না পাও যদি, ফিরবে না আর, এই তো শুধু হবে।
সবাই জানে রত্ন আছে অতল সাগর জলে,
হীরা মাণিক জ্বলে নাকি আঁধার খনির তলে।
অসীম নিঃসীম আকাশ পারে স্বর্গ রাজ্য আছে,
নন্দন বনে চিরবসন্ত উর্বশীরা নাচে।
পাতালে আবার শমন শ্মশান জীবন্ত বিভীষিকা,
পুড়ছে পাপী, পুড়ছে তাপী-- নরকাগ্নিশিখা।
ঝুলি ভরা পুণ্য নিয়ে সেখানে দাও পাড়ি,
শুদ্ধিলোকে শুদ্ধ হয়ে 'বিয়াত্রিসের' বাড়ি।
এমনি করে যতই তুমি গহন দেশে যাবে
ফিরবে কিনা ধন্ধ আছে ; তবুও কিছু পাবে।
কিন্তু যদি মানব-মনের জল মাপতে যাও
তল পাবে না, কূল পাবে না মেপে হাজার বাঁও।
সেথায় স্বর্গ, সেথায় নরক থাকেই পাশাপাশি,
অসহ বিষাদ, দুঃসহ দুখ, বিপুল হর্ষরাশি।
চিত্তে কোথাও প্রসন্ন আকাশ দীপ্ত চেতনা আলো,
কোথাও রাহুর মুখ-ব্যদানের অন্ধ রাতের কালো।
পাবে তুমি সেথা প্রেমসমীরণ, করুণা-পুষ্প সৌরভ ;
আবার হঠাৎ কালবৈশাখী রুদ্র রোষের তাণ্ডব।
মানুষের মন চিরদুর্গম তলাতলহারা ঠাঁই --
দেবতা দানব মিলে মিশে থাকে অথবা কিছুই নাই।
সহস্র যুগের অজস্র ডুবুরি ডুবেছে অন্বেষণে,
ব্যর্থ হয়েছে অথৈ গভীর ঠিকানার সন্ধানে।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৮-০৩-২০২৩।
(ক্রমশঃ)
খুব ভালো লেখা আপনার কলমের দাপট আছে
উত্তরমুছুনManer atal samudre r duburi apnar kalam...Anupam Bangalore
উত্তরমুছুন