বর্ষা আসে বাথানবাড়িতে
আমার ঘর সাঁওতাল পরগনায়। এখন কিছু লেখক বা কবি, যাঁরা ঝাড়খণ্ড বা ছোটনাগপুরের মালভুমি অঞ্চলে দু'একটি বার পরিভ্রমণে গিয়েছেন, তাঁরা ওখানের আদিবাসী, অধিবাসীদের ভাষা নকল করে' , তাদের জীবনছন্দের বাইরের দিকটির প্রতি লক্ষ্য রেখে কবিতা, গল্প রচনায় মন দিয়েছেন৷ কিন্তু যাঁরা ঝাড়খণ্ড বিশেষজ্ঞ সাহিত্যিক যেমন সুধীর করণ ( চাইবাসা), নন্দলাল বাউরি (পশ্চিম বর্ধমান) এবং আরো অনেকে, তাঁরা জানেন ওই কথ্যভাষা উচ্চারণগতভাবে এমনই বিচিত্র এবং গোষ্ঠীগতভাবে এতই বিভিন্ন যে লেখ্যভাষা হিসাবে তাকে গ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সাধারণ চলিত বাঙলায় অসাধারণ গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করতে তাঁদের তো অসুবিধা হয়নি।
আমি আমার লেখা একটি কবিতা ও তার ইংরেজি অনুবাদ।
_______________________________
বর্ষা আসে বাথানবাড়িতে
বিকালে আঁধার নামে বাথানবাড়িতে।
মুক্তকেশী, সিক্তবসনা দুলালী মেঝান
আধডোবা আলপথে চলে আর টলে -
বুকে নিয়ে থৈ থৈ কামনার ঢেও।
রাখাল বাগাল, হেলে, ঘেঁষুড়ে ছোঁড়ারা
ড্যাব ড্যাবে চোখে দ্যাখে আর মরে।
সেও চায় ঠারে ঠোরে, ঠোঁট টিপে হাসে।
কিন্তু যাকে ভালোবাসে সে যে ওই দূরে -
ঠাওর গিয়েছে ঠিক তার ঠিনে ।
মাদলিয়া হিরণ সোরেন -
কাঁধে হাল, গতর সুঠাম, মারাং জোয়ান।
'উয়ার ল্যেগেই, তো ধীরে ধীরে চলা ,
পিছল কাদায় পড়া কতবার করে।
মাদলিয়া হিরণ সোরেন -
কাঁধে হাল, গতর সুঠাম, মারাং জোয়ান।
'উয়ার ল্যেগেই, তো ধীরে ধীরে চলা ,
পিছল কাদায় পড়া কতবার করে।
ইঙ্গিত বুঝে নেয় জঙলী হিরণ
বেসামাল দুলালীকে ছুটে এসে ধরে।
জুত করে সামলায় হাল,
অন্য হাতে পাঁকালি দুলালী।
বড়ই নিলাজ এই তেঁদড় হিরণ -
জলকাদা দ'লে দ'লে
গাঁয়ে ফেরে মু-আঁধারি সাঁঝে।
ওদের সাথেই আসে মাড় ভাত ,
সৃষ্টি হাসে যুগ যুগান্তর।
রজঃস্বলা ভূমি বৎসলা হয় শাওনে আঘনে।
প্রাণোচ্ছলা ধরিত্রীর বুকে
প্রেমের প্লাবনে
ভেসে ভেসে আসে,
হাসে, কাঁদে, বাথানে, সরাণে।
ভেসে ভেসে চলে যায় অজয়ের স্রোতে,
জুত করে সামলায় হাল,
অন্য হাতে পাঁকালি দুলালী।
বড়ই নিলাজ এই তেঁদড় হিরণ -
জলকাদা দ'লে দ'লে
গাঁয়ে ফেরে মু-আঁধারি সাঁঝে।
ওদের সাথেই আসে মাড় ভাত ,
সৃষ্টি হাসে যুগ যুগান্তর।
রজঃস্বলা ভূমি বৎসলা হয় শাওনে আঘনে।
প্রাণোচ্ছলা ধরিত্রীর বুকে
প্রেমের প্লাবনে
ভেসে ভেসে আসে,
হাসে, কাঁদে, বাথানে, সরাণে।
ভেসে ভেসে চলে যায় অজয়ের স্রোতে,
দামোদরে, সুবর্ণরেখায়। ছোট নাগপুরের
তারা ছোট ছোট প্রাণ
হিরণ সরেন আর দুলালী মেঝান।
হিরণ সরেন আর দুলালী মেঝান।
(পরিমার্জিত ও পুনঃপ্রকাশিত)
দুলাল চন্দ্র বান্দ্যোপাধ্যায়
০২/১০/২০২৪
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন