Francesca Petrarch (1304 - 1420), Bard of the Renaissance.
ফ্রান্সিসকো পেত্রার্কা, ইউরোপীয় নবজাগরণের
রাজকবি।
তবে একটি কথা বলে রাখি , 'মধ্যযুগ' শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে মানবেতিহাসের কিছু অমানবিক, কলঙ্কিত ঘটনার সংঘটন,
--বর্বর-আক্রমন, বর্বরতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (church, cathedral, monestry)- গুলির এবং ধর্মপ্রচারকদের (prisest to The Pope)-দের দ্বারা মানুষ, মানুষের মানবিক প্রবনতা ও মানব-সমাজয়ের উপর নিষ্ঠুর নিয়ন্ত্রণ।
পশ্চিম রোম সাম্রাজ্যে অবসান ঘটে পঞ্চম শতাব্দীতে। (ভিসিগথদের রাজা অ্যলারিকের আক্রমণে ৪১০খৃষ্টাব্দে)।
এসব সত্ত্বেও পূর্ব রোম সাম্রাজ্য বা Byzantine Civilization আরও এক হাজার বছর ইউরোপের জাতিগোষ্ঠীগুলিকে প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে রেখেছিল। অবশেষে ১৪৫৩খৃষ্টাব্দে অটোমেন তুর্কীদের সর্বধংসী আক্রমণে Constantinople-য়ের পতনের পর রোমান শাসনতন্ত্রের বিনাশ সম্পূর্ণ হয়। এইভাবে গ্রীক সভ্যতা,(খৃষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী থেকে?), ল্যাটিনিয়াম বা রোম সভ্যতা-- প্রায় দু'হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে গড়ে ওঠা ইউরোপীয় সভ্যতার চলমানতা বার বার বাহ্যিকভাবে রক্তাক্ত হয়েছে একথা ঠিক, কিন্তু সে ঐতিহ্যের অন্তর-সম্পদ প্রদীপের শিখার মতো অনির্বাণ ছিল বংশ-পরম্পরা, লোক-পরম্পরায়, মানুষের মানসবৃত্তির অদৃশ্য গর্ভগৃহের অভ্যন্তরে।
যুদ্ধ, দাঙ্গা, সাম্রাজ্যের উত্থান,পতন, প্রকৃতির তাণ্ডব কোন বিপর্যয় -ই মানুষের অন্তরে লালিত শুভকে, কল্যাণবোধকে
চিরকালের মতো নিঃশেষিত করে দিতে পারে না। বসন্তের অনুকূল বাতাসের কবোষ্ণ স্পর্শে শীতের সুপ্ত কুসুমকলি যেমন পাপড়ি মেলে ধরে ঠিক তেমনি ভাবে মানুষের মানসবৃত্তির অবরুদ্ধ ভাব ও ভাবনাগুলি শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত, লোক সংস্কৃতির বিচিত্র মাধ্যমে প্রকাশিত হয় ।
এলো চতুর্দশ শতাব্দী। রোম রাজত্বের রাজধানী
ল্যাটিনিয়াম সভ্যতার আদি ভিত্তিভূমি ইটালিই প্রথম জেগে উঠল মধ্যযুগের তুষার-চাপা জড়তা কাটিয়ে। তের শ' খৃষ্টাব্দের ঊষা লগ্নে ভূমধ্যসাগরের এই উপদ্বীপটিতে বয়ে গেল বসন্তের উষ্ণ মলয়ানীল তরঙ্গ। ফুটে উঠল সাহিত্য সঙ্গীত শিল্পের পুষ্পমঞ্জুরী। ফ্লোরেন্স নগরীর মেডিসি পরিবার, এই নগরীর শাসনভার ছিল যাদের হাতে তাঁরাই নবজাগরণের পথিকৃৎ। পরে, এই জাগ্রত চেতনার আলো ছড়িয়ে পড়লো
মিলান, বোলোগ্না, ফেরারা, রোম, ভেনিস শহরগুলি ছাড়িয়ে ইউরোপের দূর-দূরান্তের দেশে এবং দেশান্তরেও।
সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয় তারও আগে ত্রয়োদশ শতকের দ্বিতীয়পাদ দান্তে অলিগিরির সময়কাল (১২৬৫-১৩২১) থেকেই। আরো আরো পূর্বে ১১শ' খৃষ্টাব্দের মধ্যভাগে ত্রুবাদূরদের কাহিনীকাব্যের গীতধ্বনিময় সঙ্গীত মূর্ছনায় ছিল নূতন সাহিত্য সঙ্গীত সৃজনের কলকাকলি।
সে এক দীর্ঘ, গভীর, ব্যপ্ত, কলাসৌন্দর্যের ইতিহাস, যার অবলুপ্তি ঘটে চতুর্দশ শতকের দ্বিতীয়পাদ ১৩৪৮ খৃষ্টাব্দের সময়কালে Black Death- মহামারীর দুঃসময়ে।
কিন্তু তার অন্তর্লীণ ফল্গুধারার প্রভাব নবজাগরণের স্বপ্ন সাধ্য সৃজন প্রতিভাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ইউরোপীয় নবজাগরণের ঊষালগ্নের বৈচিত্র্যময় কলাজগতের কয়েকটি চিরভাস্বর নক্ষত্র :
দোনাতেলো, মাইকেল এন্জেলো, গিয়েতো ,লিয়োনার্দো দ্য ভিন্সি। বোকাচ্চো,পেত্রার্কা,এরিষ্টো, ম্যাকিয়াভেলি। বিজ্ঞান,প্রযুক্তি,স্থাপত্যবিদ্যর বিপ্লবাত্মক উন্নতির কথা?-সে তো লক্ষ পাতার বৃত্তান্ত --তা এখানেই থাক্ । আমরা আসি পেত্রার্কায়।
এই মহান কবি, মানব প্রেমিক লিখেছেন দুটি বই ---
1.Canzoniere(a collection of vernacular poems, about Laura, his Fiance').
2. Africa(an epic, concerning the second Punic War.
কবি তাঁর প্রেমিকা 'লরা' সম্পর্কে বলছেন :
"Laura, famous for her own virtues, and so long celebrated in my verses, was first seen by me in my early youth,in the year of our Lord 1327, on the sixth of April, in the church of St. Clare at Avignon, in the morning hour: and that light was taken from daylight in the same city,in the same month on the same sixth day,in the same first morning hour, but in the year 1348(after 21years) when l
Chanced to be in Verona, sadly unaware of my FATE ."
প্রেমিক পাঠক, আবেগ-সিক্ত হৃদয়ে বাকিটুকু হৃদয়ঙ্গম করে নিয়েছেন এতক্ষণে--ব্যাখ্যা করার দরকার কি ?
বুকের পাঁজরে , তিন শ' ছেষট্টিটি হিরকখণ্ড দিয়ে লরার যে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছেন কবি তার সম্পূর্ণটুকু দেখার জন্য যে জ্যোতির্ময় দৃষ্টি , নীলাকাশ -সন্নিভ চিত্তপট,
অতলান্ত আবেগ-সরোবর, যে বিশ্বপ্লাবী মহাভাব প্রয়োজন তার কতটুকু আছে এখন --এই জৈবযন্ত্রণাক্লিষ্ট , ভোগসর্বস্ব জীবনে !
মহাসমুদ্র পাড়ি দিয়ে বন্দরে পৌঁছাতে হলে দিকনির্দেশনার জন্য মানচিত্র অঙ্কন করা দরকার ছিল।হোল কিছুটা, অর্থাৎ নাতিদীর্ঘ একটি ভূমিকা । এবার কবিকুল- আরাধ্য কবি, আমাদের আলোচিত পেত্রার্কার একটি কবিতা--
ONE of his three hundred sixty six sonnets-
Sonnet (Where the green leaves exclude...)
Where the green leaves exclude the summer beam,
And softly bend as balmy breezes blow,
And where,with liquid lapse,the lucid stream
Across the fretted rock is heard to flow,
Pensive I lay : when she whom Earth conceals,
As if still living ,to my eyes appears,
To say-- unhappy Petrarch,dry your tears.
Ah! Why sad lover! Thus before your time,
In grief and sadness should your life decay
And like a blighted flower, your manly prime
In vain and hopeless sorrow fade away?
Ah! yield not thus to culpable despair,
But rise thine to heaven - and think--
l await thee there.
Translated into English by
Charlotte Smith .
____পেত্রার্কীয় সনেট____
সনেট (আজ কবরে রয়েছে প্রেয়সী আমার!)
মন্দ বাতাসে তরুশাখাগুলি আনত রয়েছে যেখানে,
ঘনপল্লবে সূর্যের আলো উঁকি দেয় শুধু এখানে,
ক্ষীণধারা এক তটিনী চলেছে পাষাণের বুকে গেয়ে গান-
বিষাদমগ্ন আমার 'আমি'টা শুয়ে আছে হেথা মৃতপ্রাণ।
এ-ধরণী যারে লুকিয়ে রেখেছে সে প্রিয়া আমার অ-মরা-
হঠাৎ এখানে শুনি তার গান - যদিও রয়েছে অধরা ।
দেবদূতদের মায়া-মেঘ ছিঁড়ে আসে তার বাণী করুনার:
"নয়নের জল মুছে ফেল কবি কিবা প্রয়োজন কান্নার?
বন্ধু আমার,বিষন্ন কুসুম,খেদ ক্ষয় কেন জীবনে?
