২২শে শ্রাবণ, শোকের না আত্মসমালোচনার ?
২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ (৭ই আগষ্ট ১৯৪১)। সেদিনের সেই বিষন্ন দিনান্তবেলা। জনসমুদ্রের ঢেওয়ে ঢেওয়ে মরণভেলায় মহামানবের যাত্রা হোল শেষ। রবীন্দ্র প্রয়াণের এমত একটি কথকথা শুনতে ভালো, বুকের মাঝে ছবির মত এঁকে রাখাও সুখের ; কিন্তু বাস্তবতা ছিল নিষ্ঠুর নির্মম, অমানবিক এবং সর্বোপরি অরাবিন্দ্রীক। শ্মশান যাত্রীদের একটি উন্মত্ত দল সেই দেবদেহ স্পর্শ করার অছিলায়, প্রণাম করবার বাহানায় পায়ের নখ, দাড়ি চুল তুলে নিয়েছিল। 'ভিড়' এই ভয়ে(?) রথীন্দ্রনাথ শ্মশানে যান নি, মুখাগ্নি করেছিলেন সুবীরেন্দ্র নাথ ঠাকুর, সম্পর্কে কবির নাতি। কবির অন্তিম যাত্রায় ওই নিদারুণ বিশৃঙ্খলা, তপোসিদ্ধ, পুততনুর ওই লাঞ্ছনা, ওই নিষ্কলঙ্ক 'সুন্দর'-য়ের প্রতি 'অসুন্দর'-য়ের কদর্য হস্তাবলেপন, 'বিশ্বহৃদয়রাজা'-র প্রতি সমকালের শাসক রাজার ওই উপেক্ষার ঔদাসীন্য সেদিন প্রমান করেছে রবীন্দ্রনাথকে এদেশ চিনতে পারেনি।''চিনিলেনা আমারে কি?" আজও কি দেশ চিনেছে তাঁকে ? আমরা, যারা স্বঘোষিত বঙ্গবাসী, উন্নাসিক রবীন্দ্রজীবী, তারাও এখনও, তাঁর অনন্তযাত্রার আশি বছর পরেও , চিনেছি কি তাঁকে ; সেই রবীন্দ্রনাথকে যিনি তাঁর সময়কালের পূর্বতন বাঙলাকে, বাঙলার মননশীলতাকে সুদীর্ঘ-আচরিত কূপমণ্ডুকতা থেকে মুক্ত করে বিরাট বিশ্বের সাথে যুক্ত করেছিলেন ? উত্তর হবে "না"। এই "না"-য়ের ভিতর যে হতাশা প্রকাশ পেয়েছে তার তাৎপর্য অতি গভীর। রবীন্দ্রনাথ স্বকায়ে নাই, থাকার কথাও নয়। তাঁর কায়া, অনিন্দ্য সুন্দর হলেও তা তো ছিল একটি মানব মূর্তির মাপেরই ; কিন্তু তাঁর বিপুল বিচিত্র সৃষ্টির মধ্যে যে বিরাট রবীন্দ্রনাথের অস্তিত্ব, সেই স্রষ্টাকে কি আজও আমরা চিনেছি ? এতকাল পরেও কবি রবীন্দ্রনাথ, দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ, রাষ্ট্রনৈতিক চেতনার রবীন্দ্রনাথ, সমাজমনষ্ক রবীন্দ্রনাথ, উদার ও মহামানবীয় ধর্মধারণার রবীন্দ্রনাথ, সর্বোপরি "সভ্যতার সঙ্কট" থেকে মুক্তিদাতা রবীন্দ্রনাথকে আমরা সম্যকরূপে চিনতে পারি নাই। তাঁকে প্রতি বছর দু'বার বরণ করি, স্মরণ করি কিন্তু গ্রহন করিনা। গ্রহন করতে পারিনি, পারিনা।
রবীন্দ্রনাথের সবকটি কাব্যগ্রন্থ পড়া হয়নি ; তবু বলি রবীন্দ্রনাথ অনাধুনিক। তাঁর নাটকগুলি বুঝতে পারিনা তাই নিজের সীমিত বোধের গন্ডিতে সেগুলি কাটছাঁট করে প্রদর্শন করি, উপন্যাস ও ছোট গল্পের ভাষার কাব্যময়তা ঠিক বর্তমান কালের সঙ্গে মেলে না--- যৌনতা যেন "রজকিনী প্রেম নিকষিত হেম/ কামগন্ধ নাহি তায়।" তাঁর সঙ্গীতের সুর 'চুরি করে' নিজের মতো গান রচনা করা যেতে পারে ; বাণীর অর্থ তো বুকে ঠোক্কর দিয়ে ঠিকরে বেরিয়ে যায়। ভিতরে ঢোকে না। মাঝে মাঝে গদগদ আবেগের হঠাৎ জোয়ার এলে 'বাথরুম সঙ' হিসেবে দু'কলি (কেননা অনেক গান জানি, শুনি ; তবে মনে থাকে, মনে রাখতে পারি ওই প্রথম দুটো কলি) গাওয়া হয়ে যায়। এখন আবেগের দিন শেষ, উত্তেজনার যুগ। মজা সেই গানে যে গানে শুধু শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নয়, ধমনীর রক্ত নেচে ওঠে। "হুলালা, হুলালা" তো সকল গানে করা যায় না। রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাধক শিল্পীরাও হতাশ ; না পায় ডাক, না আছে টাকা।
