রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩

আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে

আষাঢ় কালিদাসস্য


কোথা মন্দাক্রান্তা ছন্দ, অমৃতনিস্যন্দ রসাভাস, 
সুতীব্র বিরহ ব্যথা প্রেমিক প্রাণের ? কোথায় অলকা,  
কুবের আলয় -- অকলঙ্ক সুন্দরের চির লীলাভূমি। 
উজ্জয়িনী -- মর্ত্যে অমর্ত্যধাম ? কোথা যক্ষ -- 
  অক্ষয়যৌবন ? যক্ষপ্রিয়া -- "তন্বী শ্যামা শিখরদশনা, 
পক্কবিম্বাধরোষ্ঠী" ? সন্ধ্যারতি মহাকাল মন্দিরপ্রাঙ্গনে ? 
অচ্ছোদ সরসীনীর, মন্দাকিনী-শিপ্রা স্রোতস্বতী ? 
আকাশ নির্মল নীল ঊর্বসীবসন মেঘ যার চঞ্চল অঞ্চল। 
সুগন্ধবহ বাতাসের স্পর্শে লাগে প্রেমিকের শুশ্রূষা-সোহাগ। 
দুঃখ শুধু মিলনের ক্লান্তি বহে' থাকে স্বল্পকাল, 
অশ্রু ঝরে আনন্দের মিলন উচ্ছ্বাসে। বিশ্রম্ভ- 
সংলাপে, নৃত্য-গীতে রতিরঙ্গে প্রমত্ত-যৌবন নরনারী। 

হে কবি, ভারতীর বরপুত্র, সবই মিথ্যা, কল্পনার কায়া ? 
কিংবা তা মায়ার সৃজন ? দুঃখ শোক জরা মৃত্যু ব্যাধি ? 
দ্বন্দ্ব যুদ্ধ রক্তস্নান ? ছিল না কি ঝঞ্ঝা কি প্লাবন ? 
দাবানল ? শাসন ত্রাসন ? দুর্ভিক্ষ শ্রাবস্তী নগরে ? 
মহামারি ? সবলের আস্ফালন, দুর্বলের নরক যন্ত্রনা ? 
সবই ছিল তবু তাপদগ্ধ পৃথিবীর বুকে, উজ্জয়িনী পু্রে 
পড়েছিল নবমেঘ ছায়া, নেচেছিল শীতল সমীর, 
শীর্ণস্রোত তরঙ্গ লহরী তুলে ছুঁয়েছিল তটিনীর কূল। 
তুমি কবি, কল্পমায়ার কোলে অকস্মাৎ ঘুমে অচেতন -- 
   স্বপ্নাবেশে খুঁজেছিলে প্রিয়ার ভবন -- বিরহের বেদনার  পারে।


আজ আবার আষাঢ়ের প্রথম প্রভাত। পূবের বাতাস, 
শিপ্রা নয়, অজয়ের উৎসমূলে, পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায়, 
দিগন্তরেখায় নবঘনশ্যাম মেঘ বিদ্যুৎ লেখায় লেখে 
তোমার কাহিনী কালিদাস, কালজয়ী মহাকবি। 
তাই হোক্, নিয়ে চল কল্পনার চিরানন্দ ভূবনভ্রমনে 
মেঘদূত সাথে। থাক্ পড়ে রসহীন তৃষ্ণার্ত জীবন। 
নামুক তোমার নামে আষাঢ়ের কামনার নবীন বর্ষণ। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১লা আষাঢ়, ১৪২৯ সাল। 
 









1 টি মন্তব্য:

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...