আছে পৌরুষ,প্রবল শৌর্য্য, আমারে রেখেছো স্মরণে।
আলোকোজ্জ্বল অ-মৃতধামে, নিরাশার নিরালোক নাই--
বিরহ-বিহীন,দুখ-নিশাহীন চিরমিলনের সুখ ঠাঁই ।
হে প্রিয়তম,মরণের পায়ে অর্ঘ্য দিও না নিজেরে --
আমি যে তোমারই, প্রতীক্ষায় আছি দাঁড়ায়ে স্বর্গ দুয়ারে।।
বাংলা ভাষায় ভাবানুবাদ -
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ।
পেত্রার্কার কবিতা প্রসঙ্গে।
..............................................
About Petrarch's legacy the poet J.D.Mc Clathy has said,
"True love---or rather the truest---is always obsessive and unrequited.No one has better dramatized how it scorches the heart and fires the imagination than Petrarch did centuries ago.
He dipped his pen in tears and wrote the poems
that has shaped our Sense of Love---its extremes of longing and loss ever since."
মুগ্ধ পাঠকের এতক্ষণে স্মরণের আলো- ছায়ায় ভেসে উঠেছে প্রেমরসসিক্ত বৈষ্ণব পদাবলী,
"রজকিনী প্রেম নিকষিত হেম কামগন্ধ নাহি তায়।"
--unrequited love.
বঙ্গভারতীর প্রিয়তম সন্তান, বিশ্ব-ভারতীর বরপুত্র ,হোমার-ভার্জিল,ব্যাস-বাল্মীকি-মিল্টন-বাইরন-শিষ্য,মধুকবি তাঁর চতুর্দশপদী কবিতার গুরু পেত্রার্কার বন্দনাগান গাইছেন,
শীর্ষনামহীন চতুর্দশপদী
.............................................
ইতালি, বিখ্যাত দেশ,কাব্যের কানন ।
বহুবিধ পিক তথা গায় মধুস্বরে,
সঙ্গীত সুধার রস করি বরিষণ,
বসন্ত আমোদে মন পুরি' নিরন্তর;--
সে দেশে জন্ম পূর্বে করিলা গ্রহন
ফ্রাঞিস্কো পেতরাকা কবি;বাকদেবীর বলে
বড়ই যসস্বী সাধু,কবিকুল ধন
রসনা অমৃতে সিক্ত,স্বর্ণবীনা করে।
কাব্যের খনিতে পেয়ে এই ক্ষুদ্র মণি,
স্বমন্দিরে প্রদানিলা বাণীর চরণে
কবীন্দ্র: প্রসন্ন ভাবে গ্রহিলা জননী
( মনোনিত বর দিয়া) এ উপকরণে।
ভারতে ভারতীপদ উপযুক্ত গণি,
উপহার রূপে আমি আরোপি' রতনে।।
বাংলা ভাষায়, বাংলা সাহিত্যে অনাস্বাদিতপূর্ব "এই ক্ষুদ্র মণি" , মণিখণ্ডের মতোই দীপ্তোজ্বল । গঠন প্রকৃতিতে দৃঢ়বদ্ধ, রূপে কান্তশ্রী-সুন্দর , ভাবে গাঢ় --একমুখী। ছন্দ-অলঙ্কার ব্যাকরণসিদ্ধ ।
(২১.৯.'২১).
কাব্য বহুধা। আকারে-আকৃতিতে,রসে-রূপে-ভাবে বৈচিত্র্যময়। এমনকি গল্প, উপন্যাস,নাটক, কবিতা,গীত বা বাণীবদ্ধ সঙ্গীত,যন্ত্রসঙ্গীত--সমস্ত সৃষ্টি, সাহিত্য ও শিল্পের
সৃজন, 'কাব্য' এই অভিধায় অভিহিত করা যায়।শেক্ষপিয়ারের (Shakespeare),মার্লোর( Christopher Marlowe) নাটক, বিঠোভেন (Ladwig Van Beethoven),মোজার্ট (Wolfgang Amadeus Mozart),
সেবাস্টিয়ান (Johann Sebastian Bach),হাইডেন (Joseph Haydn)---এ সকল সঙ্গীত স্রষ্টাদের সুরমূর্ছণা
(Symphonic modulation), বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলি,কোঁ ঠাসা (Guy De Maupassant),
রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পগুলি ---সবই তো কাব্য ।(একটি, দুটি উদাহরণ মাত্র)।
সাধারণ ধারণায় যে 'কাব্য', তার দুটি ভাগ :
মহাকাব্য আর গীতিকাব্য । ব্যাস, বাল্মীকি,হোমার, ভার্জিল,তাসো (আদি মহাকবি), মিল্টন, মাইকেল মধুসূদন
(পরবর্তী কালের মহাকবি?)। মহাকাব্য, মহাকবিদের এই উল্লেখ সাগর জলের তিলক মাত্র। ইঙ্গিত দিয়ে উদ্দিষ্ট প্রসঙ্গে ফেরার কৌশল।
মহাকাব্যের বহুধা, বহুবিধ, বিচিত্র চরিত্রের অরণ্যে মহাকবি স্বয়ং যান হারিয়ে।সেক্ষপিয়ারের মতো নাট্যকারের ক্ষেত্রেও