স্বনামধন্য সাহিত্যিক, কবি, অনুবাদক এবং সমালোচক বুদ্ধদেব বসু বহুদিন পূর্বেই একথা বলে গিয়েছেন যে রবীন্দ্রনাথের ভার বাঙালির কাছে বড়ই দুর্বহ। যৌবনে যখন দেশ ও বিদেশের খ্যাতকীর্তি সাহিত্য স্রষ্টাদের সৃষ্টির সঙ্গে পরিচয় হয় এবং সাথে সাথে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে 'প্রেম' আরম্ভ হয়েছে তখন বাঙালির মনন শক্তি ও গ্রহন শক্তিকে এই ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার মতো কথা অসহ্য মনে হোত। কিন্তু আজ বার্ধক্যের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে স্বীকার করতে বাধ্য হোলাম, রবীন্দ্রনাথকে শত অছিলায়, শতবার বরণ করা যায় -- গ্রহন করা যায় না, ধারণ করাও যায় না।
রবীন্দ্রনাথ কিশোরকাল থেকেই কবি হয়ে উঠেছিলেন এবং 'কড়ি ও কোমল', 'প্রভাত সঙ্গীত', 'সন্ধ্যা সঙ্গীত' থেকে আরম্ভ করে যৌবনের মধ্যকাল, বা গীতাঞ্জলির কাল অবধি যে সাহিত্য সম্ভার সৃষ্টি করেছেন তারই ভাব, বিষয় ও বৈচিত্র্য বিস্ময়কর! এ পর্যন্ত আমাদের জানা। গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয় ১৯১০সালে। এই সময়কালের পরবর্তী চার বছর আমরা অন্যতর রবীন্দ্রনাথকে পাই। সেই আলোচনার আরম্ভ ১৯১২ সালে পর।
১৯১২ সালের ২৭শে মে তারিখে রবীন্দ্রনাথ তৃতীয় বারের জন্য বিলাতের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন এবং দীর্ঘ ষোলো মাস ইংল্যাণ্ড ও আমেরিকায় কাটিয়ে ১৯১৩ সালের ৪ঠা অক্টোবর ভারতে ফিরে আসেন। এই সময়ের ঠিক অব্যবহিত আগে তিনি শিলাইদহে ছিলেন।শরীর তাঁর যথেষ্ট ভালোও ছিল না। তাই বিশ্রাম নেবার জন্যই মূলত তিনি শিলাইদহের শান্ত, শ্যামল পল্লীপ্রকৃতি বেছে নিয়েছিলেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন গীতাঞ্জলি, নৈবেদ্য, খেয়া, ক্ষণিকা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ থেকে নির্বাচিত কিছু কবিতা যেগুলি তিনি সেখানে ইংরেজি ভাষায় রূপান্তরিত করেন। এই রূপান্তরিত বা ভাষান্তর করা খাতাটি কবি তাঁর পূ্র্বোক্ত ওই তৃতীয় বারের বিলাত যাত্রায় সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এই খাতাটিই কবির জীবনে এনে দিয়েছিল যুগান্তকারী দ্বিতীয় পর্ব, যেখানে আমরা অন্যতর রবীন্দ্রনাথের কথা বলেছি। তর্জমাকৃত কবিতাগুলি সেখানকার (ইংল্যান্ডের) কবিবন্ধুদের --- যেমন রোটেনস্টাইন, ইয়েটস, আর্নেস্ট রীজ, ফক্স স্ট্র্যাংওয়েজ প্রভৃতি --- এমনি বিস্মিত, মুগ্ধ ও বিমোহিত করেছিল যে তাঁরা সমকালের সে দেশের বিদ্বজ্জন সমাজে শুধু আলোচনা নয় প্রচারও করতে থাকেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। ফলে আমরা অন্যতর রবীন্দ্রনাথকে পেলাম। গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের প্রকাশের চারটি স্তর।
