সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫

শুভ নববর্ষ নাকি অশুভ অকাল

শুভ নববর্ষ নাকি অশুভ অকাল 

'শুভ নববর্ষ' বলা কিম্বা লেখা নূতন খাতায় ---
ক্ষান্তি দাও, ভুলে যাও। ঐ শব্দ দুটো দেখে বা শুনে
হাহাকার করে ওঠে আশা-ভাঙা বুক, লজ্জায় মুখ
খোঁজে অন্ধকার। বাঙলার লক্ষ গ্রামে, শত জনপদে
স্তব্ধ আজ সব‌ কথকথা -- শ্রীরাম পাঁচালী, কৃষ্ণলীলা,
আজানের গান, শুক সারী দ্বন্দ্বকথা ভৈরবীর তানে,
সান্ধ্য সংকীর্তন পালা, মৃত্যুঞ্জয়ী বেহুলার নূপুরের ধ্বনি
ইমনে বেহাগে। পরিবর্তে তার মানব-জন্তুর হুহুঙ্কার
আসে ভেসে, সাথে তার শোকের দমিত স্বর বঙ্গজননীর।
চেনা মুখ অচেনা চাহনি-- হয় হাতে ত্রিফলা ত্রিশূল,
নয় তীক্ষ্ণ তরোয়াল। কার রক্ত কোন্‌ প্রয়োজনে
জানে না সে। ঐ দেখ, মাঝপথে শ্মশানের চিতা ---
কার ভালবাসা পোড়ে কোন্ পাপে, কার অভিশাপে
জানে না সে। দোহাই তোমার, দেখো নাকো চেয়ে
ঝলসানো খড়ের কুটীর -- মাটির‌ দাওয়াটি জুড়ে
লাল রঙ ছোপ ছোপ দেওয়ালে, মাটিতে। শুনো নাকো,
ওই লাল রঙ নয়, তাজা রক্ত কিশোরের ; সবে মাত্র
শিথিল হয়েছে যার দেহ -- ছট্পট্ তঞ্ছট -- শীতল এখন।

বাঙলার নূতন বছর, হালখাতা ;  সুদল কদলি পাতা,
আমের পল্লব-ঢাকা সুমঙ্গল ঘট -- আল্পনা-চিত্রালি
দুয়ারে দুয়ারে, ভাঁড়ে ভাঁড়ে মিষ্টান্নের মধু-আমন্ত্রণ
ছিল তো সেদিনও, হয়তো বা রয়েছে এখনো।
কিন্তু 'নিমন্ত্রণ' ? বিষ মাখা বাক্যবাণে বিচ্ছিন্ন সমাজ।
যাক্ চলে বছরের প্রথম সকাল বারুদের গন্ধ মেখে---
ছাই-ওড়া, রক্ত-ধোওয়া রুদ্র বৈশাখের নৃত্য হোক্‌ আজ।

দুলাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
১লা বৈশাখ, ১৪৩২
ব্যাঙ্গালোর।
_______________________________________________










কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...