আজি এ বসন্তে
আজ অন্তত ভালো থেকো, কথা বল---
দুষ্মন্তকে যা বলেছিলে শকুন্তলা-কথা
হাজার বছর আগে মালিনীর তীরে, বনাশ্রমে।
দেখ, লুকিয়েছে শীত ছায়ায় ছায়ায়,
মরেছে কুয়াশা আলোর মায়ায়,
ঝলমল রোদে পাখনা ভিজিয়ে উড়ছে পায়রাগুলো।
মুকুলে মুকুলে আকুল আমের গাছ,
শাল পিয়ালের শাখাগুলো নত নব মঞ্জরী ভারে ;
তারা যুবতী ধরম দিয়েছে জলাঞ্জলি
মধুখেকোদের নিলাজ ছেনালীপনায়।
"------------------সুগন্ধবহ বহিল চৌদিকে।
সুস্বনে সবার কাছে কহিলা বিলাসী
কোন্ কোন্ ফুল চুম্বি' কি ধন পাইলা।"
এমন করে তো হবে না বলা মহাকাব্যের ভাষায়,
ছোট হয়ে গেছি আমরা এখন অনু লেখনীর শাপে।
বড় বড় সব আবেগগুলোকে ছেঁটে করি বনসাই,
ম্যাগাজিন সব ঠাসা কবিতায় ঠিকই ;
কিন্তু তাদের গতি হয় শেষে মুড়ি বেগুনির ঠোঙায়।
যাগ্গে সে-সব খেজুর আলাপি কথা, আজ তুমি গান গাও।
বইছে যেমন ফাগুন বাতাস উতলা এলোমেলো ;
বাণী বন্যায় হয়ে যাও প্রগল্ ভ-- অনবগুন্ঠিতা।
কুন্ঠিত যত কথা আছে বুকে আমি শুনি তুমি বল।
যুগের ধর্ম, স্বাধীন হয়েছে প্রেমও, ঠিক যেন প্রজাপতি,
ফুলে ফুলে তার অবাধ আমন্ত্রণ, নির্বাধ গতিবিধি।
ধর তুমি কাঞ্চনা, বিশাখা সন্ধ্যামনি --নিশীনিকুঞ্জে তার
অলস বিলাসে চোরা সে ভ্রমর ঊষার প্রথম আলোয়
বসেছে তোমার বিকচ বুকের মাঝে ; অনাহূত হোক
কিংবা সে রূপাহত -- একেই তো বলে বসন্ত উৎসব।
আনন্দ- ঋতু কম পড়ে গেছে নিত্য দিনের জীবনে।
পুরানো যা ছিল ঝরে গেছে আজ ঝরাপাতাদের সাথে,
নব বসন্ত আনন্দ মুখর নব নবীনের গানে।।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৩/০২/২০২৩।
(কবিতাটি গভীর একটি ভাবের বাহন। পড়ুন, মতামতগুলি লিখে দিবেন।)
অসাধারন লেখা ঠাকুর ,গভীর মানে আছে
উত্তরমুছুন