বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

স্মরণ সঙ্গীত

শিক্ষক হওয়ার বাসনা ছিল। হতে পারিনি। গ্রামদেশে  'সান্ধ্য বিদ্যালয়' আরম্ভ করেছিলাম। রাখতে পারিনি। 
শহরে এসে, স্বঘোষিত মাষ্টারমশাই হয়ে পাঠশালা খুলে  বসলাম। সেও একদিন ভাঙতে হোল ; কিন্তু শিশু  কিশোরদের সেই মায়াভরা মুখগুলি, তাদের সুকোমল  কলকণ্ঠস্বর অপরূপ স্মৃতি হয়ে আছে জেগে আজও ---  ভুলতে পারিনি। 




ছিল এক মালঞ্চ বিতান। 
বহুরঙা পাখিদের নিত্য কলতান। 
দুরন্ত প্রাণের দুর্নিবার, অমোঘ আহ্বানে 
অন্য কোথা, অন্য কোনখানে 
দূরে দূরান্তরে, সমুদ্র নদীর পারে, 
দেশে দেশান্তরে, 
বনে উপবনে কাননে কান্তারে 
স্বপ্নের ডানা মেলে উড়ে গেল তারা। 
আসেনা বসন্ত-সখা, ফুটে না কুসুম, 
কাকলি কূজনহীন নিস্তব্ধ নিঝুম, 
শূন্য মালঞ্চে আমি একা বসে -- 
শুকানো পাতারা উড়ে বিরহের বিষন্ন বাতাসে। 

 দিনান্তের রবি নামে অস্তাচলে, 
পুষ্প-পত্রহীন জীবনের জীর্ণকুঞ্জতলে 
গাঢ় হয় অন্ধকার, 
স্মৃতি লেখে পাণ্ডুলিপি মূক বেদনার। 
অকস্মাৎ দূরাগত কন্ঠস্বর একটি 🐦 পাখির --- 
"মাষ্টারমশাই"...! 
উদ্বেল হৃদয়ে ডাকি, "আয় ওরে আয়, 
ঝরে-পড়া কুসুমের মালঞ্চ শাখায়, 
এক দণ্ড থাকো বসে, গাও সেই গীত 
শত বিস্মরণ মাঝে স্মরণীয় মধুর সঙ্গীত। 


দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৪/৮/২০২২ 
কলকাতা।















1 টি মন্তব্য:

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...