ক্রৌঞ্চমিথুন ও মহাকবি বাল্মীকি
ক্রৌঞ্চমিথুন গাইছিল গান প্রেম নিবেদন ছলে।
সহসা ব্যাধের বিষাক্ত তীরে একটি পাখীর প্রাণ
পড়ে গেল ঝরে যেন ঝরা পাতা, থেমে গেল প্রেমগান।
সখাহারা পাখী কেঁদে কেঁদে ফিরে তমশা নদীর তীরে,
সেই শোকাকুল হাহাকার শুনে ঋষি ভাসে আঁখি নীরে।
মর্মবিদার শোকশেল-বেঁধা ঋষির কণ্ঠ হতে
নিষাদের প্রতি অভিশাপ বাণী স্ফুরিত শোকাভিঘাতে।
"মা নিষাদ প্রতিষ্ঠানাং ত্বমগম শাশ্বতীঃ সমা।
যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতং।।"
বিষাদমগ্ন মহাহৃদয়ের নিঃসৃত মহাবাণী,
জন্ম দিয়েছে শাশ্বতকালের মহাগাথা রামায়ণী।
পাদবদ্ধ অক্ষরে বাঁধা বীণার তন্ত্রী সুরে,
পাতায় পাতায় সে মহাকাব্যে বিষাদ অশ্রু ঝুরে।
রাম বনবাসে, মৃত দশরথ, শোকার্ত রাজপুরে
ফিরেছে ভরত, ভাঙা মনোরথ বিষাদ রইল ঘিরে।
বনবাসে সীতা, হোল অপহৃতা, বিরহী রামের কান্নায়,
দ্যুলোক ভূলোক বিমথিত হোল অসহ শোকের বেদনায়।
"কান্দিয়া বিফল রাম জলে ভাসে আঁখি।
রামের ক্রন্দনে কান্দে বন্য পশু পাখি।"
অপরূপ রূপ, রাজকুলবধূ, শ্রীরামঘরণী সতী।
অশোক কাননে কাটায়েছে কাল দুখিনী অশ্রুমতী।
সে অশ্রুভার হয়েছে অপার জীবনের শেষ অবধি,
লোক অপবাদে, অনল দহনে, ধরাবুকে নিল সমাধি।
বীরত্ব ছাপিয়ে শোকার্ত রামের মূর্তি দেখেছি বার বার,
অভিষেক হতে অন্তিমে গিয়ে সরযুতে শেষ অভিসার।
রঘুকুলমণি দাশরথী যিনি নারায়ণ নরচন্দ্রমা,
জীবন-পাটনী অন্ধ নিয়তি তাঁরেও করেনি ক্ষমা।
অনাদি কালের জীব-সংসারে জীবনের চিরছবি
ক্রৌঞ্চমিথুন ভাগ্যের সাথে জুড়েছেন মহাকবি।।
ঋণ স্বীকার ঃ
'রাম কাহিনী '_স্রষ্টা মহাকবি বাল্মীকি, 'রামায়ণ' কথক কৃত্তিবাস।
(কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলংকার) তাঁদের শ্রীচরণরেণু প্রত্যাশী।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১২. ০৩.২০২৩।
Bojhar jonno onek pora suna korte hobe ....tobe khub sundor laglo Bapi
উত্তরমুছুনজানা হয়ে গেল,দারুন
উত্তরমুছুন