(ঘর বাঁধার প্রেরণা নারী – তা সে মূর্ত হোক বা বিমূর্ত।)
মেঘগর্জণ, বিদ্যুৎ বাণ, অবিরল ধারা ঝরে'।
ডাল ভাঙা গাছ, চালা ভাঙা ঘর, সর্বনাশের শেষ।
কে কোথায় গেল, কী যে হারালো,কী রইল অবশেষ !
উৎকণ্ঠিত, লাজে কুণ্ঠিত বসে আছি ভাঙা ঘরে –
ফাটা মেঘে চাঁদ উঁকি মারে দেখি, যেন বিদ্রূপ করে।
রেগে বলি, "ওরে ভগবান, তোর নাই কি ভরম শরম,
যা ছিল আমার সবই ছারখার, এ কোন্ নিঠুর ধরম !"
ঝড় গেছে থেমে, জল গেছে নেমে, নগ্ন জীবনপুর,
ধন-মান-হারা ভিখারীর পারা বসে আছি ব্যথাতুর।
শীতল বাতাসে ভেসে ভেসে আসে সুবাস রজনীগন্ধার,
নিয়ে এলো স্মৃতি দূর অতীতের সেই রাত ফুলশয্যার।
সেদিনের চাঁদ, ফুলের সুরভি, নববধু প্রিয়তমা –
ফিরবে না আর কামনার ঘর, কাঙ্ক্ষিত প্রেম-প্রতিমা ;
তবুও জীবন চাইছে আবার ভাঙা এ কুটীর গোছাতে ?
হৃদয় আকাশে রয়েছে যে তার মন্দির হবে সাজাতে ?
রাতে-ফোটা ফুল, গন্ধে তোমার এ কোন্ মরমী মায়া,
বিস্মরণের ছায়াময়ী রাত আবারও ধরেছে কায়া ?
স্বপ্নের ঘর বার বার ভাঙে বারে বারে ঘর বাঁধা –
জীবনবাসরে স্মৃতির সুরভি তাই নিয়ে হাসা কাঁদা।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
০৬/০৫/ ২০২২
শিলিগুড়ি।
বেশ ভাল লাগলো
উত্তরমুছুনভাবা যায় না!
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো। আপনার সব কবিতাই ভালো লাগে।
উত্তরমুছুন