অবশ্য এ কথা বলা যায়।
গীতিকবিতার শব্দ-পদ-বাক্য কিন্তু কবির আপন অন্তরাত্মার অভিব্যক্তি। আর কবিতার কল্পমূর্তিগুলি তাঁর চিত্তমৃত্তিকা দিয়ে গড়া , প্রেমের স্বপ্নপ্রতিমারা ছায়াময়ী থেকে কায়াময়ী হয় কল্পনায়--
"অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা।"
দান্তের বিয়াত্রিস(Beatrice), সেক্ষপিয়ারের(Shakespear)
কালো মেয়ে ( Dark lady, in some sonnets) , আমাদের আলোচিত কবি পেত্রার্কার লরা(Laura) - এরা সকলেই কবি মানসী।
বিরহী প্রেমিক, দান্তে( তাঁর সৃষ্ট অধোলোক, শুদ্ধিলোক-- মানুষের মানসবৃত্তির দুর্গতির পরিণামে অবধারিত পাপযন্ত্রনা,পাপস্খালনের জন্য প্রায়শ্চিত্ত দেখে দেখে চলেছেন। প্রেমান্ধ আবেগে , অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তার মানসীর অন্বেষণে তাঁর যাত্রা। পার্থিব জীবনের এই তামসিক প্রেম কাব্যে সুগুপ্ত রেখেছেন কবি অনন্যসাধারণ আলঙ্কারিক (রূপকে) দক্ষতায়।স্বর্গ থেকে আলোকময়ী বিয়াত্রিস নেমেছেন। ভার্জিলকে নিযুক্ত করেছেন কবিকে তীর্থযাত্রায় সাহায্য করতে। অবশেষে, শুদ্ধিলোক(purgatorio) পেরিয়ে স্বর্গদ্বার ; সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর 'জীবন-মরণ বিহারী' বিয়াত্রিস --প্রেমালোকে শুদ্ধ , আলোকোজ্জ্বল প্রতিমা ।
"I lifted up mine eyes
And saw her, as she herself a crown
Reflecting from herself the Eternal Rays ."
এবার কবিকুলপতি পেত্রার্কা । তাঁর ১৫ নং কবিতার শেষ পঙক্তিদ্বয় :
"Ah! Yield not thus to culpable despair
But rise thine to heaven, and think
I await thee there ."
হে প্রিয়তম মরণের পায়ে অর্ঘ্য দিও না নিজেরে,
আমি যে তোমারই, প্রতীক্ষায় আছি দাঁড়ায়ে স্বর্গদুয়ারে।
( ভাবানুবাদ মৎকৃত)
ভাবে-রসে-ব্যাঞ্জনায় যেন এক --নির্দ্বন্দ্ব ।
Beatrice, Dante's Fiance`(Divine comedy)
কিন্তু না। উত্তরসূরী মহাকাব্যকার দান্তের মতো শুধুমাত্র একান্ত ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মবোধ অনুসরণ করে' মহাপ্রস্থানের
পথে, পার্থিব অনুরাগের সবটুকু বিসর্জন দিয়ে নিষ্কলুষ প্রেমের আলোয় চিরকালের জন্য মুক্তি বা মোক্ষলাভ এমন
"বৈরাগ্য সাধনে" বিরহ-বেদনা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি-- পেত্রার্কার কাম্য ছিল না । তাই ,
"He dipped his pen in tears and wrote his poems."
(Laura ) লরা তখন জীবিত,(During the life of Laura).
Sonnet no. XV
........................
Tears, bitter tears fall in a bitter rain,
And my heart trembles with a strorm of sighs
When on your beauty bend my burning eyes,
For whose sole sake the world seems flat and vain.
But ah, when I can see that smile again,
That chaste, sweet, delicate smile,then passion dies
Withered in its own flaming agonies
Gazing upon you, passion is lost and pain.
But all too soon my very soul is rocked
When you depart and with your passing dear
Pluck from my perilous heaven my stars,O Sweet!
Then at the last,by Love's own keys unlocked,
My soul from out my body leaping clear
On wings of meditation finds your feet.
Translated by Joseph Auslander Longmans, Green &Co.,New York, 1932.
