চাটে রাজার উচ্ছিষ্ট-ভরা অপবিত্র থালা।
কালান্তরে বসে আছে সেই রাজা। সিংহজন্ম দেয়নি
বিধাতা---তাই বৃষরূপ, তাই এই স্মৃতি রোমন্থন।
অতীত কয়না কথা, চিরমৌন কালের গহ্বরে যায়
ডুবে বর্তমান, প্রত্যাশার অন্ধকারে থাকে ভবিষ্যৎ।
সব জেনে উদাসীন মহাকাল শিবের বাহন।
প্রণাম করেছি তাকে, জেনেছি সত্যের রূপ নির্মম
কঠিন।
" কঠিনেরে ভালো বাসিলাম----
সে কখনো করেনা বঞ্চনা।"
(শেষ বাক্যটি রবীন্দ্রনাথের 'শেষ লেখা' কাব্যগ্রন্থের
"রূপ-নারায়নের কূলে" কবিতাটি থেকে উদ্ধৃত।)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৮/১১/২০২২
মহীশূর।
Ki boli ...bar bar pora chara r kichu bolar nei...
উত্তরমুছুনসাবাস, দারুন লেখা
উত্তরমুছুনKaler srote ekhono amolin -Anupam Mondal , Bangalore
উত্তরমুছুন