রবীন্দ্র স্মরণ
এত কথা, অবিরাম ছন্দোবদ্ধ মুখরতা,
ব্যাকুলতা প্রকাশের শব্দের সৃজন,
আনন্দ ধারায় ভেসে মন্দার চয়ন,
পারিজাত মালা গেঁথে,
সুরঙ্গমাদের সাথে,
সুরধুনী তীরে
নন্দন বনের ধারে সুন্দরের বন্দনা সঙ্গীত।
আবার দুঃখের নিরন্ধ্র অন্ধকারে,
শোকের অতল গহ্বর খুঁড়ে বুকের ভিতরে,
জ্বালিয়েছ মণিদীপ।
গীতবিতানের পত্রপুটে ব্যথার কুসুম,
গীতিমাল্যে গীতাঞ্জলি দিয়ে
নৈবেদ্য সাজিয়ে
পূজারতি বিশ্ববিধাতার --
হে পূজারী কোন মন্ত্রে তোমার স্মরণে
আজ করি নমস্কার !
হে বিশ্বপথিক,
তোমাকে বাঁধেনি কোন দেশ,
আবদ্ধ করেনি খণ্ডকাল।
সোনার তরণী বেয়ে নিত্য নিরুদ্দেশ।
"আমারে তুলিয়া লহ অয়ি বসুন্ধরে" ;
কিন্তু তার পরে,
মুছে দিয়ে বসুধার দিকচক্রবাল
যাত্রা তোমার দূর থেকে দূরে, মহাশূন্যে,
আকাশগঙ্গার পরপারে
আলোকের মহাপারাবারে।
তোমার কথিত কথা, কথকথা, গানে ---
প্রাণময় ভূবনের মহাকলতানে
বিশ্ব বীণার বেতার ঝংকারে,
অরূপের রূপ জাগে।
আমার যে 'আমি', সে হারায়
শ্রাবণের ধারায় সিক্ত যূথীর ওই সৌরভ-সুধায়।
অনাদি এ মহাকাল সীমাহারা জগৎ সংসার,
তার সারাৎসার যে চৈতন্য-শিখা,
ক্বচিৎ বা দেয় দেখা বিদ্যুৎ আলোকে।
জাগায় এ চেতনায় সত্যের কঠিন রূপ।
জীবনের সাধনায় পেলে তাঁর ধ্রুব পরিচয়।
তাঁর কাছে পাওনি বঞ্চনা।
তাই সত্য তুমি, সুন্দর তুমি, আলোর পথিক,
মৃত্যুঞ্জয়, অমৃত পুরুষ।
হে স্রষ্টা, অন্তরতম, বেদনার মহাকবি,
আজি এই অশ্রু-ঝরা শ্রাবণ সন্ধ্যায়
প্রণমি তোমায় রবি।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,
২২শে শ্রাবণ, ১৪৩০
ব্যাঙ্গালোর।
খুবই সুন্দর।
উত্তরমুছুনসুন্দর
উত্তরমুছুনSunda
উত্তরমুছুন