প্রথম --- গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের গীতিকবিতাগুলি এবং অপরাপর কাব্যগ্রন্থ হতে নির্দিষ্ট কিছু কবিতার সঙ্কলন।
দ্বিতীয় --- সেগুলির ইংরেজিতে রূপান্তরিত করা।
তৃতীয় --- লন্ডনের ইন্ডিয়া সোসাইটি ১৯১২সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিন ইংরেজি গীতাঞ্জলির একটি সীমিত সংস্করণ (মোট সাত শ' পঞ্চাশ কপি) প্রকাশ করে।
চতুর্থ --- ১৯১৩ সালের ১লা মার্চ ম্যাকমিলন কোম্পানি কর্তৃক গীতাঞ্জলির একটি সুলভ সংস্করণ প্রকাশ।
ফলস্বরূপ শুধুমাত্র ইংল্যান্ডেই নয়, আমেরিকাতেও অগুনতি পত্রপত্রিকায় "গীতাঞ্জলি" বা "Song Offerings"-য়ের তুমুল আলোচনা শুরু হয়ে গেল। শুরু হয়ে গেল দেশের সীমানা ছাড়িয়ে দেশান্তরের সারস্বত পরিমন্ডলে কবি রবীন্দ্রের জয়যাত্রা। এইখানে প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে কিছু কথা বলে নিতে চাই।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর One of the Heroes throughout the ages, এবং তাই, স্বাভাবিকভাবেই এই বিপুল বিরাট ব্যক্তিত্বের যেমন একটি ভক্ত গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়, তেমনি নিন্দুকের দলও জন্ম নেয়। রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি রচনা বিষয়ে, বহুকাল যাবৎ, বহু পণ্ডিত বা পণ্ডিতম্মন্য উন্নাসিক, (শুধু নাসিকা নয়) ভ্রূকুঞ্চন করেছেন। প্রকাশ্যে বলেছেনও যে গীতাঞ্জলির ইংরেজি গদ্য রূপান্তরের শব্দচয়ন অনেকস্থলেই 'ভিক্টোরিয়ান' বা ভিক্টোরিয় যুগের। অনেকে আবার এমন মতও প্রকাশ করেছেন যে বাক্য গুলি 'সরল' নয় 'তরল'। এসকল অভিযোগগুলি বেশীরভাগই তাঁর নোবেল পুরস্কার লাভ করার পরবর্তী সময় কালের। কিন্তু পুরস্কারের সন্দেশ আসার আগে, ওই যে ষোলো মাস তিনি ইংরেজি সাহিত্যের ও ইংরেজি ভাষার দেশে অবস্থান করছেন, লিখেছেন, ভাষণ দিয়েছেন --- তখন তাঁর লিখিত ও উচ্চারিত 'ইংরেজি' সম্মন্ধে সেখানকার জাত ইংরেজের মনোভাব কি ছিল সেটি প্রণিধানযোগ্য।
"ম্যাকমিলান সংস্করণ গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হলে ইংল্যান্ড এবং আমেরিকায় কয়েক মাস ধরে শত শত পত্রিকায় অজস্র সমালোচনা প্রকাশ হতে লাগলো। তার ফলে রবীন্দ্রনাথের নামটি (সাম্প্রতিক) সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিখ্যাততমদের সারিতে উন্নিত হল। (কোথাও, কোন সমালোচনায় তাঁর ইংরেজি ভাষার উপর বিরূপ সমালোচনা হয় নি)। তাঁর কবিখ্যাতির সঙ্গে আরও দুটি খ্যাতি যুক্ত হয়েছিল। কবির সুন্দর প্রশান্ত মূর্তি এবং ব্যক্তিত্বের সহজ মহিমা।" ......আর্নেষ্ট রীজ তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন ---
"For a moment l was abashed: It was as if the prophet Isaiah had come to one's door."
