(শ্রীঅরবিন্দের জন্মদিন আর একটি দিন পরে। তাই এই কবিতাটিতে তাঁর দিব্য জীবনের সুমহান দার্শনিক অনুভবের অতি সামান্য ইঙ্গিত আছে। কবিতাটির সাহিত্যমূল্য অপেক্ষা দার্শনিক ভাব অধিকতর। সুধী পাঠক বিচার করবেন।)
'আমি' ছাড়া আর কেউ তো থাকেনা সেখানে।
তাই একদিন সঙ্গীবিহীন সঙ্গী পাবার প্রয়াসে
ঘর ছেড়ে পথে ফেলেছি চরণ কঠিন কঠোর আয়াসে।
মরুতীর হতে সাগরের কূলে শতেক যোজন গিয়েছি,
পাহাড় চূড়ায়, ঘনবন দেশে আঁধারে আলোকে ফিরেছি।
শত জনপদ, নগরী নগর, দেশে ও দেশান্তরে,
আকুল আবেগে চেয়ে চেয়ে দেখি প্রতিজনে প্রতিঘরে।
যে সখার ছবি হৃদয়ে এঁকেছি, চোখে যার মুখ ভাসে,
কোনখানে তার পাইনা ঠিকানা, মন বলে, 'ওই আসে'।
আলোর ঝলকে চমকে তাকাই, শিহরণ জাগে বাতাসে,
পথিকের গানে তার আগমনী, তনুবাস ফুল সুবাসে।
বাদলের মেঘে প্রেমাশ্রুধারা, চাঁদের কিরণে হাসি,
নির্ঝরিণীর কলতানে ডাকে, "ভালোবাসি ভালোবাসি"।
যখন গহন রাত্রি, বজ্রঘোষণ, পথহারা কাঁদি একা ---
ডাকি বার বার , "হে বন্ধু আমার, একবার দাও দেখা"।
বিদ্যুতালোকে ক্বচিৎ দেখি যেই, চকিতে হারাই তাকে,
বিরহ আঁধারে রেখেছে আমারে জীবন সঁপেছি যাকে।
হঠাৎই একদা এলো শুভক্ষণ, দিব্য জ্যোতির প্রভা,
চেতনার দীপ অন্তর্লোকে ছড়ালো বিমল আভা।
চরাচর মাঝে যা কিছু বিরাজে সকলের সাথে বাস তার,
অন্তরে তার নিত্য বিলাস প্রেমাতুর অভিলাষ যার।
মহাবিশ্বের সুবিপুল নীড়ে একসাথে করি বাস,
তবু কেন ভয় হারাই হারাই, শোকের দীর্ঘশ্বাস ?
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৩/০৮/২০২২
কলকাতা।
অসাধারণ
উত্তরমুছুন