___সনেট ১৫___
চোখের আড়াল হলে তুমি
( লরা তখন জীবিত )
ওগো অপরূপা,নোনা জল ঝরে ঝরে পড়ে চোখ বেয়ে,
বুকে ওঠে ঝড়--অতৃপ্ত কামনার উষ্ণ দীর্ঘশ্বাস।
বড়ই ধূসর এই পৃথিবীটা এবং অর্থহীন মনে হয়।
কামনার জ্বালা মিটে না, মিটে না মনের আশ।
কিন্তু ওহো! যেই শ্রীমুখের হাসি ফুটে সুন্দর-
অমল,বিমল, শান্ত---পবিত্র, মনোহর।
দুই চোখ ভরে' দেখি তা তখন আমি --
কামনা-বেদনা,দেহজ যন্ত্রনা হয়ে যায় দূর।
হঠাৎ যেই না, চোখের আড়ালে যাও তুমি সরে সরে
মনে হয় যেন আমার আকাশে সব তারা গেছে মরে।
বিপর্যয়ের সে ঘোর অন্ধকারে,হে প্রিয়তমা,
দেখায় মুক্তির আলো প্রেমের দেবতা, তাই-
দেহপিঞ্জর ভেঙে উড়ে যাই আমি, কল্পনা-পাখনায়--
চরণে তোমার নিতে একান্ত আশ্রয়,পরম সান্ত্বনায়।।
(Bitter tears =তিক্ত নয়, লবনাক্ত অশ্রুধারা, ইংরেজি সাহিত্যে এমনি ব্যঞ্জনা)।
বাংলা ভাষায় ভাবানুবাদ :
---দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ।
দেখার বিষয় হলো, পার্থিব জীবনের সংরাগ ধীরে ধীরে যেন
গাঢ় হয়ে আসছে। ধর্মান্ধ রক্ষণশীলতার রক্তচক্ষুর ভয় কাটিয়ে মানুষের মানসবৃত্তির অবরুদ্ধ ভাবগুলির প্রকাশ ঘটছে সাহিত্যে, শিল্পে যা নবজাগরণের চরিত্রধর্ম । এই নবজাগ্রত চেতনার চরিত্র বৈশিষ্ঠের অন্যতম পুরোধা-- ফ্রান্সিসকো পেত্রার্কা ।
২৪/৯ /'২১
দ্বিতীয় পর্ব
................................................
কবি পেত্রার্কার আলোচনা প্রসঙ্গে কবি J.D McClatchy বলেছেন (এই কথিকাটির আরম্ভের কালেই উল্লেখ করা হয়েছে) যে তিনি,পেত্রার্কা "dipped his pen in tears and wrote the poems that shaped our Sense of Love---its extremes of longing and loss ever since."
কথাগুলি সেই সময়কালে, ইউরোপীয় সাহিত্যের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সত্য ,কিন্তু ভারতবর্ষের সাহিত্য সৃজনের পটভূমিতে এবং বাংলার সাহিত্য সৃষ্টির ইতিহাসে এই Sense Of Love একেবারে গোড়ার কথা।
ইউরোপ খণ্ডে যখন মধ্যযুগ বা মধ্যযুগের অভ্যন্তরে অন্ধকারময় যুগ, বঙ্গদেশে--বৃহত্তর বঙ্গদেশ, পূর্বে আসাম দেশ থেকে পশ্চিমে মিথিলা, উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর --তখন কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দ।
"স্মরগরল খণ্ডনম্
মম শীরষী মণ্ডনম্
দেহি পদপল্লব মুদারম্।।"
বৈষ্ণব সাহিত্যের রসনির্ঝর ধারার সেই যে শুরু তার যেন আর শেষ নাই । গুপ্ত, পাল ,সেন রাজাদের পর থেকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভা(সভাকবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র, রামপ্রসাদ)--এই বিপুল কালখণ্ড জুড়ে তৎসম, তদ্ভব ,অবহট্, মৈথিলী, বাংলা--ক্রমবিবর্তিত ভাষায় যত সাহিত্য রচিত হয়েছে ভাবের প্রকৃতিতে, রসের বৈচিত্রে তারা এতই বর্ণময় যে রক্ষণশীলতার একমুখীনতা সেখানে কোথাও গ্রাহ্য তো হয়ই নি বরং কোথাও কোথাও কৌতুকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । শিব,কালী, কৃষ্ণ,বিষ্ণু দুর্গা (অন্নদা), দেবী দুর্গার ছেলে মেয়েরা --সকলেই মানবিক প্রবনতা ও প্রবৃত্তিগুলি সঙ্গে নিয়ে যেন মানুষের সমাজেরই অঙ্গীভূত।
ষড়রস বা বৈষ্ণব সাহিত্যের নবরসের অজস্রধার সুরধুনী- ধারায় সে সকল কাব্য-কবিতাগুলি পরিসিক্ত।
প্রেম, পূর্বরাগ, অনুরাগের ভাষা তো নিরামিষ,বেশিরভাগ
ক্ষেত্রেই রচনাগুলি দগদগে শৃঙ্গার রসে সংরক্ত ।
ভিন দেশী সাহিত্যের আলোচনার মাঝখানে হঠাৎই বাংলার ঐতিহাসিক কালের সাহিত্য ও সাহিত্য- রসের পটঘট নিয়ে বসা কেন?
কারণ হলো ওদেশে ধ্রুপদী সাহিত্য --(গ্রীক, হিব্রু, ল্যাটিন ভাষার সাহিত্য-সমৃদ্ধির যুগ-- খ্রী:পূ:সপ্তম-অষ্টম থেকে চতুর্থ- পঞ্চম খ্রীষ্টাব্দ), তার পরবর্তী যে হাজার বছর ইউরোপের মধ্যযুগীয় বন্ধ্যত্ব দশা, তখন , এই বাংলায় আমরা আমাদের সাহিত্যে সমস্ত মানবিক , জৈব-জীবনের অম্ল,মধুর, তিক্ত, কটু, কষা,রাগ-সংরাগগুলি প্রাণ ভরে' উপভোগ করে চলেছিলাম।
কিন্তু, একথা সত্য যে তার পরিসর ছিল অত্যন্ত সীমাবদ্ধ।
শিক্ষাহীনতা, শিক্ষাক্ষেত্রে নারী সমাজের অনধিকার, নির্মম কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, ধর্মান্ধতা, বাংলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ক্লীবত্বের জড়তায় এমনই অসাড় করে রেখেছিল যে আমাদের সুদীর্ঘ চর্চিত সাহিত্য সাধনার যে উদার মানসিকতার মানবিক প্রবনতা, সেটি সর্বত্রগামী হয়ে ওঠেনি ।
এই জড়তা থেকে মুক্তি পাওয়ার অবদমিত ইচ্ছাটি প্রবলভাবে দেখা গেল ইউরোপীয় জাতিগুলির এদেশে আসার পর থেকে। তাদের মধ্যে তখন ইউরোপীয় নবজাগরণের চেতনার উচ্ছ্বাস, বানিজ্য ও সাম্রাজ্য বিস্তার করার অদম্য লালসা, সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক ,ধর্মীয় আন্দোলনে প্রভাব বিস্তার করা, যা ত্বরান্বিত করেছিল বঙ্গসমাজের মানসিক বিকাশ ও বিবর্তন। সাহিত্যেও এসে গেল অতলান্তিক মহাসাগরের তরঙ্গবিক্ষোভ। মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহা প্রতিভায় ভর দিয়ে এলেন হোমার,ভার্জিল, তাসো, মিল্টন--
"... তুমিও আইস দেবী,
তুমি ,মাধুকরী কল্পনা,কবির চিত্ত-
ফুলবনমধু লয়ে' রচ' মধুচক্র
গৌড়জন যাহে আনন্দে করিবে পান
সুধা নিরবধি ।"
বিহারীলাল, রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে এসে গেল ইংরেজ রোমান্টিক কবি আর বাঙলার বৈষ্ণব কবিদের সুললিত গীতিকবিতার সুরলহরী।
গল্প-উপন্যাসের কথা এখানে থাক্।
কাব্য-কবিতা-সঙ্গীত সৃষ্টিতে একা রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের গঙ্গায় পদ্মায় নিয়ে এলেন শারদপূর্ণিমার ভরা কোটাল।
(---এ-কথা কিছু পরে )।
ক্রমশঃ ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়পাদ।মুদ্রণ বা মুদ্রাযন্ত্রের প্রচলন, বিদ্যালয়-বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন ব্যবস্থার বিবর্তন, থিয়েটার-নাটক-যাত্রাপালা, কীর্তন-কবিগান- রামলীলা-কৃষ্ণলীলা, রামায়ণ-মহাভারত-সংকলন ও প্রচার,ধর্মধারণায় ব্রাহ্ম ধর্মের অসাম্প্রদায়িকতা, শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের "যত মত,তত পথ"-য়ের উদার মানবতাবাদী চিন্তা-চেতনার সর্বত্রগামী পরিব্যপ্তি -- বর্ণাশ্রম--বিভাজিত, সংস্কারাচ্ছন্ন বাঙলার 'তাসের ঘরে' কালবৈশাখীর ঝড় এনে দিয়েছিল।ভাঙা ঘরের বাইরে উন্মুক্ত আঙিনায় এসে , "আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে" দাঁড়ালো বাঙলা। সাড়া পেল সে বিশ্বলোকের ।
পেত্রার্কার অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক সাহিত্য (সনেট) সৃজনের পূর্ববর্তী এবং সমকালীন ইউরোপের অতি সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্তান্ত বলার চেষ্টা করেছি যাতে সেই সময়ের সাহিত্যের অভিব্যক্তি বোধগম্যতার মধ্যে ধরা পড়ে। আবার আমাদের বাঙলার সাহিত্য বিকাশের ক্রমবিবর্তনটিও সংক্ষিপ্ততম আকারে (সপ্ততীর্থের জল এক গণ্ডুষপ্রমান) উপস্থাপিত করে বলতে চেয়েছি .. কিভাবে বিশ্বসাহিত্যের সৌন্দর্য-সৌরভ বাংলা সাহিত্যকে শতদলের গরিমা দান করেছিল।
