মধুর বাঁশরী বাজে আজও --- দিনমানে, রাত্রিবেলা,
সন্ধ্যায় সকালে, আনন্দে বিষাদে, বিরহে মিলনে,
রাগে অনুরাগে। এমন কাল কি ছিল কোন কালে ?
শুধুই কি কল্পনা বিলাস ? ব্রজধাম বা বৃন্দাবন,
মান, মাথুর, নৌকা বিলাস কিংবা রাসোৎব ---
সকলি কি কবিদের স্বপ্নাচ্ছন্ন হৃদয় প্রাঙ্গনে ?
নাকি ছিল ? ছিল বন বনান্তর, ছিল সরোবর --
স্ফটিক সলিল। যমুনা পুলিনে ছিল শ্যামরায়,
রাইধনি সঙ্গে গোপাঙ্গনা, ময়ূর ময়ূরী নৃত্য
গন্ধর্বের মৃদঙ্গের তালে, কঙ্কন কিঙ্কিনী আর
নূপুর শিঞ্জিনী ছন্দে উতরোল সে মধুযামিনী।
মুরলীধ্বনি সঙ্কেত-গামিনী শ্রীরাধার অভিসার
নীল যমুনার তটে ভরা ঘটে মলয়-দোলায়িত
বেতসের তরুকুঞ্জতলে। মর্তে যেন অমর্ত্যের
প্রণয়বাসর। কোথা বৃন্দাবনচন্দ্র, ব্রজের দুলালী,
বৃন্দাবন-বিলাসিনী রাই ? উধাও হয়েছে সব --
পড়ে আছে শব জনারণ্যে সে ব্রজলীলার।
মৃতপ্রেম জনপদে লালসা আগুন জ্বলে 'শ্যামেদের',
পুড়ে মরে কত 'রাধারাণী', ঊর্ধশ্বাস জীবনের ব্যর্থ
অভিসারে রাসকুঞ্জ নিসিদ্ধ পাড়ায়। দূর বা অদূর-
দর্শনে দেখি উপাখ্যান 'মৌসল' পর্বের এ মহাভারতে।
গেছে চলে যা ছিল যাবার।
আজ সন্ধ্যা রাস পৌর্ণমাসী। হৃদয় নন্দনবন
আবিল জ্যোৎস্নায় গেছে ভেসে, মন্দ ধূলি ঝড়ে
গন্ধ আসে তীব্র চোলাইয়ের। নগরীর প্রান্তদেশে,
প্লাস্টিকের চটে-মোড়া কোন এক বস্তির কুটীরে,
শ্রান্ত রজকিনী মাথার দুর্বহ ভার সঁপে তার প্রেমাস্পদ
নাগরের হাতে ক্লান্তিমাখা হাসিমুখে। এ নয় 'চণ্ডীদাস'।
নাই হোক্, হোক্ কোন ব্রাত্য 'দ্বিজদাস', তবু থাক্
এই প্রেম।'স্মরগরলখণ্ডনম্', বলুক সে সোহাগের
প্রাকৃত ভাষায়। তারপর রতিমগ্ন ঘুম, সুস্বপ্ন-বিলাস।
কল্পনার মোহাঞ্জন মেখে রাত কাটে, ভৌর হয় বুঝি,
অন্ধ বৈতালিক সুস্বরে বাজায় বাঁশী, কীর্তনের সুরে,
"রাই জাগো গো, জাগো শ্যামের মনমোহিনী
বিনোদিনী রাই।" উঠে পড়ে সোহাগিনী রজকরমণী।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০৬- ০১-২০২৩
ব্যাঙ্গালোর।
খুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনমধুর বাঁশরী বাজে কবিতাটি আমার খুব ভাল লেগেছে ৷
উত্তরমুছুন