অন্ধকার
আলোর উৎস
"......অহম এব ইদম সর্বং।।"
"ন পশ্যো মৃত্যুং পশ্যতি ন রোগং নোত দুঃখতাম্ ।
সর্বং হ পশ্যঃ পশ্যতি সর্বমাপ্নোতি সর্বশঃ।। ইতি।"
---- ছন্দোগ্য উপনিষদ।
(ষড়্ বিংশ খণ্ড)
শ্মশানবন্ধু এসেছিল যারা সকলে গিয়েছে ফিরে।
একা আমি আর আলো-হারা নিশা, নীরব নিথর নদীচর,
অমাবস্যার নিবিড় কালিমা ঢেকেছ বিশ্ব চরাচর।
আকাশে চন্দ্র তারকা গিলেছে কৃষ্ণ মেঘের রাহু,
হঠাৎ সমুখে কে এসে দাঁড়ালো বাড়িয়ে নগ্ন বাহু !
নাই আবরণ, নাই আভরণ, উলঙ্গ কঙ্কাল ---
তমিস্রার এ কী ঘনীভূত রূপ, নাকি এ ইন্দ্রজাল !
"কে তুমি এখানে, মৃত না জীবিত, নিভন্ত চিতার পাশে ?"
চকিতে চেতনা ফিরে পাই, দেখি দিগন্তে চাঁদ হাসে।
পূর্ব গগনে ঊষসী আভাস, ভোরের তারাটি ম্লান।
কেটে গেছে মেঘ, দ্যুলোক ভূলোক করেছে প্রভাতী স্নান।
কখন এসেছে জোয়ারের জল, শবের দগ্ধরেখা
ধুয়ে গেছে ; চরে আঁকা আছে পলি-আলপনা লেখা।
বহে ছল ছল জাহ্নবী জল শাশ্বত প্রাণের কলতান,
চিতাভষ্মের কালোদাগ ধুয়ে মহাজীবনের জয়গান।
অন্ধ গুহার অন্তরে জাগে অমৃত মন্দাকিনী,
তমসাঘন রাত্রির বুকে তমোঘ্ন দিনমণি।
মরণের কোলে জীবনের দোলা-- এ কী সকরুণ খেলা !
নদীর এপারে শ্মশানের শোক, ওপারে বসেছে মেলা।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৫ই ডিসেম্বর, ২০২২
ব্যাঙ্গালোর।
Excellent
উত্তরমুছুন