কোমল শান্ত উজ্জ্বল সুন্দর নক্ষত্ররাজি অসংখ্য রয়েছে আকাশে। দিনের বেলায় দেখি না কেন তাদের ? ঐ যে রবি --- বিপুল, ব্যপ্ত জ্যোতির্ময় যবনিকার আড়াল রেখেছে বিছিয়ে। সবিতৃদেব অস্তাচলে যামিনী যাপনে যেতেই তারকার দল, দীনতার নিরাবরণ সৌন্দর্য নিয়ে, আত্মতৃপ্তির স্মিতহাস্যের কিরণ ছড়িয়ে বলে,
"শাঁখার সোনার পাত এতটুকু,
কচি কাঁচপোকা টিপ,
লাবনীর নভে সাঁঝের তারকা
সুষমার হেমদীপ।"
____________কুমুদ রঞ্জন মল্লিক।
আমি এই তারকারাজির কথাই বলতে চাইছি বক্রোক্তির মধ্য দিয়ে। কুমুদ রঞ্জন মল্লিক, কালিদাস রায়, দুই সত্যেন্দ্র, করুণা নিধান বন্দ্যোপাধ্যায়, মোহিতলাল মজুমদার, জসীমউদ্দীন, বন্দে আলী মিঁয়া, কামিনী রায়, অরুন্ধতী দেবী ------- কত নাম করি ? বাংলার সাহিত্য আকাশে এমনই সব কবি-নক্ষত্রের চির অম্লান কাব্য- কুসুমের বর্ণবিভাস, সৌরভের ধূপধূমমায়া।
আমার সদ্য রচিত এই কবিতাটি সে সকল তারকাদেরই স্মৃতির আলোকরেখায় লেখা। ভালো লাগবে সকলেরই। ______দুলাল চ. বন্দ্যো.।
বসন্ত বিদায়
কাননে কাঁপন লাগলো সেদিন চৈত্রমাসের শেষে,
সোনার বরণ কনক চাঁপা পড়লো হঠাৎ খসে।
শুধায় তাকে ভুঁইচাপা ফুল, ''কি হোল তোর ভাই ?''
চুপটি-মুখ কনক চাঁপা, কথার সুবাস নাই।
কনক চাঁপার মা 'তরুণী' মর্ম ব্যথায় বলে,
"দেখিস না তুই, মেঘের ভেলায় বসন্ত যায় চলে ?"
দীর্ঘশ্বাসে কানন ভাসে, উষ্ণ তারি হাওয়ায়
ব্যথাতুরা মেয়ে আমার শোকে চেতন হারায়।
ভুঁইচাপা ফুল মাটির মেয়ে থাকে মাটির কোলে,
বড় গাছের করুণাতে থাকে ছায়ার তলে।
কখন আসে ফাগুন মাসে ঋতুর রাজকুমার,
আকাশ বাতাস নম্র হয়ে অর্ঘ্য রচে তার,
কখন জাগে ললিত রাগে অভিসারের তান,
কখন কোকিল কণ্ঠে তোলে সেই আলাপের গান,
কখন ভ্রমর পাখায় নিয়ে সোহাগী মন্দিরা,
কুলীন ঘরের বিকচ ফুলের যাচে মধুর ধারা,
এসব কিছুই জানে না তো ভূঁই লতানো চাঁপা।
দীন তৃণদের বস্তিতে বাস নয় সে সূর্যতপা।
মলয় বাতাসে আকাশে ওড়ানো রঙিন উত্তরীয়,
রাঙা চুম্বনে করেনি সোহাগ, বলে নাই, "ওগো প্রিয়,
দীনতার অবগুণ্ঠন খোলো, তোমার প্রেমের সুরভী
পায়নি, পাবেনা কোনদিনও রাণী, কুসুম বর্ণগরবী।"
ভুঁইচাপা ফুল ভূমিতে লুটায় কিন্তু প্রেমের ধূপে,
অলক্ষ্যে তার প্রিয় দেবতার পূজা করে চুপে চুপে।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২০শে চৈত্র, ১৪২৯,
০৪ এপ্রিল ২০২৩।
Darun
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর কবিতা,আপনি বরাবর পাঠাতে থাকুন
উত্তরমুছুনকি অসাধারণ অনুভূতি... খুব ভালো লাগলো দাদা 🙏💐
উত্তরমুছুন