ডাইনি অপবাদে ঝাড়গ্রামে নৃশংস হত্যা - এ বি সি ডি -- আনন্দ
(ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৭)
মোরা সবচেয়ে বড় জাতি।
শাঁখফুঁকা গ্রামে আজ বিরাট আসর
মাঝকুলি হরিমঞ্চে জনগণ-গুরু পাঁচজন।
পঞ্চরত্ন শোভা যেন বল্লাল সেনের রাজসভা।
মাথার পিছনে গোক্ষুরাকৃতি টিকি আছে দুজনের,
আর দুজনের কপালে রয়েছে আঁকা চন্দন তিলক।
একে একে ওঠে আর জোরে জোরে বলে :
"বেদ, ব্রাহ্মণ, উপনিষদ, পুরাণ, গীতা, চন্ডী --মহাশাস্ত্র।
শুনেছ তো নাম ?"
" - শুনেছি শুনেছি মহাশয় -"
সমবেত জনতার কন্ঠস্বরে দ্বিধাহীন সায়।
"তবে কর প্রণাম " - মাথা নিচু হাজার লোকের।
"যুগ যুগান্তর ধরে সভ্যতার দীপ্ত মশাল জ্বেলে
ধরেছি আমরা। অজ্ঞানের অন্ধকার হতে
মুক্ত করে ধরাধাম মহাজন কত -- বর্ধমান,
বুদ্ধদেব, আচার্য শঙ্কর, শ্রীচৈতন্যদেব এসেছেন,
গেয়েছেন অমরার বাণী - জানো তো তা ?"
"জানি জানি" - আবার উচ্চরোল - "কর নমস্কার "
আবার দু হাজার হাত হোল এক হাজার।
"আর শোন, আমরা আর্য - বিশ্বশ্রেষ্ঠ নর।
ধর্মে, কর্মে, জ্ঞানে কত উঁচু আমাদের মাথা --
দেখাও তা , চল , গড়ে' তুলি বিপুল দেউল ;
যার তলে শতকোটি সভ্য নরনারী হবে জড়ো।
সিন্ধু সভ্যতা গেছে যাক, হিন্দু সভ্যতা হবে বড়।
হাততালি, জয় জয় -- জয়াক্কার চারিদিকে।
এমন সময় উদ্ভট, উৎকট হট্টগোল এল ভেসে।
সকলে পিছনে ফেরে, দেখে 'মহাবীর' নামের তরুণ
এক হাতে কাটা মুন্ডু, অন্যহাতে লাল তরবারি।
রক্তের ছোপে ছোপে রঙ্গিন শরীর নিয়ে
ছুটে আসে নাচের ভঙ্গিতে।
পিছে পিছে তার
সন্ধ্যা আসে দ্রুতপায়ে আঁধার চাদরে
ঢেকে দিতে মেয়েদের মুখ। সভাভঙ্গ।
জনগন-অধিনায়ক কোথায় উধাও ? কিছুক্ষণ
এদিকে ওদিকে ছোটাছুটি ; তবে মোটামুটি
স্বস্তি এল তো গাঁয়ে - মহাধর্ম ডাইনি সংহার।
অমানবিক নারকীয় -- টিভিতে এমনই বল যা তা ;
তবু মনে রেখো পাঁচ হাজার বছরের পুরানো সভ্যতা।
(লেখাটি পরিমার্জিতরূপে পুনঃ প্রকাশিত হোল।)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২১/০৯/২০২৩।
-----------------------------------------------------------------
-----------------------------------------------------------------
লেখকের লেখনীতে যেমন সত্যতা আছে তেমনি আছে হৃদয়ের ছোঁয়া । মানুষের মন ছুঁতে পারার মত বিশাল ক্ষমতার অধিকারী । অনবদ্য
উত্তরমুছুন