এই মুগ্ধ অভিভূত ভাবের পরিচয় রোদেনস্টাইন, রোমা রোলাঁ, জা গেয়েনো, এদমঁ জালু প্রভৃতি আরো অনেকের স্মৃতিচারণার মধ্যেই আমরা বারবার পেয়েছি।
আর তার কথা বলার শৈলী ? তাঁর শ্রীমুখ নিঃসৃত বাঙলা ভাষা তো বাকদেবীর আশীর্বাদধন্য --- সুরেলা, সুমিষ্ট, ছন্দোময়। আর ইংরেজি ?
কবির "তৃতীয় খ্যাতিটি হোল ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে তাঁর বাগ্মিতার প্রায় অবিশ্বাস্য ইন্দ্রজাল। প্রথমে মার্কিন দেশে ইলিনয়, উইনকনসিন, হার্ভার্ড প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদগ্ধ গোষ্ঠী কবির এই পরিচয়টি পান এবং তাঁর কথা শুনবার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ..... ওয়েষ্টমিনিষ্টার গেজেট,
ইনকোয়ারার এমন কি ডেইলি হেরাল্ডের মতো লেবার পার্টির কাগজেও ধারাবাহিক ভাবে বক্তৃতাগুলির চুম্বক, আলোচনা, মন্তব্য ইত্যাদি যেভাবে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে সেগুলি পড়লেই বোঝা যায় কবির বাগ্মিতার ইন্দ্রজাল তখনকার ইংরেজ শ্রোতৃমন্ডলী কতখানি মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছিল।"
বহির্দেশে কবির এই প্রশংসার গুঞ্জন স্বদেশের বিদ্বজ্জন সমাজেও অনুরণিত হতে লাগলো এবং তার স্বাভাবিকও ছিল। এরপর যখন ১৯১৩ সালের ১২ই নভেম্বর সুইডিস অ্যাকাডেমি থেকে 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে' খবরটি রয়টারের কেবল মারফত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লো তখন কবির খ্যাতির গুঞ্জন উচ্চরোলে নিনাদিত হতে সময় লাগলো না। কবি কিন্তু সেই উচ্চনাদী জয়ধ্বনি ও তাঁর প্রতি উচ্চারিত স্তব-স্তুতিগুলিকে কোলাহল বলেই মনে করেছিলেন। মনে করেছিলেন 'জীবনের দুর্বিসহ বিড়ম্বনা' যা তিনি বন্ধু রোদেনষ্টাইনকে চিঠিতে জানিয়েও ছিলেন। সাধক কবির মনে হয়েছিল খ্যাতির এই বিড়ম্বনা তাঁর নির্জন ধ্যান ও সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিঘ্নস্বরূপ। কবির বয়স তখন আটচল্লিশ।
এই সময়কাল পর্যন্ত কবি রবীন্দ্রনাথকে আমরা চিনি, জানি এবং পেয়েছি ; যেমন পেয়েছিলেন তাঁর বিদেশী বন্ধুগণ। এর পরবর্তী কালের যে রবীন্দ্রনাথ, যে অবিনশ্বর রবীন্দ্রনাথকে আমরা 'অন্যতম ' রবীন্দ্রনাথ বলতে চাই, সেই রবীন্দ্রসত্তার সম্যক ও পূর্ণ পরিচয় আজও আমাদের কাছে (কিছু ব্যতিক্রমী রবীন্দ্রসাধক অবশ্যই ছিলেন এবং আছেন ও) অনাবিষ্কৃত।
এই আটচল্লিশের পরবর্তী আশি পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সঙ্গীত সৃজন, চিত্রাঙ্কন ও কর্মযোগ এমনিই বিপুল, ব্যপ্ত, বিচিত্র এবং প্রসারিত যে তার অংশ ভাগের বর্ণনা দেওয়া শিশির কণার সূর্য ধরার মতো বালখিল্য প্রয়াস বলেই মনে হবে। তাই সেই প্রয়াসটি পরিত্যাগ করে এসবের বাইরের অন্য আরেক রবীন্দ্রনাথের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যায় কিনা দেখি।
উনিশশো তের সাল অবধি সাংস্কৃতিক বিশ্ব একরকম ছিল। এই 'একরকম'-টি 'যে রকম' ছিল রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সেই বিশ্বের সমকালের শ্রেষ্ঠ চারণ কবি। স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা যায় ইংরেজি সাহিত্যের পণ্ডিত, অধ্যাপক ও সুবিখ্যাত সমালোচক Endru Bradley-র উক্তিঃ
"It looks as though we have at last a great poet among us."
(গীতাঞ্জলির টাইপ-কপি পড়ে তিনি উক্ত কথাগুলি লিখেছেন)
পাশ্চাত্যের সাহিত্যরথী ও সাহিত্য
সমালোচকদের দ্বারা বন্দিত এবং অভিনন্দিত রবীন্দ্রনাথের এই নোবেলজয় মিশ্র সংস্কৃতির ও বহু বিচিত্র ভাষা -ভাষীর দেশটিকে হতচকিত করে দিয়েছিল। আর স্তম্ভিত করেছিল সমকালের বঙ্গভূমির সাহিত্য রচয়িতাদের। বাঙলা ও ইংরেজি উভয়বিধ ভাষায় প্রকাশিত তাঁর সাহিত্য সৃষ্টি বিশ্বসাহিত্যের সমালোচকদের চিন্তায় ঘোর লাগিয়ে দিয়েছিল। অভিভূত বাঙলা দেশ রবীন্দ্রনাথকে চিনে নিল ভিন্ন দৃষ্টিকোণে। কলকাতা, বাঙলার সহিত্য-সংস্কৃতির চিরকালের বিচারক কলকাতার বুধমন্ডলী, ভক্তি ও বিরূপতা একাত্ম হয়ে স্পেশাল ট্রেনযাত্রায় শান্তি নিকেতনে গেলেন 'বিশ্বভারতীর' বরমাল্যজয়ী রবীন্দ্রনাথকে সম্বর্ধনা দিতে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করল কবিকে ডি. লিট উপাধি দেওয়া হবে। এমনি আরো সব ছোট বড় পুরস্কার, সম্মাননা, অভিবাদন, অভিনন্দন।
সেই সময়কাল অর্থাৎ ১৯১৩/১৪ সালে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথকে বাঙলা দেশ যেভাবে বরণ করেছিল, গ্রহণ করেছিল সেই পরম্পরা, এই বঙ্গভূমিতে, খুবই ব্যতিক্রমী কিছু গবেষণা ও মূল্যায়ন বাদ দিয়ে, এখনও, শতাধিক বছর ধরে প্রায় কৌলিক প্রথার মতো চলে আসছে। কিন্তু ১৯১৪ সালের পর থেকে রবীন্দ্রমানসের যে বিপুল বিবর্তন এবং উত্তোরণ ঘটেছিল সেটির গবেষণা প্রয়োজন।
(পুনঃপ্রকাশিত)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০৭/০৮/২০২৫
_____________________________________
দারুন লেখা
উত্তরমুছুনখুব ভালো লিখেছেন।
উত্তরমুছুন