(আমি নাস্তিক নই, কিন্তু একথা তো সত্য যে কাল্পনিক দেবতাদের পূজার অছিলায়, ছলনায় বা বৈভব প্রদর্শনের আত্মম্ভরিতায় যে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেখানে আর যাঁরাই থাকুন ঈশ্বর থাকেন না। এবং একই সময়ে অসমর্থ পিতামাতা, দারিদ্র্য লাঞ্ছিত আত্মীয় স্বজন অনাদৃত এবং উপেক্ষিতই থাকেন। এ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শুধু নয়, ব্যক্তি জীবনের পাপ।
আজকের এই ছন্দোবদ্ধ বাক্যগুলি বিগত জীবন কালের অনর্থক কর্মকাণ্ডের অনুশোচনার মন্থনসঞ্জাত ফসল।)
"তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলে থাকি"।
---রবীন্দ্রনাথ
গুরু পূর্ণিমা
"পিতা হি দেবতা লোকে জননী পরম গুরুঃ।"
"জীবনাচরণে আজো যা রয়েছে
সুন্দর, মধুময়।
সবই জনক জননীর দান
সদা যেন সাথে রয়।"
এ মহামন্ত্র শুনেছি তো বারবার,
তবুও দু-চোখে নেমেছে অন্ধকার।
উপেক্ষার ছলে, জীবন্ত দেবতা
দিয়েছি বিসর্জন,
আজ খুঁজে মরি, হাহাকার করি---
পাষাণে ভজন পূজন।
দেবতা দেউল ঘুরে ঘুরে দেখি,
তীর্থে তীর্থে ভ্রমি,
সিঁদুরের দাগ যেখানেই দেখি
মাথা ঠুকে ঠুকে নমি'।
হে প্রিয়জন, হে সখা-স্বজন,
পিতা মাতা যার আছে,
যত টুকু পার নিবেদন কর
রাখ বক্ষের কাছে।
যেদিন তাঁদের চরণ চিহ্ন
পড়বে না আর ঘরে ,
শালগ্রাম শিলা মাথায় ভেঙেও
অনুতাপে যাবে মরে।
আদেশ নয় এ, উপদেশও নয় --
জীবন মথিত সত্য,
দেবতা দানব সকলি মিথ্যা
'গোমুখ ধারাই' নিত্য।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৩/০৭/২০২২
শিলিগুড়ি
অত্যন্ত সুন্দর।কঠিন সত্য কে কবিতার ভাষায় কত স্নিগ্ধ ও সুন্দর রূপ দিয়েছেন।
উত্তরমুছুনখুব ভালো
উত্তরমুছুন