বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২

নূতন বছর

সুচেতনা এসো 


শুক্লপক্ষ,  পূর্ণিমার চাঁদ পূর্বাশার দিগন্তের পারে,   
অস্তাচলে সন্ধ্যাসূর্য – তপোশ্রান্ত বিশ্ববসু গৈরিক বসন। 
সুচেতনা, কর শান্তি পাঠ – শুভক্ষণ সমাসন্ন ! 
সন্ধিক্ষণ – সুদূরের, অদূরের । 
সার্ধ-দ্বিসহস্রবর্ষ আগে এমনই প্রশান্ত ছিল বিশ্বচরাচর, 
এমনই মৌনতা, এমনই নিষ্কম্প ছিল সায়ান্ন সমীর, 
যুগান্তর এসেছিল কালান্তর পরে, হিংসাদীর্ণ পৃথিবীতে। 
 বিস্মৃত সে অভ্যুথান, বিস্মৃত সে বাণী, 
বিস্মৃতির গর্ভে লীন সত্যধর্ম, সত্য অন্বেষণ। 

ওই আছে পড়ে অপাপবিদ্ধ এক কিশোরীর লাশ – 
ক্ষতযোনী, বিস্রস্ত বসনা – 'সভ্যতার উলঙ্গ প্রতিমা', 
ওই নাচে তান্ডব নর্তনে কাপালিক – ভ্রাতৃরক্ত-লাঞ্ছিত ললাট। 
বার্ধক্য শৈশব দিশাহারা, পল গোনে সর্বনাশা কালবৈশাখীর। 

তবু পূর্ণ চাঁদ, বয়ে আনে বিস্মৃত সে স্মৃতি ; 
সেই পুন্যক্ষণ – মৃত মায়াদেবী কোলে তথাগত , 
সমাগত মূর্তি রূপে বিমূর্ত চেতনা। 
 দেখা দাও হে 'অতীত', উদ্ভাসিত হও 'বর্তমান'। 

জরা, ব্যাধি, মৃত্যু-ঘেরা জীবনের ক্ষণিক সাধনা শুধু প্রেম। 
জ্বালাও সে প্রেমের প্রদীপ, সুচেতনা, 
আগত ও অনাগত কাল সন্ধিক্ষণে, আরো একবার। 
চিনে নিতে দাও আপনারে মানুষী গৌরবে। 
প্রসন্ন দৃষ্টিতে দেখে নি চেতনার মানবী স্বরূপ। 
বৈশাখী পূর্ণিমা আর নূতন বছর হয়ে যাক্ একাকার – 
শ্মশান-দুর্গন্ধে নয় – সৃষ্টির সৌরভে। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
নববর্ষ, ১৪১৯য়ের প্রাক্ সন্ধ্যা। 
_____________________________________________







1 টি মন্তব্য:

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...