শ্রীরামকৃষ্ণের পুন্য জন্মতিথি
ধরিত্রীর চতু্ঃসীমা থেকে নিশিডাক, '"আয় আয়,
ওই দেখা যায় স্বর্গের দুয়ার। এসো ছুটে ছুটে,
নয় নিবে লুটে ওরা-তারা স্বর্গের সম্পদ, সুধা অমরার।
যোগ-ক্ষেম-মোক্ষ লক্ষ্যে রেখে, দাও ডুব ওই তীর্থনীরে--
শ্রীহরিচরণ-নিঃসৃতা, চন্দ্রচূড়জটাজাল-সমুদ্ভুতা জাহ্নবীর।"
অগণন নরনারী, ধনী-মানী, সুখী-দুখী, ক্লিন্ন-ক্লিষ্ট,
কিংবা সংসারের নিত্যদ্বন্দ্বে দীর্ণপ্রাণ চলে ঊর্ধশ্বাস।
আরো একবার অমৃতকুম্ভের সন্ধান-- (নয় দেবতার,
নয় দানবের) গণদেবতার সমুদ্রমন্থন। ওঠে সুধার
কলস, ওঠে হলাহল। মহাকোলাহল মাঝে,
কার ভাগ্যে জুটেছে যে কতটুকু জানে না সে নিজে।
তীর্থযাত্রা শেষে ফিরে নাই যারা, যারা হোল হারা,
তারা কি গিয়েছে স্বর্গে চিরতরে ? সত্যই কী সেই প্রাণকণা,
চেয়েছিল ছেড়ে যেতে এই মর্ত্যবাস অমরার আশে ?
প্রশ্নাতুর বসে আছি কামারপুকুরে এক কুটিরের ছায়ে।
অকস্মাৎ একি ! জ্যোতির্ময় নরশিশু সেই গদাধর।
সুবোধ অবোধ মুখ, বালকৃষ্ণ যেন যশোময়ী কোলে।
চিরন্তন নারীত্বের মৃত্যুহীন অ-মৃতের বাণী মাতৃশ্লোক,
লেখা দেখি সন্ধ্যাকাশে আলোক লেখায়, "চৈতন্য হউক।"
দুলাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩১
শিলিগুড়ি।
খুব ভালো লেখা
উত্তরমুছুন