অনেক দিন হোল আমার পাঠকদের বাংলা প্রবন্ধ উপহার দেওয়া হয় নি। টেলিভিশনের ভীষণ কলরোল ছেড়ে বসুন এসে মাঝের ঘরের কোনার চোকিটার উপর ,চাদর মুড়ি দিয়ে এই শীতের সন্ধ্যায় । সাহিত্য বিষয়ক যে সন্দর্ভগুলি এর আগে লিখেছি সেগুলি বেশ ভারী । এমনিতেই প্রবন্ধ পড়ার ধৈর্য আমাদের খুবই কমে গিয়েছে । কারণও আছে । লেখাপড়া ভালোবাসেন যাঁরা তাঁরা জীবিকা নির্বাহের তাড়ায় এমনই উদ্ব্যস্ত যে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও উপায় থাকে না । তারউপর গুরুগম্ভীর বিষয় হোলে ভাবনারও দায় থাকে। তাই হাতে পত্রিকা নিই , পাতা ওলটাই , কিন্তু প্রবন্ধের পাতাগুলি সযত্নে পরিহার করি।গবেষকদের কথা বলছি না ,বলছি কর্মব্যস্ত সাধারণ পাঠক, যাঁরা সংসার , পেশা আর নিত্য কর্তব্যের শিকলে বাঁধা , তাঁদের কথা । পথের পাকদন্ডী , যানবাহনের জট-জটলা যাঁদের বহমান দিনের প্রায় সবটুকুই গ্রাস করে নেয় । এগুলি অবশ্য বাইরের কারণ । এর সঙ্গে মিশে আছে একটি আপাতঃ দুর্লক্ষ্য কিন্তু প্রধান কারণ । কী তা ? সেটি হোল রস । আমি এখানে সংষ্কৃত সাহিত্যের ষড়রস বা বৈষ্ণব সাহিত্যের নবরসের ভিয়েন চড়াবো না। আমি বলব ওই বড়ু চন্ডিদাসের শ্রী কৃষ্ণকীর্তনের নিত্যভোগ্য , উপাদেয়, অম্ল-মধুর-তিক্ত-কটু-কষা মেশানো, জিভে-জল -আনা রসের কথা। অন্তরের ভাবের জমিটিকে উৎসেচন করা নয় ,বহিরঙ্গের রিপুগুলিকে উৎসিক্ত করে রাখা। দূরদর্শন যেমন করে আরকি। তবে এক্ষেত্রে বিষয় নির্বাচন বেশ কঠিন । এ তো আর টিভি সিরিয়াল নয় যে মাঝে মাঝে এ ড দিয়ে চাঙ্গা রাখা যাবে। এই বিষয়-নির্বাচন বিষয়টিও আবার জটিল । হেন কোনো বিষয় নেই যে বর্তমান হস্তদর্পনে তাকে পাওয়া না যায় । বিদ্যুতের আলো এসে যেমন ভুত তাড়িয়েছে , চলমান দূরভাষ যেমন চিঠিপত্তর তাড়িয়েছে তেমনি সবজান্তা মুঠিযন্ত্র এসে তথ্যমূলক প্রবন্ধের গলা টিপে ধরেছে । এখন ভাব ও ভাবনার উপর (Reflexive) কিছু যদি লেখা যায় ।
তা সেরকম একটা ভাবনা (ভাব বলতে পারো) আমার এলো এই দু হাজার একুশ সালটির ডিসেম্বর মাস আসতে আসতে। একদিন একটা কবিতা লিখলাম । কবিতাটি এইরকম :
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন