সবই ভালো।
দুপুরের মেঘ, বৃষ্টি, মাঝে মাঝে ঘাম-গলা সূর্যের আলো।
মঞ্চে সুপ্রাচীন গ্রীসের বাঙ্ময় বাগ্মীকুল নব অবতারে -
ডেমসস্থিনিসসহ আলেকজান্দ্রিয়ার দশাধিক বাক্যবীর।
সম্মুখে উত্তাল, উন্মত্ত, ছাতা-মাথা মানুষের সমুদ্র সফেন।
বিদ্রোহ, বিপ্লব, ক্ষোভ, ঘৃণা, হিংসার বিষমাখা বাণী।
ধর্মকথা ? তাও আছে --- "সংঘম্ শরণম্ গচ্ছামি।"
ঔজস্বী, তেজোদীপ্ত বাক্যের তরঙ্গলহরী ছন্দ-লয়হারা।
সবই ভালো, কেননা এ সকলি আগামীর মঙ্গল ইঙ্গিত।
ক্লান্ত ইতিহাস দুদিনেই ভোলে, সাক্ষী থাকে ধর্মভূমি --
লক্ষ পদচিহ্ন-ক্ষত বয়ে চলে বছরে বছরে,
নির্বিকার দশক শতক।
তীর্থঙ্কর যাঁরা, ফিরে যান তাঁরা তুষার শীতল অবকাশে,
সুরক্ষিত আবেষ্টনে।
তীর্থযাত্রী ফিরে যায় গ্রামে, গঞ্জে, গ্রামান্তরে,
দূরে দূরে বাসে ট্রেনে কিম্বা হেঁটে হেঁটে নদ-নদী পারে --
শুধু দেহে নয়, মনেও বহন করে'
মারণরোগের সংক্রমণ।
ছড়িয়েও পড়ে কুটীরে কুটীরে।
হঠাৎই আগুন উঠে জ্বলে।
শ্যামল শস্যের ক্ষেতে, হোগলার ঝোপে, নদী পাড়ে
ক্ষতচিহ্নলাঞ্ছিত কিছু বোকা বোকা লাশও থাকে পড়ে।
কালো কালো পোড়া ঘর, ঝামা ইঁটের মতো রঙ
রক্তের দাগ থাকে দুটো দিন।
সইতে পারে না তাই, শ্রাবণের মেঘ
অঝোরে কেঁদে কেঁদে
ধুয়ে দেয় অমঙ্গলের অলক্ষুণে
ক্ষত ও ক্ষতির চিহ্ন যত --- মাটি হতে ;
তবে মা'টির বা বৌ'টির বা বোনটির
বুকে তারা থাকে আরো কিছুকাল বেঁচে কোনমতে।
তারপর বিস্মরণ !
মানুষের ইতিহাসে উপেক্ষিত মানব দেবতা।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০১/৮/২০২২
শিলিগুড়ি।
দারুণ লেখা দাদা
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনভালো লাগলো
উত্তরমুছুন