Blank verse বা অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।, বাংলা ভাষায় এলো দ্বিপদী, ত্রিপদী ইত্যাদি পয়ার ছন্দের তালে তালে অমিত্রাক্ষর ছন্দের সমুদ্র তরঙ্গের উচ্ছ্বসিত কলতান । মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত , তাঁর মূর্তিমান প্রেরণা মিল্টনের মতো যতিচিহ্নের যথেচ্ছ অথচ সুপরিকল্পিত ব্যবহার এবং অন্তর্লীণ ছন্দের লয়-য়ের সাহায্য নিয়ে দেখিয়ে দিলেন কিভাবে সংস্কৃত মহাকাব্য-সমগোত্রীয় বীররসের সঞ্চার সম্ভব-- বাংলা ভাষার পেলব -কোমল দেহ- কাঠামোর বহিরঙ্গে শুধু নয় ,আবেগ -মথিত অন্তরঙ্গেও।
সঙ্গে সঙ্গে বিদেশী সাহিত্যের অনুসরণ, অনুকরণ ও অনুবাদের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিক, নতুন ভাব-ভাবনা এবং বিষয়-বস্তুর সঙ্গে পরিচয় হলো বাংলাভাষার।
এলো অমিত্রাক্ষর ছন্দ(blank verse), এলো গাথা(ode), এলো চতুর্দশপদী কবিতা(sonnet).
(এই আলোচনা শুধু কাব্য ভাষা, কাব্য রচনার গণ্ডীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ)।
এই বার । এইবার আমরা পেত্রার্কার অবিস্মরণীয় একটি sonnet- য়ের (ইংরেজি অনুবাদ) স্বাদ নিয়ে Shakespearean sonnets-গুলি দেখবো।
Sonnet- Xll
(During the life of Laura)
When Love his flaming image of her brow
Enthrones in perfect beautiy like a star,
As far as she outshines the rest,so far
I feel the blaze of passion surge and grow.
Yet still l bless the place, the hour when so
Supremely high,at light so singular
I dared to look."O heart, you blessed are
To gaze upon that pure, that golden glow,"
I murmur."She inspired the splendid thought
Which points to heaven and teaches honest eyes
All worldly lures and winnings to despise:
Through her that gentle grace of love is taught
Which by the straight path leads to Paradise,
And even here hope's holy crown is wrought."
বাংলায় ভাবানুবাদ
দুলাল বন্দোপাধ্যায়
"সুন্দর হৃদিরঞ্জন তুমি নন্দনফুলহার"
সৌন্দর্যের আলোকোজ্জ্বল তারা যেন আছে কপোলে,
বিকিরিত তার রশ্মিছটায় ম্লান দেখি বাকী সকলে;
আবেগ আমার জ্বলে ওঠে--বক্ষে পাবোনা জানি ,
তবু এই ভূমি,এ-শুভ লগন ভাগ্য বলেই মানি।
হৃদয় আমার, নিষ্কামনার দৃষ্টিতে দেখ এই পবিত্র বিভা,
ওই সুন্দর স্বর্গীয় প্রেম গোধূলি আলোর শোভা --
ও-প্রেমের শিখা পোড়ায় ভ্রান্ত দৃষ্টির বিহ্বলতা ,
ও প্রেমের আলো ধুয়ে দেয় কালো বাসনার মলিনতা।
প্রিয়ার আমার প্রেমের কিরণ এমনি সান্ত্বনার ,
ছটায় যে তার ঘুচায় আমার সকল অহংকার ।
"পার্থিব যত লালসার আর বিজয়ীর বিজিগীষা,
ঘৃণা করে সব দূরে দাও ফেলে,পাবে স্বর্গের দিশা।
এই ধরাধামে আশা মহিয়সী, জীবনের মহারাণী,
তারও মুকুট 👑 গড়ে দেয় প্রেম, দেবলোক বিজয়িনী।।"
(নামকরণ, রবীন্দ্রসঙ্গীতের একটি বাক্যবন্ধ)
এখানে রবীন্দ্রনাথের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে 'স্মৃতি' সনেটটি উদ্ধার করি :
ওই দেহ-পানে চেয়ে পড়ে মোর মনে
যেন কত শত পূর্ব-জনমের স্মৃতি।
সহস্র হারানো সুখ আছে ও নয়নে,
জন্ম-জন্মান্তরের যেন বসন্তের গীতি।
যেন গো আমারই তুমি আত্মবিস্মরণ,
অনন্ত কালের মোর সুখ দুঃখ শোক,
কত নব জগতের কুসুম কানন ,
কত নব আকাশের চাঁদের আলোক।
কত দিবসের তুমি বিরহের ব্যথা,🌻
কত রজনীর তুমি প্রণয়ের লাজ--
সেই হাসি সেই অশ্রু সেই-সব কথা
মধুর মূরতি ধরি দেখা দিল আজ।
তোমার মুখেতে চেয়ে তাই নিশিদিন
জীবন সুদূরে যেন হতেছে বিলীন।।
গঠন শৈলীর দিক থেকে পাওয়া যাচ্ছে না কী পেত্রার্কীয় প্রভাব ? তবে এ তো প্রভাত রবির মেদুর, কুণ্ঠিত আলো বিচ্ছুরণ। পরে নৈবেদ্য, চৈতালীতে গিয়ে আমরা পাব রবীন্দ্রসৃষ্ট অনবদ্য সব চতুর্দশপদী ।
(ক্রমশঃ)
.......................................................................
