(পরিত্যক্ত প্রাসাদের ভগ্নস্তুপ। ভাঙা প্রাচীর কোণায় একটি আশ্বত্থ শিকড় ছড়িয়ে, দীর্ঘ শাখা আকাশে তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নাম না জানা একটি 🐦 পাখী, হোক্ না বুলবুল, ডেকেই চলেছে অ-বিরাম। মনে হোল, পাখীটি যেন ধরিত্রীর প্রতিরূপ)।
দারুণ অগ্নিবানে
এই যে তৃষ্ণা ধরিত্রীর, সকাতর একান্ত কামনা ---
এখনো রয়েছে যারা ঊর্ধবাহু লতা তরু বনস্পতি,
চাতক প্রার্থনা নিয়ে মানব দানব পশু পাখি,
'এসো,শ্যামল সুন্দর' এসো তৃষাহরা, তাপহরা মেঘ।
এসো জলভারে, এসো জলধারে, বিদ্যুৎ-দীপ্ত
শিখায়, এসো বজ্রগর্জন-হুংকারে।
দগ্ধ ধরিত্রীর এ প্রার্থনা
প্রকৃতির দাক্ষিণ্যদানে পূর্ণ হবে অচিরাৎ তাও জানি।
কিন্তু মানি, প্রার্থনার চেয়ে অনুতাপ ছিল ভালো বহুগুণে।
ধংস করেছি বনভূমি, নদ নদী জলাশয়, টিলা ও পাহাড়,
শিলা ভেঙে তক্ষণে গড়েছি অজস্র তক্ষশীলা, জলহীন
পাষাণের তপ্ত মরুভূমি। মায়াহীন অনাদরে মাতা ধরিত্রীর
গর্ভ খুঁড়ে শোষণ করেছি নিত্য অস্থি মজ্জা রক্ত রস।
ক্ষমা নাই, ক্ষমা নাই --- রুদ্রতেজে চিতাবহ্নি জ্বলে ;
তবু দেখি পুরাতন জীর্ণ এক প্রাসাদের কোণে
মৃত্যুঞ্জয়ী অশ্বত্থের একাঙ্গ শাখায় সতৃষ্ণ একাকী বুলবুল
ক্ষীণকণ্ঠে গায়, 'দাও ফিরে সে অরণ্য, এসো মেঘ, দাও ফল ও ফুল।'
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯শে বৈশাখ, ১৪৩১,
সোনামুখী , বাঁকুড়া।
Darun
উত্তরমুছুন