সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২

বাঁশী, তুমি ডেকো না আমায়



চলতে চলতে পথে অকস্মাৎ অকারণে 
চলমান জীবনের মর্মমূলে একান্তে একাকী 
শুনি যেন সুদূরের বাঁশী। কে যে ডাকে কোথা হতে ? 
কোনদিন দেখি নাই তাকে, দেখি নাই তার সে ভূবন। 
কেনই বা--- তাও তো অজানা ; তবু মনে হয় তাই-ই 
যেন প্রার্থিত আমার। রয়েছি যেখানে, যা কিছুই নিয়ে, 
জানি আমি সবই তো ক্ষণিক --- দুদিনের পান্থশালা। 
তবু কত সুখ, কত দুঃখ, কান্না হাসির আলপনা আঁকা, 
আলাপন চোখে চোখে, হৃদয়ে হৃদয়ে ভালোবাসা, 
কত আশা, অঙ্গে অঙ্গে মিলন পিপাসা, কত চাওয়া 
দেওয়ার, নেবার। সব ছেড়ে, কোন এক রাত্রিশেষে  
নক্ষত্র আলোকসিক্ত, শিশির-শীতল লগ্নে অ-লক্ষ্যে 
প্রস্থান। ওই ডাকে সিদ্ধার্থের মহানিষ্ক্রমণ। নদের 
 নিমাই ঘরছাড়া, সে বাঁশীর সুরে দুকুল হারালো 
রাই, অকূলের খেয়া ধরেছিল মীরা বাই। কতো যে 
বিবাগী হিয়া, যুগে যুগে যুগান্তরে মায়াময়ী গৃহচ্ছায়া 
 ছেড়ে, সংরাগ সলিলরিক্ত, তপ্ত মরুপথে গেছে চলে, 
কোন্ সে অমৃতকুম্ভের সন্ধানে? তাই ভাবি মনে মনে, 
সংগোপনে। উত্তর কিছুই নাই তাও আমি জানি। 
কামনা নিগড়ে বাঁধা জগৎ সংসার --তার দিগন্তপারে, 
যাও তুমি মহাপ্রেম, থাকি আমি বদ্ধ মায়াডোরে।। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৯.১২.২০২২ 
ব্যাঙ্গালোর।












কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...