গৌমুখ গঙ্গোত্রী হতে কলকল ছলছল
যেমন চঞ্চল তরঙ্গধারা অবিরল সমুদ্রের ডাকে
ধেয়ে আসে নিরবধি কাল। কোন্ স্বপ্ন দেখে',
কি ধন পাবার লোভে? নাকি তার সঞ্চিত যা কিছু,
নিত্য দিনের আহরণ, মাথা করে নিচু
সুবিপুল এই জনস্রোত অর্ঘ্য পাত্র পূর্ণ করে'
দিতে চায় বিসর্জন অনন্তের পায়ে যুগ যুগ ধরে' !
মানুষ মানুষ শুধু -- শ্রেণীহীন, জাতি-গোত্রহীন,
বর্ণহীন আবালবৃদ্ধ নরনারী, ধনবান, নির্ধন-দীন,
রাজ অট্টালিকা হতে ঝুপড়ির প্লাস্টিক বিলাসী,
এ যাত্রায় সকলের সম-অধিকার। স্বদেশী, প্রবাসী,
বিচিত্র বাস, ভিন্ন ভাষাভাষী। সুতীব্র শীতার্ত দেশ,
বহ্নিমান প্রাণোচ্ছ্বাসে সর্বত্যাগী সাধকের বেশ,
এক লক্ষ্যে ধেয়ে চলে সাগর সঙ্গমে মানব প্লাবন।
পথের নেশাই পাথেয় যে তার, পথই তার অশন বসন।
পুণ্য স্নান ? মোক্ষ, মুক্তি লাভ ? পাপের স্খালন ?
ধর্মার্থ কামনা ? তা নয়, তা নয়। এ পূর্ণ অবগাহন!
সম্মুখে দিগন্তহারা মহা পারাবার, গহন গভীর,
আকাশ চুম্বিত ঢেও অনিঃশেষ স্থির ও অস্থির--
'নীরবের' পাঞ্চজন্যে অন্তর্ভেদী অতল আহ্বান
ছুটে আসে ঢেও ভীষণ গর্জন, করে আলিঙ্গন।
ধুয়ে যায় জীবনের তুচ্ছতার মলিন কামনা,
ভেসে যায় না-পাওয়ার নিত্যকার হৃদয় বেদনা।
কিছুই হয়না চাওয়া, কি রত্ন চাওয়ার আছে
ডুবে রত্নাকরে ? নিমিত্তের সুখ ভিক্ষা অসীমের কাছে?
মহাসিন্ধুর পুন্য স্পর্শ, মনে হয়, প্রতি বিন্দু জলে,
অঙ্গে অঙ্গে শিহরণ, তরঙ্গের বিভঙ্গে কল্লোলে
অশ্রুত ধ্বনির নৃত্যছন্দ, অজানার রাগিনী-ঝঙ্কার,
রক্তস্রোতে জেগেছে জোয়ার, দুঃখ সুখ একাকার,
সঞ্চয় করেছি যত মিথ্যা মায়ায়, দুরাশার ছলে,
ক্ষয় হোক্ লয় হোক্, যাক্ ভেসে সর্বনাশা জলে।।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৩রা মাঘ, ১৯২৯ বঙ্গাব্দ।
ভাল লাগলো
উত্তরমুছুনSatti to ki pelum sagar snan e ? Punner asha apurno theke jai bole barbar barangbar chute jai sagar sangam e.
উত্তরমুছুনGanga sagar niea eto gavir anuvuti moi kabita ami agea pai ni...
Amar hrid majhe apnar ei sristi chiro saranio hoea thakbe...
--Anupam Mondal , RSB2 , Bangalore