সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

ফুলের রঙ লাল


ভাশ্বতী দিদিভাই রক্তরাঙা গোলাপ ফুলের ছবি পাঠিয়েছেন, অন্যসময় সুন্দরের সঙ্গে একান্ত এককত্মতা অনুভব করি। আজ সকালের একটি খবর আমার সমস্ত সত্ত্বাকে রক্তাক্ত করে দিয়েছে।

"কট্টরপন্থীদের হিংসাতে পুড়ল খ্রীষ্টানদের বইপত্তর, আস্ত রইল না যীশুর মূর্তিও। কর্নাটক, হরিয়ানা থেকে অসম সর্বত্র এই তাণ্ডব চলে।"
            –বর্তমান (পত্রিকা)
            ২৭শে ডিসেম্বর ২০২১ ।

"তোমাদের‌ চৈতন্য হোক্"
    –শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।


আজ সকাল থেকেই মনে হচ্ছে যা কিছু লিখছি সে- সবের যেন কোন মূল্য নাই। লেখার নেশায় লিখে যাওয়া। এই সুন্দর ‌পৃথিবীর সৌন্দর্যের স্বীকৃতি তো মানুষের চৈতন্যৈ। তার অভাব যে আজও কুৎসিৎ ভাবেই পরিদৃশ্যমান।
আজ থেকে দুই হাজার বছর আগে ক্রুশবিদ্ধ , রক্ত-লাঞ্ছিত, মুমুর্ষু ঈশ্বরপুত্র বলেছিলেন,
"O God, Forgive them, for they do not know what they are doing."
আজ যখন ‌দেখি, যখন শুনি এই ভারতের পুন্যভূমিতে, এই জ্ঞানালোকের উদয়াচলে, ঐ ঈশ্বরপুত্র,  দ্বাবিংশ শতাব্দীকাল পূর্বে,পুনরুত্থান(Resurrection) 
- য়ের পর তাঁর চরণচিহ্ন এঁকে দিয়ে গিয়েছেন যে তপোভূমিতে , সেখানে, তাঁর স্মরণমন্দিরে সঙ্ঘটিত  হোল ধর্মোন্মাদদের উন্মত্ত তান্ডব, তখন কণ্ঠ ভাষা হারায়, তখন ঃ

             যন্ত্রণাদগ্ধ হৃদয়
___________________________

কবে আর হবে চৈতন্য উদয়,
কবে হবে হায়, এ পাপের ক্ষয়,
নিশ্চেতনার হবে পরাজয় –
            জয়ী হবে মানবতা ? 

হে মানব, তুমি অমৃতের দান,
বিশ্বব্যাপ্ত এক মহাপ্রাণ,
এক পরিণাম– মহাপ্রস্থান,
              তবু কেন ভিন্নতা ?

ধর্মের নামে অধর্মের গ্লানি ,
লক্ষ্য শূন্য এই হানাহানি,
আত্মহননে আত্মাভিমানী
   এবার শরম মানো।

ধাত্রী ধরণী ‌কাঁদে‌ বেদনায়,
হাহাকার রব ঐ‌ শোনা যায়,
অস্ত সূর্য রক্ত ছড়ায়–
          নিয়তির ডাক শোনো !

দেবতার দূত বারবার আসে ফিরে যায় বারে বারে–
আর কতকাল ফিরাবে তাঁদের "ব্যর্থ নমস্কারে ?"।

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
২৭/১২/২০২২
ব্যাঙ্গালোর।

1 টি মন্তব্য:

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...