আকাশের জ্যোতির্লোক হতে পৃথিবীর ধূলি,
অধীর তরঙ্গধারা, দৃশ্য বা অদৃশ্য বেগ, পিছু তার
তোমার আমার যাত্রা নিয়তি লিখন-- অনিবার্য।
হে জীবন, দু-দন্ড সময় তুমি পাবে কি কখনো ?
যদি পাও, শুনো না আলোর গান, বাতাসের তান,
পাখীর কলকণ্ঠধ্বনি, মল্লারের বিলম্বিত শ্রাবণ ধারার।
দেখো না ফুলের হাসি নবোদিত অরুণের সাথে,
শরতের কাশফুলে চন্দ্রিমা-চুম্বন নির্জন নদীর পাড়ে
শরমের মধুচন্দ্রিমায়, সোনার মেখলা-পরা দিনান্তের
সান্ধ্য মেঘবালা, সন্ধ্যা তারার টিপ পরে' নির্নিমেষ
থাক্ চেয়ে অন্ধকার দিগন্তের দুয়ারের ধারে।
কান পেতে রেখো কিন্তু চলমান পথে, পথের দুধারে,
দু'পার জুড়ে। সভ্যতার বর্জ্য দিয়ে গড়া ঝোপ
ঝোপ ঝুপড়ির সারি, নগ্নতার সৌন্দর্য অপার --
দেখে নিও।
দেখে নিও গর্ভ ছেঁড়া নদী -- তার নাড়ির লুন্ঠন,
শুনে নিও বুক-ভাঙা পাহাড়ের পাষাণ ক্রন্দন,
মৃত পলাশের বনে মৌটুসী মরে আছে মুধুহারা ঠোঁটে--
দৃষ্টি ফেলো সে পাখির উড়ানের স্বপ্নমরা নিষ্কম্প ডানায়।
দূরে কালো ধোঁয়া ? নয় সে আগ্নেয় গিরি !
পরিত্যক্ত কয়লা খাদান হতে নরকাগ্নিশিখা।
লুব্ধ সভ্যতা তার ভবিষ্যৎ চিতা জ্বালায়ে
রেখেছে নিজ হাতে। ধস নামে, ধংস হয়,
বিধ্বংসী প্লাবনে কিংবা বীভৎস দহনে।
আমাদেরই পাপ ভাসে স্থলে জলে আকাশে
বাতাসে। লালসার দাবানলে পুড়ে হয় খাক্
স্নেহ প্রেম দয়া মায়া। আদিম যা ছিল ---
সহজ সারল্যমাখা, নির্মল সুন্দর চরাচর,
"এ দ্যুলোক মধুময়, মধুময় পৃথিবীর ধূলি"--
আজ তার চিহ্ন কিছু নাই। গোধূলির ধূলিকণা
মারণ বীজানু নিয়ে আসে। নীলিমার নীল
হিংসাদীর্ণ হননের রক্তমেঘে ঢাকা। তবু জানি
বহতা কালের স্রোতে যাবে ভেসে এই দিন।
অতীতের অনুসৃতি বর্তমানও হয়ে যাবে লীন।
(বৃহদারণ্যক উপনিষদের মহাবাণী
"মধু বাতা ঋতায়তে মধুক্ষরন্তি সিন্ধবঃ
......"
রবীন্দ্রনাথ লিখছেন,
"এ দ্যুলোক মধুময়.....ধূলি।")
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
এই লেখার ভাষা এবং ভাব অসাধারন
উত্তরমুছুনJust awesome..no words to express
উত্তরমুছুন