এখানে একটি অন্যরকম লেখা লিখে আবার ধারাবাহিক
আলোচনাটি আরম্ভ করবো। দূর আকাশে চাঁদ উঠেছে। ওই দূরদেশে আমার প্রবাসিনী দিদিভাইয়ের হাসি চুরি করেছে সে। দিদিভাইয়ের চলচ্ছবি দেখে তেমনি মনে হোল আমার। তাই আজ লিখব সেই পরীরাণীর কথা।
................................................................................
কথাবলা পুতুল
( একটি চতুর্দশপদী)
দুলাল বন্দোপাধ্যায়
এ কোন্ মাটিতে গড়া প্রবাসী পুতুল ?
দেখে তারে কবিমন আনন্দ- উতোল।
দেখা নয় শুধু , তার মধুমাখা স্বর ,
দিগন্তিকা বনানীর পাতার মর্মর।
ছন্দে দোলায়িত ছবি নয়ন-লোভন,
সুরের মায়ায় মুগ্ধ স্নেহ-সিক্ত মন ।
ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা, বিচিত্র জীবন--
ফুল পাখি প্রজাপতি,ভ্রমরগুঞ্জন ।
তার মাঝে চেনা মুখ, বাণী-সুর-গীতি,
প্রসন্ন প্রতিমা যেন অমরার দূতি।
বাংলার লাবন্য মাখা কোমল বালিকা-
ধরিত্রী-সরসী-নীরে কমল-কলিকা।
অমলিন কমলের বিমল সৌরভে-
সৌন্দর্যে,শোভায় থাকো অজেয় গৌরবে।
...........................................................
English version of the above poem--
A doll that sways
Dulal Bandyopadhyay.
A doll, a lively image --beauty embodied,
Whatever that be, sways in tune--
A poet cannot but be gay having such fortune.
She sings her songs and that resonance
Brings the murmur of the woods farthest.
Unknown to me the land in she lives
Unknown to me those flowers and elves.
Unheard the humming of those bumblebees,
Yet I think, there sings, our doll, the sweetest,
With a propitious , divine countenance,
All loveliness and with the voice softiest.
A lotus of our pool now in bloom in the lake,
Pray, wherever may that princess-flower be
Ever sacred, fragrant and radiant with beauty.
..,.............................................................................
................................................................................
🌻🌻
সূর্যমুখী
দুলাল বন্দোপাধ্যায়
সৃষ্টি-ঊষার ষষ্ঠীর দিনে
কন্যা বসুধা রাণী,
স্রষ্টা পিতার পেয়েছিল বর
আকাশে দৈব বাণী :
"সূর্য সোহাগী হয়ে থাকো, মাগো,
চিরায়ুষ্মতী হও,
'প্রাণের' আশিষ দিলাম তোমায়
প্রাণের কথাটি কও।"
সেই থেকে ধরা নবারুণ মুখ
রোজ দেখে প্রত্যুষে,
তার শরমের আভাটুকু নিয়ে
সূর্যমুখীরা হাসে।
এসকল অতি গোপন তত্ত্ব--
প্রেমের লীলাও বটে।
তোমরা জানো না,জানে শুধু কবি
ফুলেরা গোপনে রটে'।
অলি-কলি-আলো, কবি-প্রজাপতি
একসাথে বাস করে,
মিথ্যা মায়ার জ্যোৎস্না ছড়ায়
দুখের আঁধার ঘরে ।
_______________০____________
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন